ফরিদপুরে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে জমির দখল বুঝিয়ে দিলেন আদালত 

  • ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:০৯:০০
  • কপি লিঙ্ক

ফরিদপুরে ব্যাংকের ঋণ ও নিলামের তথ্য গোপন করে আদালতের মাধ্যমে দখলে নেওয়া জমি দীর্ঘ ১১ মাস পর পুনরায় নিলাম ক্রেতাদের বুঝিয়ে দিয়েছে আদালত। এ সময় জমির সীমানা নির্ধারণে বাঁশে লাল কাপড় টানিয়ে দেওয়া হয় এবং ঢাক-ঢোল পিটিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে ফরিদপুর শহরের রঘুনন্দনপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জমির নিলাম ক্রেতা রুবেল হোসেন দুলাল ও দীপক আঢ্যকে আদালতের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

জানা যায়, ২০২১ সালে ফরিদপুরের দি প্রিমিয়ার ব্যাংকের নিলাম থেকে জেলা সদরের ডিক্রিরচর ইউনিয়নের বাসিন্দা রুবেল হোসেন দুলাল ৬৯ দশমিক ৫ শতক জমি ক্রয় করেন। জমিটি ফরিদপুর পৌরসভার ১২৮ নম্বর রঘুনন্দনপুর মৌজায় অবস্থিত। একই মালিকানাধীন নীলটুলি এলাকার পাঁচ শতাংশ জমিও প্রিমিয়ার ব্যাংকের নিলামে ওঠে। পরে নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জমিটি ক্রয় করেন নাঈমুর রহমান। পরবর্তীতে তাঁর কাছ থেকে জমিটি ক্রয় করেন দীপক আঢ্য।

নিলামের পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিলাম ক্রেতাদের জমির দখল বুঝিয়ে দেন।

জানা গেছে, ওই জমির বিপরীতে ব্যাংক ঋণের মর্গেজদাতা ছিলেন আরিফুর রহিম গং। পরবর্তীতে তাঁদের পক্ষ থেকে ব্যাংকের ঋণ ও নিলামের তথ্য গোপন করে আদালতে মামলা করা হয়। ওই মামলার প্রেক্ষিতে প্রায় ১১ মাস আগে তাঁদের এক পক্ষকে জমিটির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

এরপর রুবেল হোসেন দুলাল ও দীপক আঢ্য আদালতের দ্বারস্থ হন। তাঁদের আবেদনের পর তদন্ত করে গত ২৩ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর সদর আদালতের সিভিল জজ মো. সালাউদ্দিন নিলাম ক্রেতাদের জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়ার আদেশ দেন। একই সঙ্গে আদেশটি ১৫ দিনের মধ্যে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়।

রোববার আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা জজ আদালতের নাজির এ কে এম রফিক উদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে জমির দখল বুঝিয়ে দেন।

রুবেল হোসেন দুলাল বলেন, “২০২১ সালে দি প্রিমিয়ার ব্যাংক নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলে আমি তাতে অংশ নিই। নয়জনের মধ্যে আমি নিলামে জয়ী হই। পরে জমির মর্গেজদাতা আরিফুর রহমান গংয়ের চার ভাই বাদী-বিবাদী সেজে আদালতে মামলা করেন। ব্যাংকের ঋণ ও নিলামের তথ্য গোপন করে তাঁরা জমির দখল নেন। আমি আদালতে আবেদন করার পর বিষয়টি প্রমাণ করতে সক্ষম হই। অবশেষে আজ আদালতের মাধ্যমে জমি বুঝে পেয়েছি। আমি ন্যায়বিচার পেয়েছি।”

সরেজমিনে দেখা যায়, জমিটি বর্তমানে জলাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। জমির এক পাশে পাকা সড়ক রয়েছে। ওই সড়কের পাশে লোকজনের উপস্থিতিতে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়। একপর্যায়ে বাঁশে লাল কাপড় টানিয়ে জমির সীমানা নির্ধারণ করা হয়। পরে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে জমির দখল নিলাম ক্রেতাদের বুঝিয়ে দেন জেলা জজ আদালতের নাজির এ কে এম রফিক উদ্দিন।

অন্যদিকে দীপক আঢ্য বলেন, নীলটুলিতে অবস্থিত পাঁচ শতাংশ জমিটি যখন দি প্রিমিয়ার ব্যাংকের নিলামে ওঠে, তখন নাঈমুর রহমান নামে এক ব্যক্তি তা ক্রয় করেন। পরে তিনি নাঈমুর রহমানের কাছ থেকে জমিটি ক্রয় করেন এবং আদালতের মাধ্যমে ভোগদখলেও ছিলেন। কিন্তু জমির পূর্বের মালিক মামলা করে তাঁদের হয়রানি করেন এবং একপর্যায়ে জমির দখল নিয়ে কিছু স্থাপনাও ভেঙে ফেলেন। পরে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হলে দীর্ঘ ১১ মাস পর আদালতের মাধ্যমে জমিটি পুনরায় বুঝে পান।

জেলা জজ আদালতের নাজির এ কে এম রফিক উদ্দিন বলেন, নিলাম ক্রেতা ও প্রকৃত মালিকদের দখলনামা দেওয়ার পর আদালত তদন্ত করে বিষয়টির সত্যতা পায়। পরবর্তীতে সদর আদালতের সিভিল জজ তাঁকে ১৫ দিনের মধ্যে আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

মন্তব্য