ত্রাণ নামে শুধু ফটো সেশন না, কেউ কেউ ভাল কাজ করেন

  • শফিকুল ইসলাম শামীম:
  • শনিবার, ০২ মে ২০২০ ১০:৪৬:০০

১৯৭১ সালে যুদ্ধ। যুদ্ধ দেখার দুভাগ্য হয়নি। তবে যুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে অনেক বই পড়েছি। মানুষ রুপী জানোয়ারদের ইতিহাস জেনেছি। অনেক জানোয়ার দেশপ্রেমের লেবাস পরে দেশ শাসন করতে দেখেছি। অনেক জানোয়ারের ধবংস হতে দেখেছি। অনেক জানোয়ার এবং তাদের প্রেতআত্মা এখনও দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ঘাপটি মেরে বসে রয়েছে।

যারা এখনও ১৯৭১ সালের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে চায়। এদের খুঁজে বের করা দেশের নাগরিকদের নৈতিক দায়িত্ব। সেই জানোয়ারদের খুঁজে বের করার সুযোগ একাধিকবার এসেছে। আবারও এসেছে। কারণ দেশের ক্রান্তিকালে জানোয়ারদের খুঁজে পাওয়া সহজ।  

১৯৭১ সালের যুদ্ধে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের ডাকে সারা দিয়েছে বাংলার দামাল ছেলেরা। হাতে অস্ত্র তুলে নিয়ে শত্রুদের সাথে যুদ্ধ করেছে। অকালে জীবন দিয়েছে ৩০ লাখ মানুষ। ২ লাখ মা-বোনের ইজ্জতহানি হয়েছে। বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা। বিশ্বের বুকে পেয়েছি লাল সবুজের একটি পতাকা।  

আজ সারাবিশ্বের মত বাংলাদেশেও করোনা ভাইরাস আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থবির হয়ে পড়েছে দেশ। করোনার সাথে যুদ্ধ করার জন্য সকল প্রকার চলমান কাজকর্ম রেখে ঘরের চার দেয়ালের মাঝে সময় কাঁটাতে হচ্ছে মানুষের। দেশের এই ক্রান্তিকালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের কন্যা রাষ্ট্র ক্ষমতায় রয়েছেন। করোনা যুদ্ধ মোকাবিলা করার জন্যে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তিনি। দিনের পর দিন ঘরে বসে রয়েছে সকল মানুষ। দেশের একটি মানুষও যেন না খেয়ে মারা যায় সেজন্যে ব্যবস্থাও করেছেন। 

শেখ হাসিনার নির্দেশে আওয়ামী লীগ সহ সহযোগি সংগঠনের অনেক নেতা অসহায় মানুষের ত্রাণ দেওয়ার জন্যে প্রতিযোগিতা শুরু করেছেন। সংসদ সদস্য গণ নেত্রীর প্রিয় ভাজন হওয়ার জন্যে ত্রাণের প্যাকেট নিয়ে অসহায় মানুষের ঘরের দড়জায় হাজির হচ্ছেন। অনেক সামাজিক সংগঠনও ত্রাণ নিয়ে হাজির হচ্ছে মানুষের কাছে। সোসাল মিডিয়া, অনলাইন নিউজ পোল্টাল, স্থানীয় সাপ্তাহিক, দৈনিক পত্রিকায় সুবাদে আমরা সহজেই জানতে পারি। দেখতে পারি কোন ব্যক্তি, কোন সংগঠন কত পরিমাণ ও কত পরিবারের সহযোগিতা করলো। কে কত পরিবারের দায়িত্ব নিল। চিকিৎসার জন্যে ডাক্তার নিয়ে অনেক নেতা রোগীর বাড়িতে হাজির হচ্ছেন। শিশু খাবারের ব্যবস্থা করছেন অনেক নেতা। এই সহযোগিতা চলমান থাকবে। 

সোসাল মিডিয়া, অনলাইন নিউজ পোল্টাল, অনলাইন টিভি ও স্থানীয় পত্রিকার সুবাদে আমরা যেটা দেখতে পেয়েছি বা পাচ্ছি। আওয়ামী লীগ নেতা, সামাজিক সংগঠন, সংসদ সদস্য এবং সংসদ সদস্যের ছেলে ও মেয়েরা যে পরিমান ত্রাণ রাজবাড়ী জেলা বাসীকে দিয়েছে তাতে ত্রাণ না পওয়া কোন ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া যাবে না। শুধু ত্রাণ দেওয়া না। হাজার হাজার পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গিকার করেছে এই সকল উদীমান নেতারা। চিকিৎসা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অনেকে চিকিৎসা দিচ্ছে এবং ঘরে ঘরে গিয়ে খাবার তুলে দিচ্ছেন। 

রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী ইরাদত আলী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গোয়ালন্দ ও সদর উপজেলায় ১২ হাজার পরিবারের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে খাবার তুলে দিয়েছেন। দলীয় অনেক নিম্ম আয়ের নেতাদের অর্থনৈতিক সহযোগিতা করেছেন। ডাক্তারদের দিয়েছেন পিপিই। এবং রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আশিক মাহমুদ মিতুল পাংশা, কালুখালী ও বালিয়াকান্দি উপজেলার ১৮ হাজার পরিবারের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে খাবার তুলে দিয়েছেন। দিয়েছেন শিশু খাবার। চিকিৎসার জন্য ৩টি টিম গঠন করেছেন। যারা বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে চিকিৎসা করেন। যে কাজ গুলো চলমান রয়েছে। 

আবার অনেক আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতা রাতের আঁধারে সহযোগিতার প্যাকেট নিয়ে হাজির হচ্ছে অনেকের বাড়িতে। অনেকে ফোন করে নিয়ে গোপনে সহযোগিতার প্যাকেট দিচ্ছেন। প্রচারনা করছেন না। কখনও ছবিও তোলার চেষ্টা করছেন না। তবে এমন নেতার সংখ্যা অনেক কম। দেশের এই ক্রান্তিকালে কোন ফেস্টুন ও হাইব্রিড নেতাদের চোখে পড়ছে না। বরং অনেকে ত্রান নিয়ে বাণিজ্যে মেতে উঠছেন। কিন্ত জেলার আনাচে-কানাচে ক্ষুদার্থ মানুষ পরে রয়েছে। কোন প্রকার ত্রান পায়নি এমন সংখ্যাও অনেক।  

করোনা ভাইরাসে কর্মহীন হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। এই সকল অসহায় সাধারণ মানুষকে পূঁজি করে ফটোসেশনের রম রমা ব্যবসা শুরু করেছেন অনেকে। ১ জনে একটি মাস্ক দিচ্ছেন ৮/১০ মিলে। প্রতি ত্রানের প্যাকেটে ১কেজি আটা, হাফ কেজি সুজি, হাফ কেজি চিনি ও ১প্যাকেট সেমাই ফটোসেশন করছেন। সেল্ফী তোলার প্রতিযোগিতা শুরু করছেন। যা মূহর্তে সোসাল মিডিয়ায় পোর্ট করছে। শুধু সোসাল মিডিয়ায় পোর্ট নয় ২ লাখ টাকা ব্যয় করে জাতীয় পত্রিকায় প্রথম পাতায় বিজ্ঞাপন। যাদে লেখা ১৫ হাজার পরিবারের মাঝে চাল, ডাল, ময়দা, চিনি, সুজি, আলু, সয়াবিন তেল, ডেটল, সাবান, মশলা, মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস প্রদান করেন। এই কাজও অনেকে ঠান্ডা মাথায় করে যাচ্ছেন। 

লেখক: শফিকুল ইসলাম শামীম, সংবাদকর্মী।

 

বাংলাদেশ জমিন/ সংবাদটি শেয়ার করুন

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

মন্তব্য