নভেল করোনা ভাইরাস বা কভিড-১৯ আতঙ্ক সারাবিশ্বে বিরাজ করছে। বাংলাদেশেও ব্যতিক্রম নয়। এই মরণঘাতি করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় ঘর বন্ধি দেশের মানুষ। জেলায় জেলায় চলছে সাডডাউন, লকডাউন। বন্ধ রয়েছে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়। বন্ধ রয়েছে ক্লাস পরীক্ষা। বন্ধ রয়েছে মিল কারখানা, দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। বন্ধ গণপরিবহন। শুধু সচল রয়েছে পণ্যবাহী ট্রাক, মুদি দোকান, কাঁচামালের দোকান ও ঔষুধের দোকান।
এদেরও একটি নিয়মের মধ্যে চলতে সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। দুরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে। কাঁচামাল, মুদি দোকানগুলা সকাল ৬টা থেকে বিকেল ২টা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশনা রয়েছে। এই দুর্যোগের মধ্যে ত্রাণ কার্যক্রমও দুরত্ব বজায় রেখে বণ্টন করার সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। তবে, মরণঘাতি করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সরকারি এই নির্দেশনার আমরা কতটুকু মেনে চলছি? সরকার বা দায়িত্বরত ব্যক্তিদের এই প্রশ্নের মুখোমুখি করার আগে নিজেকে প্রশ্ন করি। নিজেকে দায়িত্ববান মনে করি। সহজেই উত্তর খুঁজে পাওয়া যাবে।
সরকারি নির্দেশনায় যখন গণপরিবহন বন্ধ। আমরা তখন নানা প্রকার অজুহাতে প্রাইভেটকার, মাক্রোবাসে চলাচল করি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রাকের উপরে আসা-যাওয়া করি। ইঞ্জিন চালিত নৌকায় নদী পারাপার হই। দুরত্ব বজায় রেখে নয় বরং গাদাগাদি করে সকলের সামনে নিজেকে উপস্থাপন করি। পাড়া মহল্লায় চলাচল করি। অপ্রয়োজনে বাজারে গিয়ে আড্ডা দেই। সামান্যে পরিমাণ আয়ের জন্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গোপনে দোকান খোলা রাখি। মাছ বাজার, কাঁচাবাজারে গাঁদাগাদি করে চলাচল করি। আর প্রশাসন আসলে পালিয়ে যাই। ধরা পড়লে নানা প্রকার অজুহাত উপস্থাপন করি।
বাজার ঘাটে চায়ের দোকান বন্ধ থাকলেও গ্রামে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। চলছে আড্ডা, তাস খেলা। চলে চা-কফির আয়োজন। ঘরে বসে সময় কাঁটানো নয় বরং সকাল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত চলে গ্রামের মোড়ে মোড়ে আড্ডা। অর্থের বিনিময়ে শিশু বাচ্চাদের দিয়ে রাস্তার রাস্তায় পাহারা রাখা হয়। প্রশাসন উপস্থিত হওয়ার আগেই জানতে পেরে সটকে পড়েন সকলে। ক্ষনিকের জন্যে বন্ধ রাখা হয় আড্ডা। প্রশাসন চলে যাওয়ার পর আবারও শুধু হয়। মনে হয় যেন করোনায় ভয় নেই, ভয় প্রশাসনের!
ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর থেকে এলাকায় এসে অবাদে চলাচল করছেন অনেকে। কোন প্রকার নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছেন না। প্রশাসনকে কোন প্রকার সহযোগিতা করছেন না। বরং প্রশাসনকে বিভিন্ন প্রকার ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করছেন। আদৌ কি প্রশাসনকে ফাঁকি, নাকি নিজেকে ফাঁকি দেওযা হচ্ছে?
বাজারে দুরত্ব বজায় না রেখে বাজার সদায় করেন। অপ্রয়োজনে অনেকে বাজারে আসেন। সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে বিশেষ কৌশলে দোকান খোলা রাখেন। ত্রাণ বিতরনে দূরত্ব বজায় রাখায় সরকারি কোন নির্দেশনা মানেন না। একটি মাক্স দেওয়ার জন্যে ৮/১০ মিলে ফটো সেশনে মুগ্ধ হন। ত্রান দেওয়ার নামে হাজার হাজার অসহায় মানুষকে উপস্থিত করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন “নিজেকে নিজেই সুরক্ষিত করতে হবে” অনেকে যথাযথ ভাবে নির্দেশনাগুলো মানতে চাইছেন না। ফলে সংক্রমিত হয়ে যাচ্ছে।
২১ এপ্রিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, মৃত্যুর সংখ্যা ১১০ জন। করোনাভাইরাসে সংক্রমণ সংখ্যা ৩৩৮২ জন। সুস্থ্য হয়েছে ৮৭জন।
এখন পর্যন্ত এই মরণঘাতি করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা করার একমাত্র উপায় দুরত্ব বজায় রাখা। দুরত্ব বজায় রাখার জন্যে আনসার, পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ইউএনও ও জেলা প্রশাসক। স্বার্বক্ষনিক সরকারে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাগন মাঠে থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাধারণ মানুষের ঘরে রাখার চেষ্টা করছেন। কিন্ত সাধারণ মানুষ প্রশাসনের সাথে চোর-পুলিশ খেলছে। মনে হচ্ছে ঘরের বাহিরে প্রশাসনের ভয় রয়েছে। ধরা পড়লে শাস্তি পেতে হবে। কিন্ত করোনা ভাইরাসের কোন প্রকার তোয়াক্কা করছেন না। সকলের ধারণা যেন এই ভাইরাস আমাকে কিছু করবে না। এই ধারণা করতে করতে হু হু করে বৃদ্ধি পাচ্ছে করোনাভাইরাসের আক্রান্ত সংখ্যা। দিনের পর দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে লকডাউনের এলাকা। আর আমাদের অবহেলার কারণেই দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে করোনাভাইরাসে সংক্রমণ সংখ্যা।
আসুন আমরা নিজেকে ফাঁকি দেওয়া বন্ধ করি। সরকারি নির্দেশনা মেনে চলি। মাঠে যে সকল প্রশাসন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বার্বক্ষনিক ঘরের বাহিরে রয়েছে তাদের সহযোগিতা করি। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কবিতার ভাষায় বলেছেন “আমরা যদি না জাগি মা, কেমনে সকাল হবে? তোমার ছেলে উঠলে গো মা, রাত পোহাবে তবে! আমরা যদি সরকারি নির্দেশনা মেনে চলি অবশ্যই মরণঘাতি করোনা ভাইরাস মোকাবিলা করা কোন অসম্ভব নয়। নিজেদের স্বার্থে আমাদের ঘরে সময় কাঁটাতে হবে।






মন্তব্য