সংস্কার পরিষদ না হলে সংসদে নয়, রাজপথে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছি: নাহিদ ইসলাম

  • অনলাইন
  • শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ০১:০২:০০
  • কপি লিঙ্ক

‘সংস্কার পরিষদ না হলে সংসদে কথা নয়, রাজপথে কথা বলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘‘যদি সংস্কার পরিষদ না হয়, তাহলে সংসদে কথা বলার পরিবেশ থাকবে না। তখন কথা রাজপথে গড়াবে। আমরা রাজপথের প্রস্তুতিও নিচ্ছি।’’

নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা যখন গণঅভ্যুত্থান করেছিলাম, তখন বলেছিলাম, আমরা পুরনো বন্দোবস্তের পতন চাই, আমরা শুধু শেখ হাসিনার পতন চাই না। আমরা শেখ হাসিনার পতন অবশ্যই চাই, পাশাপাশি আমরা রাষ্ট্র সংস্কার করতে চাই। এমন একটা বন্দবস্ত প্রতিষ্ঠা করতে চাই, যেখানে বারবার বাংলাদেশকে স্বৈরাচারের কবলে পড়তে হবে না, বারবার বাংলাদেশের ছাত্র জনতাকে রাজপথে এসে জীবন দিতে হবে না।  এ দেশের মানুষের বৈষম্য দূর হবে। এ দেশের মানুষের অধিকার নিশ্চত হবে। এদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। বাংলাদেশ কারও তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হবে না। এই ছিল আমাদের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা। বাংলাদেশের এই গণঅভ্যুত্থানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে, বাংলাদেশের ছাত্র সমাজ। আমরা ইতিহাস থেকে দেখেছি বাংলাদেশ যখনই সংকটে পড়েছে, তখন রাষ্ট্রের পক্ষে দাঁড়িয়েছে ছাত্ররা। বিশ্ববিদ্যালায়ের ছাত্ররা, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্ররা। কিন্তু বারবার ছাত্রদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, ৯০-এর গণঅভ্যুত্থানেও কিন্তু ছাত্ররা সম্মুখ সারিতে থেকে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছিল। ৯০ এর গণঅভ্যুত্থানের পর এ দেশের রাজনৈতিক দলগুলো ছাত্র সমাজের সঙ্গে প্রতারণা করেছিল। আমরা একই জিনিস দেখতে পাচ্ছি-২৪ এর গণঅভ্যুত্থানেও পরও। ২৪ এর গণঅভ্যুত্থান করেছে ছাত্ররা। জীবন দিয়েছে সাধারণ মানুষ আর তার ফল ভোগ করছে রাজনৈতিক শক্তিগুলো। 

নাহিদ ইসলাম বলেন, আমাদের যে দাবিগুলো ছিল, সংস্কার, বিচার, অর্থনৈতিক লুটপাটের বিচার,  ফ্যাসিবাদ এবং আধিপত্যবাদের কবর রচনা করা; সেই সবকিছুকে তোয়াক্কা না করে যারা সরকার দলের রয়েছে, তারা জনগণের বিরুদ্ধে আবারও অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছে।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, শপথের প্রথম দিনই আমরা দেখলাম, তারা শপথ গ্রহণ করলেন না। সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে তারা শপথ গ্রহণ না করে গণভোটের গণরায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিল। গণভোটের আদেশে স্পষ্ট বলা আছে, একইদিনে শপথ নিতে হবে। আওয়ামী লীগের মতোই সংবিধানের দোহাই দিয়ে তারা সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া থেকে বিরত থেকেছে। সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে তারা যদি শপথ না নেয় তবে, এই জাতীয় সংসদের এক আনা মূল্যও নেই। কারণ এটা শুধু জাতীয় সংসদ হওয়ার জন্য নির্বাচন হয় নাই। এই নির্বাচন হয়েছে সংস্কার পরিষদ হিসেবে এটাকে কার্যকর করার জন্য। 

তিনি বলেন, যারা বিচার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করলেন, তারা কোনো অভিযোগ ছাড়াই ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটরকে সরিয়ে দিলেন। আমরা বিচারের নানা ধরনের হস্তক্ষেপের কথা শুনতে পাচ্ছি। যারা ভিকটিম ছিল, যারা সাক্ষ্য দিয়েছে নিজেদের উৎসাহ থেকে। তাদের নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। তারা হুমকির মধ্যে আছে। সুতরাং এই সরকারের আমলে বিচার ঠিক মতো হবে কিনা তা নিয়ে আমাদের মনে সন্দেহ তৈরি রয়েছে।  

নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা জানি, জনগণ তাদের বিপক্ষে ভোট দিয়েছিল। নানা ইঞ্জিনিয়ারিং করে তারা ফলাফলটা তাদের নিজেদের পক্ষে নিতে সক্ষম হয়েছে। সংসদে পরিকল্পিতভাবে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য পদ তাদের নিজেদের আওতায় রেখেছে। যাতে তারা নিজেদের মতো আইন ও বিচার তৈরি করতে পারে।  যেমন আমরা ২০০৮ সালে দেখেছিলাম, বিরোধীদের এক পাশে ঠেলে  সংবিধানকে নিজেদের মতো পরিবর্তন করে দেশকে নিজেদের মতো পরিচালিত করেছে। আজকে সরকারি দলের কার্যক্রম দেখে মনে হচ্ছে তারা সেই পথেই হাঁটছে। 

তিনি বলেন, আমরা খুব স্পষ্টভাবে বলেছি, বাংলাদেশে নতুন কোনো স্বৈরাতন্ত্রের উত্থান আমরা ঘটতে দেবো না। উত্থান ঘটতে হলে আমাদের জীবনের ওপর দিয়ে সেটা হতে হবে। ফলে সংস্কার প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন হতেই হবে। যদি সংসদে না হয়, তবে সেই লড়াই রাজপথে গড়াবে। আমরা সেই লড়াই রাজপথে গড়াতে চাই না। আপাতত মানুষ যে ভোট দিয়েছে তা আমরা মেনে নিয়ে সংসদে গিয়েছি। কিন্তু সংসদে যদি সংস্কার পরিষদ না, সংসদে যদি কথা বলার জায়গা না থাকে, তাহলে সেই লড়াই রাজপথে গড়াবে এবং আমরা রাজপথে প্রস্তুতি নিচ্ছি ইনশাল্লাহ। 

তিনি বলেন, আমরা আর কোনো লুটপাট, ঋণ খেলাপি এ ধরনের বন্দবস্ত দেখতে চাই না।  আমরা চাই একটা জবাবদিহিতামূলক ব্যবস্থা। 

নাহিদ বলেন, রমজান মাস দ্রব্য মূল্যের ঊর্ধ্বগতি হচ্ছে, নতুন সরকার তাই আমরা এখনো ছাড় দিয়ে যাচ্ছি।  কড়া অবস্থান নিচ্ছি না। সামনে ঈদ। ঈদে যেন  যানবাহনসহ টিকিট ন্যায্যমূলে পাওয়া যায়। কালোবাজারি সেখানে না হয়। মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে, কোনো দুর্ঘটনা ছাড়া বাড়ি পৌঁছাতে পারে, ঈদ পালন করতে পারে। সেই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতি আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাবো।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

মন্তব্য