ইউপি নির্বাচন ঘিরে যদুনন্দী ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থী যারা

  • আবু নাসের হুসাইন, সালথা প্রতিনিধি :
  • শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২০ ১০:৫২:০০

আগামী ২০২১ সালের মার্চ ও এপ্রিল মাসে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে অনেকের ধারণা। এই নির্বাচন ঘিরে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে পূর্ব থেকেই জোড় তৎপরতা শুরু করেছেন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। যদুনন্দী ইউনিয়নের সর্বত্রই এখন প্রার্থীদের পদচারণা শুরু হয়েছে। 
ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, ২০২১ সালের ইউপি নির্বাচন ঘিরে যদুনন্দী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য আঃ রব মোল্যা, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলমগীর হোসেন মিয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মোঃ নুরুজ্জামান টুকু ঠাকুর, বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আবুল খায়ের মুন্সী, আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ রফিক মোল্যা, উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি খোন্দকার শাহজাহান (সাজ্জাদ), আওয়ামী লীগ কর্মী সৈয়দ মাহমুদ সোহেল ও আব্দুল কাইয়ুম মোল্যার নাম শোনা যাচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যদি মনোনয়ন দেন তাহলে তারা দলের মনোনয়ন দাবী করেন। এছাড়াও দলীয় প্রতীকে ইউপি নির্বাচন হলে ইসলামী আন্দোলন থেকে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবেন ইউপি সদস্য হাফেজ ফিরোজ খান। এদিকে ২০২১ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকছে না বলে বিভিন্ন মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই প্রকাশ হয়েছে। 

আঃ রব মোল্যা জানান, তিনি ১৯৫১ ইং সালে যদুনন্দী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আঃ লতিফ মোল্যা ও মাতার নাম জহুরা বেগম। তিনি ১৯৭২ইং সাল থেকে আওয়ামী লীগের নিবেদীত একজন কর্মী হিসেবে রাজনীতি শুরু করেন। এরপর সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী হাতধরে তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠণিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ৩ বার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি যদুনন্দী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দলের জন্য কাজ করে আসছেন। এছাড়াও তিনি ফরিদপুর জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। 
নুরুজ্জামান টুকু ঠাকুর জানান, তিনি ১৯৪৩ ইং সালে যদুনন্দী ইউনিয়নের খারদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম গোলাম রসুল ঠাকুর ও মাতার নাম নুরুন্নাহার বেগম। তিনি ১৯৬৮ ইং সালে আলফাডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস.এস.সি পাশ করেন। ১৯৭০ ইং সালে আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে তিনি রাজনীতি শুরু করেন। ১৯৮৬ ইং সালে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর হাতধরে নগরকান্দা থানা আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে নগরকান্দা থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে কাজ করে আসছেন। 

আলমগীর হোসেন মিয়া জানান, তিনি ১৯৬৮ ইং সালে যদুনন্দী ইউনিয়নের খারদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম জয়নাল আবেদীন মিয়া ও মাতার নাম জাহানারা বেগম। তিনি ১৯৮৪ ইং সালে মুকসুদপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস.এস.সি পাশ করেন। ১৯৮৬ ইং সালে নগরকান্দা মহাবিদ্যালয় থেকে এইচ.এস.সি পাশ করেন। তৎকালীন সময় তিনি নগরকান্দা মহাবিদ্যালয় ছাত্রলীগ শাখার এজিএস ছিলেন। দীর্ঘদিন তিনি নগরকান্দা থানা যুবলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। পূর্বে একবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দীতা করেছেন। বর্তমানে তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দলের জন্য কাজ করে আসছেন। 

আবুল খায়ের মুন্সী জানান, তিনি ১৯৬২ ইং সালে খারদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম দলিল উদ্দিন মুন্সী ও মাতার নাম কোহিনুর বেগম। তিনি ১৯৭৬ ইং সালে খারদিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস.এস.সি পাশ করেন। ১৯৮১ ইং সালে বোয়ালমারী কলেজ থেকে এইচ.এস.সি পাশ করেন। ১৯৭৯ ইং সালে বোয়ালমারী কলেজ ছাত্রলীগের মোশারফ-জাফর পরিষদে নাট্য ও প্রমোদ বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন। এর অনেক পরে তিনি বিএনপি করেন। ২০১৬ ইং সালে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পরেই সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ও তার পরিবারের সাথে আওয়ামী লীগে পূর্ণরায় যোগদান করেন। 
রফিক মোল্যা জানান, তিনি ১৯৭১ ইং সালে খারদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মেছের মোল্যা ও মাতার নাম জাকিরন নেছা। তিনি আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান। যদুনন্দী ইউনিয়নের সাবেক ২নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। এরপর তিনি কয়েক বছর দেশের বাইরে ছিলেন। বর্তমানে তিনি এলাকায় মানুষের সেবা করার চেষ্টা করেন। 
খোন্দকার সাজ্জাদ জানান, তিনি ১৯৮২ ইং সালে যদুনন্দী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম বীর মুক্তিযোদ্ধা খোন্দকার সামচুল হক ও মাতার নাম জাহানারা পারভিন। তিনি ১৯৯৭ ইং সালে ঢাকা পোস্তগোলা ভাষা প্রদীপ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস.এস.সি পাশ করেন।  ২০০০/২০০৩ ইং সালে নবকাম পল্লী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে এইচ.এস.সি ও ডিগ্রি পাশ করেন। ২০০৫ ইং সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রিলিমিনারী সমাজকর্ম এর উপর মাষ্টার্স সম্পন্ন করেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ভিপি রিপন এর কর্মী হিসেবে রাজনীতি শুরু করেন। একবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে অংশগ্রহণ করেছেন। বর্তমানে তিনি সালথা উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন এবং ফরিদপুর যুব সমিতির সদস্য হিসেবে রয়েছেন। 

সৈয়দ মাহমুদ সোহেল জানান, তিনি ১৯৮৮ইং সালে খারদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম সৈয়দ আলমগীর হোসেন ও মাতার নাম রেখা বেগম। তিনি ২০০৪ ইং সালে খারদিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস.এস.সি পাশ করেন। ২০০৬ ইং সালে সালথা কলেজ থেকে এইচ.এস.সি পাশ করেন। ২০১৩-১৫ ইং সালে ঢাকা কলেজ থেকে বিএ ও এমএসসি পাশ করেন। বর্তমানে তিনি সালথা উপজেলা বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষনা পরিষদের সাংগঠণিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। 
আব্দুল কাইয়ুম জানান, তিনি ১৯৯২ ইং সালে যদুনন্দী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আব্দুল হক মোল্যা ও মাতার নাম জাহানারা বেগম। তিনি ২০০৭ ইং সালে কৃষ্ণাদিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাশ করেন। ২০০৯ ইং সালে ঢাকা কলেজ থেকে এইচ.এস.সি ও ২০১৪ ইং সালে স্টাম্প ফোর্ট ইউনিভার্সিটি থেকে বিবিএ পাশ করেন। ঢাকা কলেজে লেখা-পড়ায় সময় তিনি ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে রাজনীতি শুরু করেন। তার পরিবারের সদস্যরা আওয়ামী লীগের ত্যাগী কর্মী। 
উল্লেখিত প্রাথীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন যদি দলীয় হয় তাহলে তারা আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক চাইবেন। আর সে ক্ষেত্রে দল যাকে মনোনয়ন দিবেন তার জন্য কাজ করবেন বলে পৃথক পৃথকভাবে জানান সম্ভাব্য প্রার্থীরা। 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

মন্তব্য