বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একই দিনে আয়োজন করা হলে জনগণ বিভ্রান্তিতে পড়বে। তাই সরকারের প্রতি আহ্বান—গণভোট জাতীয় নির্বাচনের আগে গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় একসঙ্গে নির্বাচন হলে সম্ভাব্য জটিলতার দায় সরকারকে নিতে হবে।
মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আমিরাবাদ গ্রামে শহীদ আব্দুল কাদের মোল্যার বাড়িতে আয়োজিত এক গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-৪ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে মাওলানা সরোয়ার হোসেনকে সমর্থন জানাতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, “আমরা আর প্রহসনের নির্বাচন হতে দেব না। কেউ যদি ব্যালট ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে, তবে আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলবো। স্বাধীনতার পর ৫৪ বছরে দেশের প্রকৃত উন্নতি হয়নি। সম্পদের অভাব নয়, অভাব সৎ রাজনৈতিক নেতৃত্বের।”
তিনি আরও বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দেশে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা করে দেশ পরিচালনা করবে। চারদলীয় জোট সরকারের সময় জামায়াতের দুই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেনি বলেও দাবি করেন তিনি।
সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লার স্মৃতিচারণ করে বলেন, “জেলে থাকার সময় তিনি বলেছিলেন—নির্দোষ হয়েও ইসলামের জন্য শাহাদাতের জন্য প্রস্তুত।”
গণসমাবেশে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয় যখন শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লার পুত্র হাসান জামিল এবং শহীদ আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের পুত্র আলী আহম্মদে আল-তাহকীক তাঁদের পিতাদের স্মৃতিচারণ করেন।
বক্তারা ফরিদপুর-৪ আসনে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে মাওলানা সরোয়ার হোসেনকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান। তারা বলেন, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত দেশ গড়তে সৎ নেতৃত্ব প্রয়োজন।
সমাবেশ শেষে আব্দুল কাদের মোল্লার কবর জিয়ারত করা হয়।
সভায় ফরিদপুর জেলা আমীর বদরুদ্দীন উমরের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন—জামায়াত মনোনীত ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা সরোয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য মুহাম্মদ সামসুল ইসলাম আল-বরাটি, জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল ওয়াহাবসহ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও খেলাফত মজলিসের নেতারা।
সমাবেশে কয়েক হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশ নেন।






মন্তব্য