সন্তানের উদ্দেশ্যে মায়ের আবেগঘন স্ট্যাটাস 

  • কামাল হোসেন:
  • মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২০ ১১:৪৮:০০

বিশ্ব জুড়েই চলছে প্রানঘাতী  করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব। এই ভাইরাস প্রতিরোধে প্রথম সারির যোদ্ধা হিসেবে রয়েছে ডাক্তার, নার্স,পুলিশ, সাংবাদিক ও মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মীরা। সরকারি ছুটি বাতিল হওয়ায় এদের বেশির ভাগি পারেননি  স্বজনদের সাথে ঈদ করতে। এ নিয়ে রয়েছে প্রত্যেকের মাঝে চাপা কষ্ট আর বেদনা। তবুও তারা থেমে নেই দেশের এই দুর্যোগ মূহুর্তে। সাধ্য মত করে যাচ্ছে মানব সেবা। ঠিক এমনি এক সম্মুখ যোদ্ধার নাম রৌশন নজরুল। 

পেশায় সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শিকা। দায়িত্বরত রয়েছেন গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুইটি ইউনিয়নের। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ঈদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে । তাই এবার ঈদে যাওয়া হয়নি স্বজনদের কাছে। ঢাকার মিরপুরে রয়েছে পরিবার। সেখানে রয়েছে একমাত্র সন্তান আর স্বামী। পরিবার ছাড়া এই প্রথম বারের মত ভিন্ন রকম এক ঈদ অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন তিনি। অপর দিকে মাকে ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলেও পালন করেছে নির্মম এক ঈদ অভিজ্ঞতা। বিশেষ করে সন্তানের কথা চিন্তা করেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে  আবেগাপ্লুত হয়ে স্টাটাস দিয়েছে এই মা! স্ট্যাটাসটি পাঠকের উদ্দেশ্যে হুবহু তুলে ধরা হল-

জানি আমার উপর একরাশ অভিমান পুঞ্জীভূত হয়ে আছে তোমার মনে । ঈদের দিনে মাকে কাছে না পাওয়ায় অভিমান ! আব্বু তুমি তো জানো, এখন সময়টা দুঃসময়। যেই সময় শুধু শেখাই না,কষ্ট দিয়ে পরিস্থিতি বদলায়। সময়ের সাথে বদলে যায় অনেক কিছু । না পাওয়ার ব্যাথা মনকে শুধু জ্বালায়। আর তাই কষ্ট যে আমিও পাইনি তাও নয়। এই বৈরী সময়ে মা-সন্তানের আনন্দের মাঝে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে অদৃশ্য এক শক্তি। যে শক্তির কাছে আমরা পরাস্ত! কী করব বলো? তবে ত্যাগের মাঝেই যে পরিপূর্ণ পূর্ণতা। 

তোমার চেয়ে আমায় আর কে বেশি বোঝে বলো? হয়তো সুসময় খুব বেশি দূরে নয়।আল্লাহর উপর বিশ্বাস রেখো।যদি আল্লাহ চান খুব শীঘ্রই আসব তোমার কাছে। ততদিন একটু ধৈর্য্য ধরো, প্রার্থনা করো আমি যেন আমার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারি। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে মানুষের পাশে থাকতে পারি। আর আমি প্রার্থনা করি, তুমি একদিন আমার আদর্শে বড় হবে। শুধু বড় বড় ডিগ্রীধারী বা সার্টিফিকেটের ওজন ভারী নয়। হবে মানুষের মত মানুষ এবং উদার মনের । শিখো মানুষকে কিভাবে ভালোবাসতে হয় । কিভাবে তাদের পাশে থাকতে দাড়াতে হয়। ভালো থেকো আমার নাড়ী ছেড়া ধন।

এব্যাপারে জানতে চাইলে সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শিকা রৌশন নজরুল আবেগ জনিত কণ্ঠে বলেন, মহামারির এই সময়ে সম্মুখ যোদ্ধা হয়ে নিজেদেরকে দেশের সেবার নিয়োজিত রেখেছি। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী জীবনের ঝুকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। তবে আমাদেরও পরিবার আছে। পরিবারের জন্য আমাদেরও মন কাঁদে। অন্যদিকে পরিবারের সদস্যরাও আমাদের নিয়ে প্রতিটি মুহুর্তেই দুশ্চিন্তায় থাকে। তিনি আরও বলেন, আমরাও রক্তে মাংসে মানুষ। এই প্রথম বারের মত পরিবার ছাড়া কর্মস্থলে ঈদ পালন করলাম। তাই মন খারাপ হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এখন আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে দেশ এবং দেশের মানুষ সেবা করা। আর যতক্ষন সুস্থ আছি ঠিক ততক্ষন সততা আর নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাবো ইনশাআল্লাহ।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

মন্তব্য