সপ্তাহে অফিস করেন ২ দিন, তাও দেড় ঘন্টার বেশি নয়

সদরপুরে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সরকারি গাছ অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২০ ০৬:১৩:০০
  • কপি লিঙ্ক

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার কারিরহাঁটে অবস্থিত ভাষানচর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র চলছে কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মো. জাহাঙ্গীর আলমের ইচ্ছেমত। অভিযোগ রয়েছে অফিস করেন নিজ ইচ্ছেমত, সপ্তাহে ২ দিন অফিস করেন তাও দেড় দুই ঘন্টার বেশি নয়। সেবার বদলে জনসাধারণ রোগীরা পাচ্ছেন বাজে ব্যবহার। আরও অভিযোগ রয়েছে হাসপাতালের গাছ কেটে অবৈধভাবে বিক্রি করারও।

এলাকাবাসীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘ ১৫/১৬ বছর যাবত ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিজ ইচ্ছাধীন ভাবে পরিচালনা করছেন। দীর্ঘ দিন একই স্টেশনে থাকায় কাজ করেন নিজের ইচ্ছেমত। তার বিরুদ্ধে তিন দফা বৈধভাবে সরকারি গাছ কেটে বিক্রি করা সহ নারীদের সঙ্গে অসামাজিক আচরণ করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সম্প্রতি স্থানীয়রা গাছ কেটে বিক্রি ও রোগীদের সাথে বাজে ব্যবহারের একটি অভিযোগ ফরিদপুর জেলা প্রশাসক সহ সংশ্লিষ্ট্র কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করেছেন। 

জানা যায়, ফরিদপুর সদরের আলীপুরে বাড়ি হওয়ার সুবাদে তিনি অতিরিক্ত প্রভাব খাঁটিয়ে চলেন। তার অনিয়মের বিষয় কেউ কখনও কথা বললে তাকে ফরিদপুরে গেলে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। এভাবেই চলছে সেবার বিপরীতে সাধারণ জনগন পাচ্ছে হুমকি-ধমকি।

অভিযোগ রয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত সপ্তাহের ৬ দিন নিয়মিত ভাবে জনসাধারনের স্বাস্থ্য সেবা দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি তা করেন না। তিনি রোগী দেখেন হাটকৃষ্ণপুর বাজারে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, জাহাঙ্গীর আলম সপ্তাহে ২ দিন অফিস করেন তাও দেড় ঘন্টার বেশি সময় থাকেন না। রোগিদের সাথে খুব খারাব আচারণ করেন। তবে অল্প বয়সের মেয়েরা সেবা নিতে ক্লিনিকে গেলে তাদের সাথে গল্পগুজব করে যৌন হেনস্তা মূলক কথাবার্তা বলেন। 

আরও জানা যায়, অনিয়মের প্রতিবাদ করে ছিল এক ব্যাক্তি। তার ছেলে হাসপাতালে ওষুধ আনতে গেলে তার করোনা আছে বলে প্রশাসনকে জানিয়ে দেয়। পরে পুলিশ এসে তাদের নিয়ে যায় এবং সদরপুর হাসপাতালে গেলে চিকিৎসকরা বলেন না এই ধরনের কোন বিষয় নেই। মূলত হেনস্তা করার জন্য এই কাজ করেছে বলে জানান ওই পরিবার। 

এতে করে ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা দরিদ্র রুগীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের দাবি জাহাঙ্গীর আলমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি সহ এই স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে তাকে অতি দ্রুত বদলি করা হক।

অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলমের কাছে আমাদের সংবাদকর্মীকে একাধিবার পাঠানো হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে আমাদের প্রতিবেদক তাকে মোবাইলে কল করলেও তিনি এ বিষয় কোন কথা বলেননি।

এ ব্যাপারে টিএফপিও অনাদিরঞ্জন বলেন, আমি গিয়ে ছিলাম ওইখানে ভিজিটে দেখলাম কয়েকটা বাবলা গাছ কাটা, মেহেগুনি ও কাঁঠাল গাছের ডাল কাটা। যারা সরকারি চাকরিজীবি তারা এই কাজ করে না এইটা বাজে কাজ। 

তিনি আরও বলেন, সে অনায় করছে, গাছ কেটে বিক্রি করেছে। এই বিষয় আমি কর্তৃপক্ষকে লিখব। তবে অভিযোগের বিষয়টি শুনেছি আমার কাছে কেউ অভিযোগপত্র জমা দেয়নি। 


বাংলাদেশ জমিন/ সংবাদটি শেয়ার করুন

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

মন্তব্য