ফরিদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মুফতি রায়হান জামিলের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা সৃষ্টি, গেট-ব্যানার ও ফেস্টুন ভাঙচুরের প্রতিবাদে শনিবার (৮ নভেম্বর) সকাল ১১টায় বিশাল ঝাড়ু মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ চরভদ্রাসনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় শত শত নেতাকর্মী নিয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার পথ পদযাত্রা করেন তিনি।
মিছিলটি চরভদ্রাসন উপজেলার এমকে ডাঙ্গী মাদ্রাসা থেকে শুরু হয়ে উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে চরভদ্রাসন বাজার ব্রিজ এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা ও ভাঙচুরের ঘটনাগুলোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
মুফতি রায়হান জামিল অভিযোগ করে বলেন, “ফরিদপুর-৪ তথা চরভদ্রাসনের স্থানীয় প্রার্থী। অথচ তার গেট ও ব্যানার ভেঙে ফেলা হয়েছে। এ আসনে বাইরের অঞ্চল থেকে এসে কিছু প্রার্থী প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে। রায়হান জামিলের জনপ্রিয়তা দেখে ঈর্ষান্বিত একটি মহল পরিকল্পিতভাবে তার নির্বাচনী কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে।”
সম্প্রতি সদরপুর ও চরভদ্রাসনের বিভিন্ন স্থানে মুফতি রায়হান জামিলের সমর্থকদের তৈরি করা নির্বাচনী গেট ভেঙে ফেলা এবং ফেস্টুন-ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার ঘটনাও ঘটে।
প্রতিবাদ সমাবেশে শক্ত অবস্থান জানিয়ে মুফতি রায়হান জামিল বলেন, “আমি আমার বাপ-দাদা চৌদ্দ পুরুষ ধরে ফরিদপুর-৪ আসনের সন্তান। এই মাটি, এই মানুষই আমার শক্তি। আমি কোনো বাইরের প্রার্থী নই। আমি এখানকার সন্তান হিসেবে মানুষের ভালোবাসা ও বিশ্বাস নিয়েই নির্বাচনে নেমেছি। অথচ আমার গেট-ব্যানার ভেঙে আমার প্রচারণায় বাধা দেওয়া হচ্ছে। এটা শুধু আমার প্রতি নয়, ফরিদপুর-৪ আসনের মানুষের প্রতি অবমাননা। আমি প্রশাসনকে স্পষ্টভাবে বলতে চাই - এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ করুন, দোষীদের আইনের আওতায় আনুন। জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না ‘
তিনি বলেন, “আমি শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষের মানুষ। কিন্তু যদি আবারও আমার ব্যানার-ফেস্টুন বা গেট ভাঙচুর করা হয়, তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলব। এই ফরিদপুর-৪ আসনের মাটিতে অন্যায়ের জায়গা হবে না।”
১০ টাকায় ইলিশ মাছ ও ১ টাকায় গরুর মাংস বিক্রি করে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম ইতিমধ্যেই এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এলাকার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ইতিমধ্যেই ব্যাপক উৎসাহ ও আগ্রহ দেখা দিয়েছে। অনেকেই এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা জানিয়েছেন।
মুফতি রায়হান জামিল ১৯৯০ সালের ১০ জুন ফরিদপুর জেলার চরভদ্রাসনে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা খবির শেখের পরিবারের এই সন্তান শৈশব থেকেই ধর্মীয় শিক্ষা ও সমাজসেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। অল্প বয়সেই কোরআন হিফজ সম্পন্ন করার পর ঢাকার বিভিন্ন মাদরাসায় উচ্চতর ইসলামি শিক্ষা গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি শিক্ষকতা, ব্যবসা ও সমাজসেবার মাধ্যমে গণমানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।






মন্তব্য