মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার বাজিতপুর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে পুলিশের এক এএসআইসহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে।
সংঘর্ষের ঘটনায় রবিবার রাজৈর থানায় অজ্ঞাত ৯০০ জনকে আসামী করে একটি মামলা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত প্রায় ছয় ঘন্টাব্যাপি উপজেলার বাজিতপুর ইউনিয়নের মাচ্চর বাজিতপুর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের রাজৈর, মাদারীপুর সদর ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৭ রাউন্ড শর্টগানের ফাঁকা গুলি বর্ষণ করেছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, পূর্ব শত্রুতা ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রাজৈর উপজেলার বাজিতপুর ইউনিয়নের মাচ্চর বাজিতপুর গ্রামের বিবাদমান দুটি পক্ষ শুক্রবার জুম্মা নামাজের পর ওবায়দুর রহমান সান্টু খালাশী ও গাউস শেখের মধ্যে পর কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এক পর্যায় গাউস শেখকে মসজিদ থেকে বের মারধর করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার সন্ধ্যা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এসময় বিবাদমান দুই পক্ষের সাথে এলাকার আরো কয়েকটি বংশের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় ছয় ঘন্টাব্যাপি সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের এএসআই এনায়েত হোসেন, কনষ্টেবল আবুল খায়ের, বিপ্লব হোসেন, আবু সবুরসহ কমপক্ষে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে।
মারাত্মক আহত মোতালেব খালাশী (৬৫), আবু খালাশী (৫৫), আরিফ বয়াতী (২৫), হবি খালাশী (৫৫), মতিউর খালাশী (৪৫), শামীম হোসেন (২৫), সজল খালাশী (২০), জাহাঙ্গীর বয়াতী (৪০), বিল্লাল খালাশী (৬০), শহিদ তালুকদার (২১), ইব্রাহিম খান (৩০), জাহিদ খান (২১), গাফফার খান (৪০), সামাদ খান (৩০), রিপন খান (২৮), নান্নু খালাশী (৩৫), অনিক খান (২০), শাহাদাত খানকে (৩২) রাজৈর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে তিন জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৭ রাউন্ড শর্টগানের ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে।
এব্যাপারে রাজৈর থানার ওসি শেখ সাদি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৭ রাউন্ড শর্টগানের ফাঁকা গুলি বর্ষণ করা হয়েছে। সংঘর্ষের সময়ে একজন এএসআইসহ ৪ পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছে। পুলিশ বাদী হয়ে এব্যাপারে ৮৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৯০০ জনকে আসামী করে পুলিশ এসোল্ট এর মামলা দায়ের করা হয়েছে।




.jpg)

মন্তব্য