হোটেল ও পতিতালয়ে পাঠানোর রোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন ভারতে নির্যাতনের শিকার তরুণী 

  • অনলাইন
  • মঙ্গলবার, ০৮ জুন ২০২১ ০৪:৩৩:০০

হোটেল ও পতিতালয়ে না গেলে নেমে আসতো নির্মম নির্যাতন। থাকতে হতো বন্দি অবস্থায়। ভারতে এমন বন্দিদশায় বাংলাদেশের বহু তরুণী। টিকটক হৃদয়রা সম্পর্ক গড়ে তাদেরকে পাচার করেছে। সে বন্দিদশা থেকে সম্প্রতি দেশে পালিয়ে আসা তরুণীর বর্ণনায় উঠে এসেছে এ তথ্য। তিনি জানান, হৃদয়ের সহযোগী হিসেবে ভারতে কাজ করে অন্তত ২০ বাংলাদেশি পুরুষ ও নারী।

পুলিশ বলছে, হৃদয়ের মূলহোতা কে বা কারা এখনো জানা যায়নি। দুই তরুণীর করা হাতিরঝিল থানার দুই মামলায় সোমবারও সাতক্ষীরা গ্রেপ্তার করা হয়েছে মানবপাচারে জড়িত আরো দুজনকে।

টিকটক হৃদয়ের এমন পাঁচশত’র মতো টিকটক গ্রুপ, আইডি, হোয়াটসআপ ও ফেসবুক আইডি পেয়েছে ‍পুলিশ। সে কয়েক’শ তরুণ-তরুণীকে নিয়ে, বিভিন্ন জায়গায়ে পুল পার্টি ও হ্যাংক পার্টির করে বেড়াতো। হৃদয় অনেক মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তাদের ভারতে পাচার করতো। সম্প্রতি ভারতে এক তরুণীকে নির্যাতন ও ভিডিও ভাইরালের ঘটনায় আলোচনায় আসে, টিকটক হৃদয়।

ভুক্তভোগী নারীর বর্ণনায় উঠে আসে রোমহর্ষক কাহিনী। তিনি জানান, যে ভিডিওটি করে সে সবুজ, যে মারতেছিলো সে তানিয়া। নির্যাতনের দিন ৫ থেকে ৬ জন মিলে নির্যাতন করে। 

ফাঁদে ফেলে গেল ফেব্রুয়ারিতে হ্যাংআউট পার্টিতে যোগ দেয়া এ তরুণীকেও ভারতে পাচার করে হৃদয়। তরুণী জানান, হৃদয় কোথা থেকে মেয়ে নিয়ে আসত তা জানা নেই। তবে সে ভারতের তরুণীদের নিতো বলে জানান তিনি। তার কাছে মেয়ের কোন অভাব নেই।

৭৭ দিন ব্যাঙ্গালুরুতে এ তরুণী ছাড়াও আরও ৭ জন বন্দি ছিলেন। হৃদয়ের অনেক পুরুষ ও নারী সহযোগীকে দেখেছেন, যারা বাংলাদেশি।

পালিয়ে আসা ওই তরুণী জানান, ব্ল্যাকমেইল করে তাদের কাজে বাধ্য করা হতো। রাজি না হলেই মারধর এবং ভিডিও ভাইরালের ভয় দেখানো হতো।

নির্মম নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে জানান, কিভাবে পালিয়ে আসেন দেশে। কলকাতা হয়ে দালালদের মাধ্যমে বর্ডার পার হন এই তরুণী।

এখন পর্যন্ত ভারতে গ্রেফতার ১১ জনের মধ্যে ১০ জনই বাংলাদেশী। আর দেশে দুই মামলায় গ্রেফতার এখন পর্যন্ত ১১।পুলিশ এখনো জানে না হৃদয়ের মূল হোতা কারা, অর্থদাতারা ভারতের নারী পাচারকারী না বাংলাদেশি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

মন্তব্য