যে কারণে সাংবাদিক নাদিমকে হত্যা করে চেয়ারম্যান!

  • অনলাইন
  • শনিবার, ১৭ জুন ২০২৩ ১১:০৬:০০
  • কপি লিঙ্ক

ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নিতে সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিমকে নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে হত্যা করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম ওরফে বাবু।

শনিবার (১৭ জুন) কাওরানবাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক ব্রিফিংয়ে এসব জানান র‍্যাবের মিডিয়া উইং প্রধান কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক বাবু হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছে। ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নিতেই বাবুর নেতৃত্বে থাকা সন্ত্রাসী গ্রুপ দিয়ে এই হত্যাকাণ্ডের মিশন পরিচালিত হয়।

সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী বাবু এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য পেয়েছে বলে জানান র‍্যাবের মুখপাত্র।

চেয়ারম্যান বাবু ও তার ছেলেসহ এই ঘটনায় মামলার এজাহারভুক্ত ২২ জনের মধ্যে বাকিদের আইনের আওতায় আনতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে রয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে নাদিম হত্যার ৯ আসামিকে কারাগারে প্রেরণ করেছে আদালত। শনিবার (১৭ জুন) তাদের কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন আদালত। আগামীকাল রোববার (১৮ জুন) তাদের রিমান্ড শুনানি হওয়ার তারিখ ধার্য করা হয়েছে।

গত বুধবার (১৪ জুন) রাতে বকশীগঞ্জ বাজারের পাটহাটি এলাকায় হামলার শিকার হন বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কমের জামালপুর ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট গোলাম রাব্বানী নাদিম। পরদিন বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত ১০ জনকে আটক করেছে।

নিহতের ছোটভাই যুবলীগ নেতা আমির হোসেন কালু দাবি করেন, পরিকল্পিতভাবে তার ভাই মোবারক হোসেন বাবুকে (৪৮) গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে ইমরানের (১৮) অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. হাসিবুল ইসলাম জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে বাবুর মৃত্যু হয়ছে।

পায়ে গুলিবিদ্ধ জসিম নামের আরেকজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন জানিয়েছেন, গুলির ঘটনায় জড়িত একজনকে আটক করা হয়েছে। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।

অন্যদিকে হামলা ও গুলির ঘটনায় প্রতিবাদ সমাবেশ অসমাপ্ত রেখেই মায়া চৌধুরী আহত ও নিহতকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান।

এ সময় হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

মন্তব্য