ঝিনাইদহের শৈলকুপায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে মোহন শেখ (৬৫) নামে এক কর্মী নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার পাশাপাশি বেশ কিছু বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ৯ নম্বর মনোহরপুর ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে এই সহিংসতা ঘটে। নিহত মোহন শেখ ওই গ্রামের মোতালেব শেখের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বজায় রাখা নিয়ে আবু জাহিদ জোয়ার্দ্দার ও আবুল বাশার তরিকুল সাদাতের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বুধবার সন্ধ্যায় জাহিদ জোয়ার্দ্দারের এক সমর্থককে মারধর করেন প্রতিপক্ষের লোকজন। এই ঘটনার জের ধরে বৃহস্পতিবার সকালে রাস্তায় একা পেয়ে মোহন শেখের ওপর হামলা চালায় প্রতিপক্ষ। তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
খবরটি জানাজানি হওয়ার পর উভয় পক্ষের সমর্থকেরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়া গ্রামে এ সময় অন্তত ১০টি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়। আহত ২০ জনের মধ্যে আব্বাস শেখ নামে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ফরিদপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। বাকিরা ঝিনাইদহ ও শৈলকুপার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এই হত্যাকাণ্ড ও সংঘর্ষের সূত্রপাত। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং পরবর্তী সহিংসতা রোধে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।






মন্তব্য