“শ্রমিক কল্যাণ ফান্ডের টাকার হদিস নেই”

রাজবাড়ীতে মানবেতর জীবন কাঁটাচ্ছেন সাড়ে ৬ হাজার শ্রমিক

  • শফিকুল ইসলাম শামীম:
  • শনিবার, ০৯ মে ২০২০ ০২:৫২:০০
  • কপি লিঙ্ক

গাড়ি চাকা ঘুরছে না। গণপরিবহন বন্ধ। আর চাকা না ঘুরলে আয় থাকে না। ২৫ মার্চ থেকে বাড়িতে বসে অলস সময় কাঁটাতে হচ্ছে এসকল শ্রমিক। কিন্ত পেট তো বন্ধ নেই। তাই দীর্ঘদিন ঘরে বসে থেকে রাজবাড়ীতে দুইটি শ্রমিক সংগঠনের সাড়ে ৬ হাজার শ্রমিক পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন কাঁটাচ্ছে। তবে, কাজে আসছে না শ্রমিক কল্যাণ ফান্ডের জমানো টাকা। 
  
সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রাজবাড়ী জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নে ৪২শত এবং রাজবাড়ী জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নে ২৩শত সদস্য রয়েছে। রাজবাড়ী জেলার এই দুইটি শ্রমিক সংগঠনে সাড়ে ৬ হাজার শ্রমিক সদস্য রয়েছে। যারা সবাই গণপরিবহনে কর্ম করে জীবন যাপন করেন। এদের প্রতিদিন আয় করে সংসার চালাতে হয়। গাড়ির চাকা ঘুরলে, এদের পেট ভরে। কিন্ত গাড়ির চাকা বন্ধ থাকলে পেট ভরে না। তবে বিপদের জন্য এসকল শ্রমিকদের জমানো টাকা শ্রমিক ফান্ডে রয়েছে। শ্রমিকদের র্দুদিনে শ্রমিক কল্যাণ ফান্ডের টাকার কোন হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। শ্রমিক সংগঠনের নেতারা সরকার থেকে ত্রান নেওয়ার জন্য ঘুরছেন।
 
জানা যায়, শ্রমিকদের র্দুদিনে সহযোগিতা করার জন্য শ্রমিক কল্যাণ ফান্ডের নামে প্রতিদিন রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ মোড় থেকে চাঁদা তোলা হত। প্রতিটি গাড়ি থেকে ২০টাকা করে নেয় হয়। সেই হিসেবে প্রতিদিন ৬০হাজার টাকা আয় আসে। সেই হিসেবে মাসে ৯লাখ টাকা, বছরে কোটির টাকা বেশি আয় হয়েছে। 

এদিকে করোনা ভাইরাস মোকাবিলা করার কারণে দেড় মাস যাবৎ গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। গণপরিবহন বন্ধ হওয়ায় এই সাড়ে ৬ হাজার শ্রমিকের কাজও বন্ধ। আর কাজ না করলে বেতন পাওয়ার কোন সম্ভবনা নেই। দেড় মাস গণপরিবহন বন্ধ থাকায় এরই মধ্যে সংগঠনের শ্রমিকগণ পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। আরো কতদিন বসে থাকতে হবে এর কোন নিদিষ্ট সময় নেই। যে কারণে এই শ্রমিক সংগঠনগুলোর সদস্যগন অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবন যাপন করছে।
 
মো.জুয়েল নামের এক শ্রমিক জানান, দীর্ঘ দেড় মাস হয়ে গেলো। আমরা অসহায় মত জীবন যাপন করছি। গাড়ির চাকা ঘুরলে শ্রমিকের রুটি-রুচি’র ব্যবস্থা হয়। আজ আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে কিভাবে চলবো হতাশায় রয়েছি। কোন কিছু’র আশা দেখতে পাচ্ছি না। আমি গাড়ি’র চাকরী করি। দীর্ঘ দেড় ১মাস গাড়িটা বন্ধ। খুব অভাবের মধ্যে চলছি। 

নুরুল ইসলাম নামের এক শ্রমিক বলেন, আমাদের গাড়ি বন্ধ। গাড়ি বন্ধ থাকায় কর্মও বন্ধ। এপর্যন্ত সরকারি কোন সাহায্যে সহযোগিতা পাই নাই। আমাদের শ্রমিক সংগঠন থেকেও কোন প্রকার সহযোগিতা দেয় নাই। তিনি দুঃখ করে বলেন, শ্রমিক কর‌্যাণ ফান্ডের নামে প্রতিদিন এত টাকা আয় হতো। সেই টাকা থাকতে আমরা না খেয়ে থাকবো কেন?

রাজবাড়ী জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহীদ মোল্লা জানান, গণপরিবহন বন্ধ থাকায় আমার শ্রমিক সংগঠনের সকল সদস্য বেকার। এই সদস্যগন এখন মানবেতর জীবন করছে। তিনি বলেন, শ্রমিক মানেই লেবার, লেবার মানেই হতদরিদ্র। আর এই দুর্যোগের সময় এদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। শ্রমিক পান্ডের টাকার কথা বলতে তিনি বলেন, আমাদের ফান্ডে কিছু টাকা আছে। তবে এত সদস্যের টাকা দেওয়ার মত নেই। 

রাজবাড়ী জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম পিন্টু জানান, অন্তত্ব দরিদ্র যে মানুষগুলো পরিবহন সেক্টরে কাজ করে খায়। এই পরিবহন সেক্টরের চাকা সচল রাখার মাধ্যমে দেশে অর্থনীতি এবং দেশের সকল ক্ষেত্রে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে রাখার জন্যে পরিশ্রম করছে। এই সময় তাদের পাশে সরকারের দাঁড়ানো উচিত। আমাদের নিজস্ব সংগঠনের কল্যাণ তহবিল থেকে ৪টন চাউল বরাদ্ধ করা হয়েছে। তবে এই ৪টন চাউলে এত সদস্যে মাঝে কিছু হবে না।  

 

বাংলাদেশ জমিন/ সংবাদটি শেয়ার করুন 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

মন্তব্য