কাদের-রিজভীর বক্তব্যের শক্ত জবাব দিলেন তথ্যমন্ত্রীর

  • অনলাইন
  • শনিবার, ১৬ জুলাই ২০২২ ০১:০৭:০০
  • কপি লিঙ্ক

দেশের অর্থনীতি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে আছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী শিক্ষিত মানুষ বলে জানতাম। শিক্ষিত হয়েও অর্থনৈতিক ইনডেক্সগুলো না পড়ে যেসব রাজনীতিবিদরা বক্তব্য দেন, তাদের কী বলবো!’

'বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার মতো হতে পারে' বলে সম্প্রতি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের এবং 'বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ এখন সর্বকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে' বলে বিএনপিনেতা রুহুল কবির রিজভী বক্তব্য দেন। তাদের বক্তব্যের বিষয়ে শুক্রবার বিকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের এস রহমান হলে এক অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রীর মন্তব্য জানতে চান সাংবাদিকরা।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সম্প্রতি বিশ্বখ্যাত গবেষণা ও সংবাদ প্রতিষ্ঠান ব্লুমবার্গ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ঝুঁকিপূর্ণ ইনডেক্স প্রকাশ করছে। সেখানে ২৫টি দেশের তালিকায় অনেক বড় বড় দেশ আছে, কিন্তু বাংলাদেশের নাম নেই। এই সংবাদগুলো কি আমাদের দেশের রাজনীতিবিদরা পড়েন না? না পড়েই তারা যেসব বক্তব্য রাখছেন, এগুলো তো গুজব রটানোর শামিল ‘

হাছান মাহমুদ বলেন, দেশের জিডিপির ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত বৈদেশিক ঋণ নিরাপদ। সে জায়গায় আমাদের বৈদেশিক ঋণ জিডিপির মাত্র ১৬ শতাংশ এবং এর বিপরীতে সুদের ব্যয় জিডিপি’র মাত্র ২ শতাংশ। আর জিডিপির ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত সরকারি ঋণ নেয়া যায়। সেই জায়গায় আমাদের ঋণ মাত্র ৩৬ শতাংশ। সুতরাং দেশের অর্থনীতির ভিত শক্ত।'

বাংলাদেশ আর শ্রীলঙ্কা এক নয় উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশ আজ পর্যন্ত বৈদেশিক ঋণের কোনো কিস্তি পরিশোধ করার ক্ষেত্রে কখনো দেরি করেনি। সময়মতো ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সবার ওপরের দিকে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। সেই কারণেই ব্লুমবার্গের মতো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম যে ডাটা সংগ্রহ করেছে সেখানে অনেক বড় বড় দেশ পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, তুরস্ক, মেক্সিকো, মরক্কোসহ বহু দেশের নাম থাকা সত্ত্বেও সেখানে বাংলাদেশের নাম নেই। আমাদের রাজনীতিবিদ যারা এ নিয়ে কথা বলছেন, তাদেরকে বলবো একটু পড়াশোনা করার জন্য।

আইনের শাসন নিয়ে বিএনপি মহাসচিবের নেতিবাচক মন্তব্যের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, বিএনপিই আদালতের রায় মানে না। বিএনপির আইনজীবীরাই আদালতে প্রধান বিচারপতির দরজায় অর্থাৎ দেশের প্রধান বিচারালয়ে লাথি মেরেছিল। তারা আইন-আদালত কোনোটাই মানে না, আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায়। আর দেশে আইনের শাসন আছে বিধায়ই আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যকে আদালতের রায়ে জেলে যেতে হয়, আওয়ামী লীগ নেতাদের বিচার হয়। আর আদালতে শাস্তি পাওয়া সত্ত্বেও বিএনপিনেত্রী বেগম জিয়াকে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা তার প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে মুক্ত থাকার সুযোগ করে দিয়েছেন। সেজন্য মির্জা ফখরুলের উচিৎ বিবৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানো।

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সংলাপে বিএনপি যাবে না -এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, 'বিএনপি তো নির্বাচনকেই ভয় পায়। আশা করব, তাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে, তারা ইসি সংলাপে যাবে। সেখানে গিয়ে তাদের ওজর-আপত্তি থাকলে সেটা জানিয়ে আসবে।'

এর আগে স্যাটেলাইট টেলিভিশন এটিএন বাংলার ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। এটিএন বাংলার চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান ও চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব সভাপতি আলী আব্বাস ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

মন্তব্য