রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেরি থেকে পানিতে পড়ে ডুবে গেছে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস। সেই বাসে থাকা ৭ বছর বয়সী ছেলে সাবিত ও ১১ বছরের ভাগনি সোহানা আক্তারের লাশের জন্য নদীর পাড়ে অপেক্ষা করছেন শরীফ নামে এক যুবক। তার কান্নায় আশপাশের পরিবেশ ভারি হয়ে উঠেছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে সৌহার্দ্য পরিবহনের ঢাকাগামী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে গেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ৭-৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বাসে অন্তত ৪৫ জন যাত্রী ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে শরিফ গণমাধ্যমকে বলেন, রাজবাড়ী থেকে আমার স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে , বোন ও বোনের ছেলে সৌহার্দ্য পরিবহন বাসে ওঠে। ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার পর আমার স্ত্রী, মেয়ে ও বোন স্থানীয়দের সহযোগিতায় পাড়ে উঠতে পারলেও আমার ৭ বছরের ছেলে সন্তান ও ১১ বছর বয়সী ভাগনি এখনো নিখোঁজ রয়েছে। আমার ছেলে ও ভাগনিতো আর নেই, এখন তাদের লাশটা আমাকে বুঝিয়ে দেন। আমার টাকার দরকার নেই, আমার সন্তানের লাশটা তারা আমাকে বুঝিয়ে দিক। আমার আর কিচ্ছু লাগবে না, আমার সব শেষ।
রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা জানান, বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যাওয়ার খবর পেয়ে দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ইউনিটের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা কাজ করছে, তবে বৃষ্টির কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত পানির নিচ থেকে বাসটি শনাক্ত বা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।






মন্তব্য