আম্ফান এবং করোনা সংকটকালে স্বেচ্ছাসেবক বি.এম.সাবাব এর মানবিক উদ্যোগ 

  • অনলাইন
  • শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০ ০৬:৪৬:০০
  • কপি লিঙ্ক

একদিকে করোনার বিষাক্ত ছোবল অন্যদিকে আম্ফানের ধ্বংসাত্বক লীলাখেলা ,সব কিছু যখন স্থবির হয়ে পড়ে, তখন অনেক মানুষ খাবারের জন্য রাস্তায় নেমে আসেন, অনেকের চাকুরি হারিয়ে ফেলে এমনকি মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেক মানুষ রাস্তায় নেমে আসতেন। রাজনৈতিক বিভিন্ন মহলের দুর্নীতির কারনে সাধারণ মানুষ বার বার বঞ্চিত হতে থাকেন । সরকার বরাদ্দ থাকলেও সেই ত্রান সাধারণ মানুষের কাছে আর পৌছাইতে পারেনা । সাধারণ মানুষ হিসেবে , এমন দৃশ্য প্রতিনিয়ত খরবের শিরোনামে এবং বাস্তবে দেখে খুব খারাপ লাগে এই স্বেচ্ছাসেবকের। তখনই ভাবতে থাকে এসব মানুষের জন্য ভাল কিছু করা যায় কিনা। সাবাবের সীমিত সামর্থ্যরে পাশাপাশি বন্ধু ও প্রিয়জনদের সহায়তায় অর্থ সংগ্রহ শুরু করে। বর্তমানে ইসলামের সেবা ( বি.এম.সাবাব ফাউন্ডেশন ) এবং হাফেজ্জী হুজুর রহ. সেবা সংস্থার স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন সাবাব।  হাফেজ্জী হুজুর রহ. সেবা সংস্থা মানুষের বাসায় বাসায় রান্না খাবার থেকে শুরু করে কাঁচা বাজার পর্যন্ত করে দেওয়ার উদ্যোগ নেয় সমস্ত লক-ডাউন জুরে । বর্তমানে আম্পানে ক্ষতিগ্রস্থ বাগেরহাটের সরণখোলা এবং সাতক্ষিরার শ্যমনগর এলাকাতে পর্যাপ্ত ত্রান সংগ্রহ এবং সরাবরাহ নিয়ে কাজ করছে উভয় সংগঠন । আজকে হাফেজ্জী হুজুর রহ. সেবা সংস্থার উদ্যোগে সাতক্ষিরার শ্যামনগরের প্রায় ১৫০ পরিবারের মধ্যে বাজার বিতরণ করা হয় ।  

করোনাকালে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো ইসলামের সেবা ( বি.এম.সাবাব ফাউন্ডেশন ) এর প্রতিষ্ঠাতা স্বেচ্ছাসেবক সাবাব বলেন এভাবেই তার মানবিক উদ্যোগের কথা । তিনি রাজধানীসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার প্রায় হাফেজ্জী হুজুর রহ সেবা সংস্থার সাথে স্বেচ্ছাসেবকের কাজ করেছেন , ঢাকা শহরের বিভিন্ন বস্তিতে বস্তিতে খাবার দিয়ে এসেছেন এবং সমস্ত ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কদ্বীপে রমজান চলাকালীন সময়ে ইফতারি বিতরন কাজে সরাসরি অংশগ্রহন করেছেন ।  

 
বি.এম.সাবাব বলেন, শুধু করোনা বা আম্পাফ চলাকালীন সময়েই নয় সারা বছর যে কোন ধরনের সংকটময় মুহূর্তে কাজ করার জন্য প্রস্তুত আছেন , মানুষের পাশে মানুষ বিপদে দাঁড়াবে এটাই একজন মুসলিমের ব্রত হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন । করোনা এবং আম্ফান শুরুর পর অনেক কাজ আমরা করেছি এবং ইনশাল্লাহ আরোও করব । ফান্ড সংগ্রহ কিভাবে হচ্ছে এই নিয়ে তিনি বলেন যখন দেখলাম মানুষের ঘরে খাবার নেই, অসহায় মানুষ রাস্তায় নেমে আসছেন, তখন ঠিক করলাম খাবার নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। তখন দেশে ও দেশের বাইরের বন্ধু এবং পরিচিত সকলের কাছে একটা মেসেজ পাঠালাম। সবাই ভালো সাড়া দিল আলহামদুলিল্লাহ। যারা প্রথমে সাড়া দেয় নাই তারাও ফেসবুকে কাজের বিস্তারিত দেখে সাড়া দিল এবং অনেকেই খুব আগ্রহ নিয়ে সাধ্যমতন আমাদের কাজকে সাহা্য্য করল । 

স্বেচ্ছাসেবার পাশাপাশি বি.এম.সাবাব কাজ করছে ইসলামের সেবা ( বি.এম.সাবাব ফাউন্ডেশন ) অলাভজনক প্রতিষ্ঠান নিয়ে । বাংলাদেশের ৬৪টি জেলাতেই মসজিদ মাদ্রাসা এবং এতীম শিশুদের নিয়ে কাজ করাই এই ফাউন্ডেশনের প্রধান উদ্দেশ্য । করোনা চলাকালীন সময়ে যেসকল মসজিদ এবং মাদ্রাসার খরচ উঠানো সম্ভব হচ্ছিল না সেই সকল প্রতিষ্ঠান নিয়েই মূলত ইসলামের সেবা কাজ করে যাচ্ছে । বিভিন্ন মাদ্রাসা মসজিদের অবকাঠামো গত উন্নয়ন নিয়ে ফান্ড সংগ্রহ করা এবং ইসলামের সেবার প্রধান উদ্দেশ্য । স্বেচ্ছাসেবক সাবাব সকলের কাছে দোয়া এবং সহযোগিতা কামনা করেন । 


বাংলাদেশ জমিন/ সংবাদটি শেয়ার করুন

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

মন্তব্য