রাজপথ নিয়ন্ত্রণে রেখেই ভোটের মাঠ গোছাচ্ছে আওয়ামী লীগ

  • অনলাইন
  • রবিবার, ১২ নভেম্বর ২০২৩ ০৯:১১:০০
  • কপি লিঙ্ক

সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের শেষে বা ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তফসিল ঘোষণা হতে পারে চলতি সপ্তাহে। তবে রাজনৈতিক সংকট সমাধান ছাড়া তফসিল ঘোষণা না করতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি ও তার মিত্ররা। তাদের দাবিকে তোয়াক্কা করছে না আওয়ামী লীগ ও ইসি। দ্রুতই তফসিল ঘোষণা ও সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে বলে বিরোধীদের সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

বিএনপি-জামায়াত নির্বাচন বানচাল করতে আসলে প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছে ক্ষমতাসীনরা। সবকিছু মিলিয়ে রাজপথ নিয়ন্ত্রণে রেখেই ভোটের মাঠ গোছাতে শুরু করেছে ক্ষমতাসীনরা। ইতোমধ্যে শেখ হাসিনাকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি এবং ওবায়দুল কাদেরকে কমিটির সদস্য সচিব করে ১৪টি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে।

সরকারের পদত্যাগ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে চলতি বছরের শুরু থেকেই শান্তিপূর্ণভাবে রাজপথে জোর আন্দোলন করছে বিএনপি। তবে গত ২৮ অক্টোবর তাদের মহাসমাবেশ সংঘাতে রূপ নেয়। বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে পুলিশের একজন সদস্য ও একজন রাজনৈতিক কর্মী নিহত হয়। 

বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি প্রধান বিচারপতির বাসভবনেও হামলা চালানো হয়। এসব ঘটনায় বিএনপির শীর্ষ নেতাসহ সারাদেশে অন্তত ১০ হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গ্রেপ্তার এড়াতে অনেক নেতাকর্মী আত্মগোপনে রয়েছেন। এসবের মধ্যেই হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি দিয়ে সরকারকে চাপে ফেলে দাবি আদায় করতে চায় বিএনপি ও তার মিত্ররা। যদিও বিরোধীদের আন্দোলন ও তাদের হুঁশিয়ারিকে আমলে না নিয়ে ভোটের মাঠ গোছাতে শুরু করেছে ক্ষমতাসীনরা।

আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, তফসিল ঘোষণার পরেই নির্বাচন যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে গোছানো হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারবিরোধীরা যাতে কোনোভাবেই সহিংসতা-নৈরাজ্য করতে না পারে সেজন্য সর্বস্তরের নেতাকর্মীর সতর্ক পাহারা রয়েছে। বিরোধীরা তাদের আন্দোলন তেমন দানা বাঁধতে পারছে না। রাজপথ আওয়ামী লীগের দখলেই আছে এবং থাকবে।

নাম প্রকাশ না শর্তে আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, বিএনপির নির্বাচনে আসা না আসার বিষয়টি মাথায় রেখেই ভোটের মাঠ গোছাচ্ছে আওয়ামী লীগ। যারা নির্বাচনে আসবে তাদের নিয়ে সংবিধান অনুযায়ীই গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা হবে। অন্তত ৬০ ভাগ ভোটার উপস্থিত করতে জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে। 

এ ছাড়া নির্বাচন কার্যক্রম পরিচালনায় দলের তিনটি কার্যালয়কে পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার ব্যাপক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পরপরই দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও জমা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হবে। নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়নের কাজও এগিয়ে চলছে বলে জানান দলটির নেতারা।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দ্রুতই তফসিল হয়ে যাবে। এখন আওয়ামী লীগের সামনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। একটি নির্বাচনের প্রস্তুতি, আরেকটি বিএনপির চোরাগোপ্তা হামলা প্রতিহত করা ও নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখা।

তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার পর শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন জেলায় নির্বাচনী জনসভা অথবা ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে দলের পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেবেন।

বিএনপি-জামায়াতের সহিংসতার বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, বিএনপি ও তার মিত্ররা নির্বাচন বানচালে দেশে সন্ত্রাস-নৈরাজ্য চালাতে চায়। যেকোনো মূল্যে তাদের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে দেশকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পথে এগিয়ে নেওয়া হবে। তারা নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করলে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।

আওয়ামী লীগের প্রেসেডিয়ামের আরেক সদস্য মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিএনপি নির্বাচন বানচাল করতে চাইলে প্রশাসন তা মোকাবিলা করবে। আর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করবে। আন্দোলন করে বিএনপি আগামী নির্বাচনকে ব্যহত করতে পারবে না। কোনোক্রমেই বৈধ সরকারের পতন ঘটাতে পারবে না।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

মন্তব্য