করোনায় যেখানে নানা সমস্যায় জর্জরিত বিশ্ব সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর নানামুখী পদক্ষেপে বিশ্ব দরবারে প্রশংসিত। দেশ এক কঠিন সময় অতিক্রম করছে। এই পরিস্থিতিতে সৃষ্টিকর্তাই একমাত্রই ভরসা। এবারও প্রধানমন্ত্রী এককভাবে করোনা মোকাবেলায় রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর সময়োচিত দিকনির্দেশনায় দেশের জনগণ করোনার সংক্রমণ থেকে মুক্তি পাবে বলে মনে করি। বর্তমানে করোনা শনাক্তকরণে অন্যান্য সিদ্ধান্ত, যেমন—বিভিন্ন পর্যায়ে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা, দুই হাজার ডাক্তার ও পাঁচ হাজার নার্স নিয়োগ, সশস্ত্র বাহিনী ব্যবহার, বিভিন্ন স্থানে জীবাণুনাশক ছিটানো, হতদরিদ্র মানুষকে সরকারি আর্থিক সহায়তা এবং সাধারণ ছুটি প্রলম্বিত করা ইত্যাদি খুবই যথার্থ ছিল।
১৯৭৫ সালে পরিবারের সবাইকে হারিয়ে কী যে এক ভয়ংকর জীবন পার করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তা চিন্তা করলেই শরীর কেঁপে ওঠে। তার পরও মানুষের সেবায় ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আসেন। আজ চার দশক ধরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তাঁর নেতৃত্বে এগিয়ে চলছে। যদিও চার দশকে তাঁকে নিয়ে নানাভাবে ষড়যন্ত্র চলছে। যেমন—তাঁকে ২১ বার হত্যা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট চারদলীয় জোট সরকারের আমলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ঘৃণিত কর্মকাণ্ড চালায়। এর চেয়ে আর কী খারাপ অপকর্ম সমাজে থাকতে পারে। আমি চিন্তা করে পায়নি এটা কিভাবে মানুষ ভাবতে পারে। ওই দিনের নিক্ষিপ্ত গ্রেনেড হামলায় নারীনেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ নেতাকর্মী নিহত হন, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে চরম এবং ন্যক্কারজনক ঘটনা। ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই অনির্বাচিত সরকার গণতন্ত্রকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করে, যা ছিল সম্পূর্ণ অবৈধ। কারণ পরবর্তী সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে আনিত সব অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়। পরে জনগণের দাবির মুখে তাঁকে জেল থেকে মুক্তি দেয়। সব পর্যায়ে, গ্রামেগঞ্জে তাঁকে গ্রেপ্তারের বিপক্ষে আন্দোলন গড়ে তোলে জনগণ। কারণ সবাই তাঁর ওপর আস্থা রাখে যে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা কোনো দুর্নীতি করতে পারেন না। সব ষড়যন্ত্রকে মোকাবেলা করে পর পর তিনবার দেশ পরিচালনায় দায়িত্বে থেকে দেশকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন শেখ হাসিনা।
বাংলাদেশ আজ বিশ্বের ৩৮তম অর্থনৈতিক শক্তিশালী দেশ। নিজস্ব অর্থায়নে বাংলাদেশের স্বপ্নের সেতু পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের পথে। যে পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংক নানাভাবে ষড়যন্ত্র করেছিল। এ ছাড়া আরো বড় বড় প্রকল্পের কাজ চলমান, যা বর্তমান সরকারের উন্নয়নের উদাহরণ মাত্র। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে কমিউনিটি ক্লিনিক তৃণমূলে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করছে। তাঁর যথারীতি দিকনির্দেশনায় করোনা সংক্রমণ রোধে বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং গার্মেন্ট মালিকদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে যাচ্ছে সাধারণ নাগরিকরা। দেশবাসী তাঁদের কার্যক্রমের ওপর খুবই বিরক্ত এবং রাগান্বিত। কিন্তু ২৫ মার্চ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর সব ভাষণ আমাদের কাছে ভালোভাবে গৃহীত হয়েছে। সবাই তাঁর কার্যক্রমে অত্যন্ত সন্তুষ্ট এবং তাঁর দিকে তাকিয়ে আছে সারা বাংলার জনগণ।
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকারের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা, চিকিত্সক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, সাংবাদিক, শিক্ষক, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সর্বস্তরের জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে করোনাযুদ্ধে কাজ করছে। তাঁর প্রতিটি ভাষণ থেকে আমি এটাই বুঝতে পারি যে সরকার কভিড-১৯ প্রতিরোধে সর্বোচ্চ নজর দিচ্ছে, যা সাধারণ নাগরিক প্রত্যাশা করছে। চীন করোনা সংকটে বাংলাদেশের পাশে যেভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে, যা প্রধানমন্ত্রীর প্রাজ্ঞ কূটনৈতিক কৌশলের আউটপুট বলে মনে করি। এ ছাড়া অনেক দেশের রাষ্ট্রপ্রধান সঠিক সময়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হওয়ায় এবং অযৌক্তিক মতামত দেওয়ায় মানুষের কাছে সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছেন, সেখানে আমাদের প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী ফোর্বস ম্যাগাজিনসহ আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় করোনা প্রতিরোধে নেওয়া পদক্ষেপ এবং নেতৃত্বের কারণে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। দক্ষতার সঙ্গে যেকোনো ষড়যন্ত্র এবং সংকট মোকাবেলা করা তাঁর জন্য নতুন কিছু নয়। তার পরও নতুন করোনাভাইরাস মোকাবেলায়ও তিনি নিয়েছেন দ্রুত পদক্ষেপ। সে জন্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামও তাঁর প্রশংসা করেছে।
এই সংকট কত দিন থাকবে বা আমাদের অর্থনীতি কিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে তা অনুমান করা কঠিন। তবুও অর্থনীতিতে সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কৃষিতে পাঁচ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ৯৫ হাজার ৬১৯ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। তা অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এতে দেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক কার্যক্রম ও অর্থনীতির চাকা সচল থাকবে বলে মনে করি। এ ছাড়া চিকিত্সক, নার্স ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক প্রণোদনা করোনা সংকটে যথেষ্ট ভূমিকা রাখবে। কিন্তু এই প্রণোদনা প্যাকেজের যেন অপব্যবহার না হয়, সেদিকেও কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা রাখতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ জনগণের সামাজিক ও খাদ্য নিরাপত্তা, পোশাক শ্রমিক, কৃষক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করবে বলে বিশ্বাস করি। এই সংকটে দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দুস্থ ও হতদরিদ্র মানুষের সহযোগিতা করা দরকার। এটাই প্রমাণ করার সময় ‘মানুষ মানুষের জন্য’। প্রধানমন্ত্রীর ৩১ নির্দেশনাও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এবং সমাজসচেতন নাগরিক অন্যদেরকে সচেতনের বিষয়ে কাজে লাগাচ্ছে, যা করোনা মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মুজিববর্ষ উদ্যাপনের অংশ হিসেবে সারা দেশে এক কোটি চারা বিতরণ, রোপণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি প্রধানমন্ত্রীর খুবই ভালো উদ্যোগ, যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।
সাহেদ, সাবরিনাসহ আরো অনেক অপরাধী গ্রেপ্তার হয়েছে, যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কারণে সম্ভব হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়ার আগে অনেকেই নানামুখী নেতিবাচক মন্তব্য করছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী যেখানে আছে, সেখানে কোনো দুর্নীতিবাজ রেহাই পাবে না। বর্তমানে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক ভালো এবং নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যার কারণে জনগণ শান্তিতে বসবাস করছে। প্রধানমন্ত্রীর অক্লান্ত পরিশ্রম এবং সঠিক পরিকল্পনায় বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে বলে বিশ্বাস করি। তাই আমি বলতে চাই, সব দুর্যোগ এবং যেকোনো সংকটে আমাদের আস্থার বাতিগর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর সুস্থ থাকার জন্য আমাদের সবারই সৃষ্টিকর্তার কাছে আশীর্বাদ করা উচিত।
শুভ জন্মদিন—মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আজকের এই দিনে আপনার জন্য অনেক অনেক শুভ কামনা। আল্লাহ্ যেন আপনাকে দীর্ঘায়ু করেন, এটাই আমাদের কামনা।






মন্তব্য