নাচ দেখে শিশুকে গণধর্ষণের পর হত্যা!

  • অনলাইন
  • সোমবার, ০৬ জুন ২০২২ ০৯:০৬:০০
  • কপি লিঙ্ক

ছোটবেলা থেকেই নাচ শেখার ইচ্ছা ছিল দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী তিশা আক্তারের (৯)। তার বাবা-মার সঙ্গে গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে থাকাকালে দুই বছর আগে নাচ শিখে। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তার নাচ দেখে বাড়ির আশপাশের বখাটেদের নজরে আসে।

একপর্যায়ে তিশাকে বাড়িতে একা পেয়ে কয়েকজন বখাটে পালাক্রমে ধর্ষণ করে তাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে। বাড়িতে গিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় মেয়েকে দেখে মায়ের আর্তচিৎকার আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। পরে হাসপাতালে নিলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ময়নাতদন্তে ধর্ষণের আলামত মিললে থানায় মামলা করা হয়। গণধর্ষণের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

বিষয়টি পিবিআই পুলিশ সুপার সিরাজ আমিন নিশ্চিত করেছেন।

তিশা আক্তার টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের মো. আবু ভূঁইয়ার মেয়ে।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- ভাটপাড়া গ্রামের স্বপন মণ্ডলের ছেলে গোবিন্দ মণ্ডল (১৯), আনন্দ মণ্ডলের ছেলে চঞ্চল চন্দ্র মণ্ডল (১৭) ও লালিত সরকারের ছেলে বিজয় সরকার (১৬)।

পুলিশ সুপার সিরাজ আমিন জানান, তিশা আক্তারের নাচ দেখে তার বাড়ির পাশের গোবিন্দ মণ্ডল, চঞ্চল চন্দ্র মণ্ডল ও বিজয় সরকার আকৃষ্ট হয়। পরে তিশাকে বিভিন্ন সময় নানা কায়দায় উত্ত্যক্ত করত। দুই মাস আগে তিশা তার মা সম্পা বেগমের কাছে বিষয়টি খুলে বলে। কিন্তু আসামিরা বখাটে ও প্রভাবশালী হওয়ায় সম্পা তাদের তেমন কিছু বলেননি। তারা তিশার মায়ের গতিবিধি অনুসরণ করতো। আসামিরা জানতে পারে তিশাকে বাড়িতে একা রেখে তার মা তার ছেলে শুভর স্কুল ছুটির পর তাকে এগিয়ে আনতে যায়।

পুলিশ সুপার জানান, গত ২৬ মে সকালে শুভকে নিতে তার মা পার্শ্ববর্তী শহীদ ক্যাডেট একাডেমিতে গেলে আসামিরা তিশার ঘরে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তার মায়ের ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে। তার মা বাড়িতে এসে তিশাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। স্থানীয় তাকে উদ্ধার করে বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।

পুলিশ সুপার আরও জানান, তার বহনকৃত অ্যাম্বুলেন্স গাজীপুর পর্যন্ত গিয়ে নষ্ট হলে তাকে সাভার এনাম মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৯ মে তিশার মৃত্যু হয়। ওই দিনই বাসাইল থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলায় লাশটির ময়নাতদন্ত করা হয়। ৪ জুন ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়। ওই দিনই তিশার বাবা আবু ভূঁইয়া বাদী হয়ে বাসাইল থানায় ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি পিবিআই তদন্তের জন্য গ্রহণ করে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক খন্দকার আশরাফুল কবির তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামিদের গ্রেফতার করে।

পুলিশ সুপার সিরাজ আমিন বলেন, আসামিরা নিজের দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। জবানবন্দি না দিলে তদন্তের স্বার্থে আদালতের রিমান্ড আবেদন করা হবে।

তিশার মা সম্পা বেগম বলেন, আমার মেয়েকে যারা অমানবিকভাবে হত্যা করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হিসেবে ফাঁসি দাবি করছি; যাতে পরবর্তীতে আর কোনো মায়ের কোল এভাবে খালি না হয়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

মন্তব্য