নলছিটির জনসাধারণের আস্থা ও নির্ভরতার প্রতিক ইউএনও নজরুল ইসলাম

  • মশিউর রহমান রাসেল,ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ
  • বুধবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৪ ০৯:১০:০০
  • কপি লিঙ্ক

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার একজন সফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন ইউএনও  মো:নজরুল ইসলাম। সরকারের নির্ধারিত কাজের বাইরেও ব্যক্তিগতভাবে অসংখ্য মানবিক কার্যক্রম সম্পাদন করায় উপজেলাবাসীর কাছে বিপদে-আপদে তার নামটি সবার আগে উচ্চারিত হয়। তিনি কোনো রাজনৈতিক নেতা নন, নন জনপ্রতিনিধিও। তারপরও তার সততা কর্মস্পৃহা দায়িত্বশীলতা ও জনমানুষের প্রতি আন্তরিকতা তাকে বসিয়েছে এক অনন্য উচ্চতায়। প্রশাসনিক কর্মকর্তা হয়েও যে আমজনতার মধ্যে মিশে যাওয়া যায় যেন তিনি দেখিয়ে দিচ্ছেন প্রতিনিয়ত তার কর্মদক্ষতায়, সততায়, আন্তরিকতা ও সাহসিকতায়। ক্রমেই তিনি হয়ে উঠেছেন উপজেলাবাসীর আইকন।

নলছিটি উপজেলায় যোগদানের অল্প সময়ের মধ্যেই তার জনবান্ধব কার্যক্রমে। উপজেলার সর্বস্তরেই প্রশংসা কুড়িয়েছেন ইউএনও নজরুল ইসলাম। দিন রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে উপজেলার মাঠঘাট চষে বেড়িয়েছেন এখনো বেড়াচ্ছেন। শুনছেন সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা ,সমাধানও করছেন। সকাল থেকে মাঝরাত এমনকি মাঝে মধ্যে ভোররাত পর্যন্ত কাজ করে যাচ্ছেন বিভিন্ন সময়। ২৪ ঘন্টার যেকোনো সময় উপজেলার যে কোনো লোক সরাসরি তাকে ফোনে কিংবা সরাসরি দেখা করতে পারছেন।  বলতে পারছেন তার সমস্যার কথা। 

যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগর মানুষের প্রয়োজনে। ঝড়ের রাতেই ছুটেছেন খাদ্য সহায়তা নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে। মাঝ রাতে সেচ্ছাসেবীদের নিয়ে নিজেই লেগে গিয়েছেন রাস্তায় পরে থাকা গাছের ডালপালা কেটে যাতায়াত ব্যবস্থা সচল করতে। এভাবেই জনসাধারণের আস্থার প্রতিক হয়ে উঠেছেন ইউএনও নজরুল ইসলাম। 

পৌষ মাসের কনকনে শীতের দিনে ছুটে গিয়েছেন প্রান্তিক অসচ্ছল অসহায় শীতার্তদের পাশে। চেস্টা করেছেন শীত নিবারনের উপকরন উপহার দেবার। দরিদ্র অসহায় শীতার্তদের জন্য আসা কম্বল বিতরনে নিজেই ছুটে গিয়েছেন বস্তি কিংবা বেদে পল্লীর ঠিকানাহীন অসহায়দের কাছে। এভাবেই তিনি জনসাধারণের কাছে হয়ে উঠেছেন মানবিক ইউএনও।

উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের অনিয়ম দুর্নীতি বন্ধ করতে হয়ে উঠেছিলেন তৎপর। দুর্নীতিবাজ স্বৈরাচার সরকারের আমলে তিনি স্রোতের প্রতিকূলে গিয়ে দুর্নীতি রুখতে নিয়েছেন কার্যকর ভূমিকা। যার কারনে তিনি কুড়িয়েছেন অধিক সুনাম ও ভালবাসা। 

তার যোগদানের শুরু থেকেই বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ না করে অর্থ লুটপাটের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। জনপ্রতিনিধিদের অনিয়ম দুর্নীতি বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকায় তার বিরুদ্ধে এই উপজেলায় শুরু হয়েছিলো নানামুখী ষড়যন্ত্র। গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে (টিআর,কাবিখা,কাবিটা) অতীতে কাজ না করেই তুলে নেয়া হতো বরাদ্দের অর্থ।গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন না করে এই তহবিলকে জনপ্রতিনিধিরা তাদের নিজেদের পকেট খরচ কিংবা ঈদ খরচ হিসেবে ধরে নিতেন। এতে বাধা বাধা হয়ে দাড়ান বর্তমান মানিবক ইউএনও। 
কাজ না হলে অর্থ ছাড় না দেয়ায় তার বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লাগেন তৎকালিন বিভিন্ন ইউনিয়নের দুর্নিতীবাজ আওয়ামী চেয়ারম্যানরা। তখনকার প্রভাবশালী সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমু, তার রাতের ভোটে বানানো ইউপি চেয়ারম্যানদের  দিয়ে ইউএনও এর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন ও করিয়েছিলেন। তবুও শক্ত অবস্থানে ছিলেন বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম। তার নীতি আদর্শের কাছে হার মানতে বাধ্য হয়েছিলো সকল ষড়যন্ত্রের পাতা-ফাঁদ। 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসার উন্নয়নে মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলে নিজেই সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। হাসপাতাল,ঘুরে ঘুরে খোজ খবর নেন ভর্তি রোগীদের।খাবারের মান উন্নয়নে কঠোর হবার নির্দেশনা দেন,হাসপাতালের চারপাশের ঝোপঝাড় পরিস্কার করে মশক নিধনেও ছিলো তারই পদক্ষেপ। একা নিপুন হাতে সামলে নিচ্ছেন সকল কাজ। 

বিদ্যুৎ না থাকলেও জেনারেটর চালিয়ে ভোররাত পর্যন্ত কাজ করে তা নিয়ে সকালেই আবার ছুটে গিয়েছেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে।ভূমিহীনদের জন্য নির্মান করা সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর নির্মানেও তদারকি করছেন নিজেই।প্রায় দিনই সুযোগ বের করে ছুটে গিয়েছেন আশ্রয়ন প্রকল্পের কাজের মান পরিদর্শনে। 

এছাড়াও ঘুর্নিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আসা বরাদ্দ। যাতে চেয়ারম্যানরা লুটপাট করতে না পারেন সেজন্য সরাসরি উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের মাঝে অর্থ এবং ঢেউটিন বিতরন করা করেন। যারফলে ইউনিয়ন পরিষদের অনেক জনপ্রতিনিধিরাই বিশাল অংকের উৎকোচ লুটপাটের সুযোগ পায়নি বলে জানা যায়। 

৫ আগস্ট আগে এবং পরে নলছিটি উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিলো স্বাভাবিক। যেখানে ৫আগস্টের পর সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙ্গে পরে।  সেখানে একাই বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী, সাংবাদিক, ও ছাত্রদের নিয়ে সকল কিছু সামলে নিয়েছেন। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শহীদদের তথ্য নিতেও ঝড়ের রাতে ছুটে গিয়েছিলেন নলছিটির শহীদের বাড়িতে।

৫ আগস্ট ছাত্র জনতার বিপ্লবের পরে প্রতিটা সময় তিনি ছাত্র-জনতা, সাংবাদিকদের সাথে নিয়ে পুরো উপজেলাকে আগলে রেখেছেন।  বিভিন্ন সময় তার বিরুদ্ধে করা ষড়যন্ত্র হেরে যাওয়ার একটাই কারন ছিলো তা হলো জনসাধারণের তার প্রতি আস্থা ও অবিরাম ভালোবাসা। 

৫ আগষ্টের পর প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের ফলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়রের কার্যক্রম বাতিল হলে সেই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তিনি পালন করে যাচ্ছেন। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা দীর্ঘদিন যাবৎ অনুপস্থিত থাকলেও সামন্য সেবায় ঘাটতি নেই। নতুন করে আবার সুবিদপুর ও মোল্লারহাট ইউনিয়ন পরিষদের আর্থিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব তুলে নিয়েছেন নিজের কাঁধে। উপজেলার সাধারন মানুষকে নিরবিচ্ছিন্ন সেবা দিতে তিনি দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।  

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে সাধারণ নাগরিকরা জানান। আমরা বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যক্রমে অত্যন্ত খুশি। কারন তিনি অতীত সরকারের আমলেও দুর্নীতিবাজ জনপ্রতিনিধিদের সাথে আপোষ করেননি। তিনি সবসময় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।  তিনি সেটাই করেন যাতে জনসাধারণ উপকৃত হয়।  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সেবায় অত্যন্ত সন্তষ্ট এবং তাকে অত্যন্ত সজ্জন বলেই স্বীকার করেন উপজেলার সাধারন মানুষ। এক কথায় তার কর্মকান্ডের প্রশংসা সর্বমহলের মুখে মুখে।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মোঃ খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন। নতুন বাংলাদেশে আমরা যেমন প্রশাসন আশা করি তার জলন্ত উদাহরন হতে পারেন ইউএনও নজরুল ইসলাম স্যার। তিনি সবসময় উপজেলা প্রশাসনকে এগিয়ে নিতে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আমার ৫ আগস্টের পর থেকে তার কাছ থেকে দেখেছি তিনি একজন জনবান্ধন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। 

একাদিক গণমাধ্যম কর্মী জানান তিনি উপজেলায় যেদিন থেকে ইউএনও হিসেবে যোগদান করেন সেদিন থেকেই তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে তার সু-সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। রাত দিন যেকোন সময় যেকোনো পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীর ফোন কিংবা সরাসরি যেকোনো তথ্য কিংবা সহযোগিতায়  আন্তরিকতায় ঘাটতি ছিলোনা এখনো নেই। এককথায় তিনি গণমাধ্যম বান্ধব ইউএনও। 

তবে জানাগেছে পুরানো দুর্নীতিবাজ লুটেরা থেমে নেই তারা একের পর এক ষড়যন্ত্রের বীজ রোপন করেই চলছেন।  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বদলি করতে উঠেপড়ে লেগেছেন নানামুখী ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে। সঠিক নাম ঠিকানাহীন উরো চিঠির মাধ্যমে অভিযোগকারীদের দিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে দাখিল করছেন ভিত্তিহীন অভিযোগ। যা অসত্য অবাস্তব কল্পকাহিনী ছাড়া আর কিছুই না। 

নলছিটি উপজেলার সাধারণ মানুষের মন জয় করতে পারলেও তিনি বিরাগভাজন হয়ে গেছেন উপজেলার দুর্নীতিবাজদের চোখে। 
তবে তার বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র রুখে দেয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের ছাত্র ও জনতা। 

তবে এসব বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন। আমি আমার চাকুরীকে মানবসেবা হিসেবে নিয়েছি। আমি আমার দায়িত্ব সবসময় সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করার চেস্টা করছি। তিনি আরও বলেন সরকারি চাকরিতে বদলি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যেকোনো সময় যে সিদ্ধান্ত নিবেন আমি তার জন্য সদা-সর্বদা প্রস্তুত রয়েছি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

মন্তব্য