সাক্ষাৎ​কারে বিএনপির প্রার্থীরা, সমর্থকেরা মারামারিতে

  • অনলাইন
  • শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১১:১২:০০

জাতীয় সংসদের চারটি শূন্য আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেতে ২৮ জন সাক্ষাৎ​কার দিয়েছেন। রাত পৌনে নয়টা পর্যন্ত সাক্ষাৎ​কার গ্রহণ চলে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোনো আসনেই প্রার্থিতা ঘোষণা করা হয়নি। তবে মনোনয়ন নিতে আসা প্রার্থীদের সমর্থকদের মারামারিতে আজ শনিবার গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয় প্রাঙ্গণ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রার্থীদের ভার্চুয়াল সাক্ষাৎকার শুরুর আগে ঢাকার দুটি সংসদীয় আসনের চারজন মনোনয়ন প্রত্যাশীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা যখন সাক্ষাৎকারে, তাঁদের সমর্থকেরা তখন হাতাহাতি ও মারামারিতে লিপ্ত। প্রথমে ঢাকা-৫ আসনের নবীউল্লাহ নবী ও সালাহউদ্দিন আহম্মেদের সমর্থকদের এক দফা সংঘর্ষ হয়। 


পরে ঢাকা-১৮ আসনে এম কফিল উদ্দিন আহম্মেদ ও এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের সমর্থকদের মধ্যেও এ সংঘর্ষ বাঁধে। এতে ৭ থেকে ৮ জন আহত হয়েছেন। কপাল ইটের টুকরোর আঘাতে একজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখা যায়।

রাতে এম কফিল উদ্দিন আহম্মেদ অভিযোগ করেন, এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের লোকজন তাঁর সমর্থকদের মারধর করেছে। এতে ১০/১২জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে মারাত্মকভাবে আহত উত্তরখানের একটি স্কুলের শিক্ষক এরশাদ মাস্টার ও দক্ষি​ণ খানের ফায়দাবাদের বাসিন্দা নাজিমউদ্দিনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঢাকার দুটি আসনে ১৫ জন সাক্ষাৎ​কার দিয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকা-৫ আসনে নবীউল্লাহ নবী, সালাহ উদ্দিন আহম্মেদ, সেলিম ভূঁইয়া, আকবর হোসেন নান্টু, জুম্মন মিয়া, আনোয়ার হোসেন সরদার।


আর ঢাকা-১৮ আসনে ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, এম কফিল উদ্দিন আহম্মদ, বাহাউদ্দিন সাদি, আক্তার হোসেন, আব্বাস উদ্দিন, ইসমাঈল হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান ও মোস্তফা জামান।

সিরাজগঞ্জ-১ আসনে গতবারের প্রার্থী কণ্ঠশিল্পী কনক চাঁপা এবার মনোনয়ন চাননি। সেখানে টি এম তাহজিবুল ইসলাম, নাজমুল হাসান তালুকদার, রবিউল হাসান ও সেলিম রেজা সাক্ষাৎ​কার দিয়েছেন।

এ ছাড়া নওগাঁ-৬ আসনের জন্যও নয়জন সাক্ষাৎ​কার দিয়েছেন। তাঁরা হলেন মাহমুদুল আরেফিন (স্বপন), আতিকুর রহমান (রতন মোল্লা), শেখ আবদুস শুকুর, এস এম আল ফারুক (জেমস), আবু জাহিদ মো. রফিকুল আলম, রেজাউল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম, ইছহাক আলী ও আনোয়ার হোসেন।


গুলশানের কার্যালয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ছাড়া কেউ ছিলেন। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা ভার্চুয়ালি সাক্ষাৎ​কার নেন। পরে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আসনভিত্তিক সব প্রার্থীকে নিয়ে কথা বলেন। দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংশ্লিষ্ট জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেরা মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য।

জানা গেছে, ঢাকা-৫ ও নওগাঁ-৬ আসনে রাতে প্রার্থী ঘোষণা করা হতে পারে। ঢাকা-১৮ ও সিরাজগঞ্জ-১ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হবে তফসিল ঘোষণার পর।


গুলশানে সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা-১৮ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি চারটার দিকে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ঢুকেছি। পরে শুনেছি কফিল উদ্দিন ঢোকার সময় সমর্থকদের মধ্যে একটু ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। ভেতরে আমরা দু’জনেই একসঙ্গে ছিলাম। আমি বলেছি, মারামারির ঘটনা তদন্ত করব। যেই অপরাধী হয়, তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব।’

ঢাকা-১৮ আসনের মনোনয়ন নিয়ে এস এম জাহাঙ্গীর ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম কফিল উদ্দিন আহম্মেদের মধ্যে কয়েকদিন ধরেই পাল্টাপাল্টি চলছিল। জাহাঙ্গীর নির্বাচনী এলাকায় নিজের অবস্থান জানান দিতে বিএনপির সাত সাংগঠনিক থানার সভাপতি-সম্পাদকদের পক্ষে এনেছিলেন। আর কফিল জোগাড় করেছিলেন গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এলাকার বিএনপি সমর্থিত দুই নারী কাউন্সিলরসহ আট কাউন্সিলর পদপ্রার্থীর সমর্থন। তাঁরা এক জোট হয়ে জাহাঙ্গীরকে মনোনয়ন না দিতে দলের নীতিনির্ধারকদের কাছে লিখিত আবেদনও করেছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

মন্তব্য