অনলাইনে টিআইএন সার্টিফিকেট বাতিল করবেন যেভাবে

  • অনলাইন
  • বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬ ০১:১০:০০
  • কপি লিঙ্ক

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, ভিসার আবেদন, ব্যবসা কিংবা বিভিন্ন দাপ্তরিক প্রয়োজনে অনেকেই ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) বা টিআইএন সার্টিফিকেট নিয়ে থাকেন। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজন না থাকলেও অনেকের টিআইএন সক্রিয় থেকে যায়। এতে আয়কর রিটার্ন দাখিলসহ বিভিন্ন বিষয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

তবে শুধু টিআইএন ব্যবহার না করার কারণে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না। নির্দিষ্ট কারণ ও প্রযোজ্য শর্ত পূরণ সাপেক্ষে টিআইএন বাতিলের জন্য আবেদন করা যায়।

যেসব কারণে টিআইএন বাতিলের আবেদন করা যায়

ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলে: কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবে ব্যবসা বন্ধ করলে সংশ্লিষ্ট টিআইএন বাতিলের আবেদন করা যেতে পারে।

ভুল করে একাধিক টিআইএন হলে: একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে একাধিক টিআইএন তৈরি হলে প্রয়োজনীয় একটি রেখে অন্যটি বাতিলের আবেদন করা যায়।

টিআইএন আর প্রয়োজন না হলে: নির্দিষ্ট কোনো কাজের জন্য টিআইএন নেওয়ার পর পরবর্তী সময়ে এর আর প্রয়োজন না থাকলে প্রযোজ্য শর্ত পূরণ সাপেক্ষে বাতিলের আবেদন করা যেতে পারে।

করযোগ্য আয় না থাকলে: আয় কমে গিয়ে করযোগ্য সীমার বাইরে চলে গেলে এবং টিআইএন রাখার প্রয়োজন না থাকলে নির্দিষ্ট শর্তে বাতিলের আবেদন করা যায়।

বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি: দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থান এবং বাংলাদেশে করযোগ্য আয় না থাকার মতো পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য শর্ত অনুযায়ী টিআইএন বাতিলের আবেদন করা যেতে পারে।

করদাতার মৃত্যু হলে: কোনো করদাতা মারা গেলে উত্তরাধিকারীরা প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তার টিআইএন বাতিলের আবেদন করতে পারেন। তবে মৃত ব্যক্তির নামে ব্যবসা বা অন্য কোনো কার্যক্রম থাকলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যাচাই করা জরুরি।

অনলাইনে টিআইএন বাতিলের আবেদন করবেন যেভাবে

টিআইএন বাতিলের প্রক্রিয়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। অনলাইনে আবেদন করার ক্ষেত্রে সাধারণভাবে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হয়—

১. প্রথমে এনবিআরের অনলাইন টিআইএন সেবায় প্রবেশ করুন।

২. নিজের ই-টিআইএন অ্যাকাউন্টে লগইন করুন।

৩. টিআইএন বাতিলের আবেদনসংক্রান্ত অপশন নির্বাচন করুন।

৪. নির্ধারিত ফরমে টিআইএন নম্বর, ব্যক্তিগত বা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় তথ্য এবং বাতিলের কারণ উল্লেখ করুন।

৫. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করে আবেদন জমা দিন।

৬. আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে। আবেদন অনুমোদিত হলে টিআইএন বাতিলের বিষয়টি জানানো হবে এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বাতিলের সনদ দেওয়া হবে।

অনলাইনে আবেদন করতে না পারলে

অনলাইনে আবেদন করতে সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট কর অফিসে যোগাযোগ করে টিআইএন বাতিলের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে টিআইএন নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং বাতিলের কারণের সমর্থনে প্রাসঙ্গিক নথি জমা দিতে হতে পারে।

ব্যবসা বন্ধের কারণে টিআইএন বাতিলের আবেদন করলে ব্যবসা বন্ধসংক্রান্ত প্রমাণপত্র প্রয়োজন হতে পারে। একইভাবে, কর কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন অনুযায়ী আগের আয়কর রিটার্ন বা অন্যান্য নথিও চাইতে পারে।

টিআইএন বাতিলের পর কী হবে?

আবেদন অনুমোদিত হলে টিআইএন বাতিল করা হবে এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বাতিলের সনদ দেওয়া হবে। এরপর বাতিল হওয়া টিআইএন দিয়ে আয়করসংক্রান্ত কোনো কাজ করা যাবে না।

তবে টিআইএন বাতিলের আগে বিষয়টি ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি। কারণ ভবিষ্যতে আবার টিআইএনের প্রয়োজন হলে নতুন করে টিআইএনের জন্য আবেদন করতে হতে পারে।

তাই শুধু রিটার্ন দাখিলের ঝামেলা এড়াতে তাড়াহুড়ো করে টিআইএন বাতিল না করে নিজের বর্তমান আয়, সম্পদ, ব্যবসা ও ভবিষ্যতের প্রয়োজন বিবেচনা করা উচিত। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর অফিস বা কর বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

Bzamin24 News | সত্যের সন্ধানে সারাক্ষণ

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

মন্তব্য