সদরপুর উপজেলার পদ্মা নদীর অপর পাড়ে চরহরিরামপুর ইউনিয়নের ভাটি শালেপুর গ্রামে খালের উপর দিয়ে মাটির রাস্তা নির্মাণ করে যান চলাচল সচল করেছেন বিএনপির স্পেন প্রবাসী নেতা ইউনুছ আলী প্রামানিক। তার এ উদ্যোগে চরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জানা যায়, কয়েকদিন আগে উক্ত খালের পানি প্রবাহ সচল রেখে তার উপর দিয়ে প্রশস্ত মাটির রাস্তা তৈরি করা হয়। ফলে এখন চরাঞ্চলে ঘোড়ার গাড়ি, মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল ও ট্রাক্টরসহ বিভিন্ন যানবাহন সহজেই চলাচল করতে পারছে। আগে সেখানে একটি বাঁশের সাঁকো ছিল, যার উপর দিয়ে কেবল মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল কিংবা হেঁটে পারাপার সম্ভব ছিল। মালামাল বহনকারী ঘোড়ার গাড়ি, ট্রলি বা ট্রাক্টর খালটি পার হতে পারত না।
সরেজমিন ঘুরে জানা যায় স্পেন প্রবাসী নেতা ইউনুছ আলী প্রামানিক নিজ খরচে মানবিক উদ্যোগ নিয়ে বাঁশের সাঁকোর পাশে পানির উপর দিয়ে কাঠের মোটা গুঁড়ি বসিয়ে তার উপর মাটি ফেলে রাস্তা নির্মাণ করেন। ফলে চরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত ও মালামাল পরিবহন অনেক সহজ হয়েছে।
এছাড়াও পদ্মা নদীর শালেপুর ট্রলার ঘাটে যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে সেখানে একটি যাত্রী ছাউনী নির্মাণ করে দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য একটি টিউবওয়েলও বসানো হয়েছে। এতে ট্রলার যাত্রীদের রোদ-বৃষ্টি ও ঝড়-তুফানের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকার কষ্ট অনেকটাই কমেছে।
চর শালেপুর গ্রামের বাসিন্দা সেন্টু শিকদার (৩৮) বলেন আমরা চরের মানুষ বলে আমাদের অনেকেই ছোট চোখে দেখে। আমাদের কষ্টের দিকে কেউ তেমন নজর দেয় না। কিন্তু স্পেন প্রবাসী নেতা ইউনুছ আলী প্রামানিক আমাদের যাতায়াতের দুর্ভোগের কথা শুনে খালের উপর রাস্তা করে দিয়েছেন এবং ঘাটে যাত্রী ছাউনী ও টিউবওয়েল বসিয়ে দিয়েছেন। আমরা তার কাছে চিরকৃতজ্ঞ।
শালেপুর ট্রলার ঘাটের আরেক যাত্রী শামেলা খাতুন (৫০) বলেন যুগ যুগ ধরে কত নেতা আসলো-গেলো, কিন্তু এই খালের কারণে গাড়ি-ঘোড়া পার হতে পারত না—কেউ তা দেখেনি। বছরের পর বছর রোদ-বৃষ্টিতে ট্রলার যাত্রীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছিল। কিন্তু ইউনুছ আলী প্রামানিক মানবিক উদ্যোগ নিয়ে যে কাজগুলো করেছেন, তা আমরা আজীবন মনে রাখবো।
সরেজমিন ঘুরে আরও জানা যায় বছরের প্রায় আট মাস পদ্মা নদীর বিস্তীর্ণ এলাকা শুকিয়ে বিশাল ফসলি চর হয়ে থাকে। উপজেলার এমপি ডাঙ্গী ঘাট থেকে প্রায় ১৫ মিনিট ট্রলারে পদ্মার গভীর জলরাশি পার হয়ে শালেপুর চরে যাত্রী ও মালামাল নামানো হয়। সেখান থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার মেঠোপথ পাড়ি দিয়ে চরহরিরামপুর ইউনিয়নের লোকালয়ে পৌঁছাতে হয়।
এ বিষয়ে স্পেন প্রবাসী নেতা ইউনুছ আলী প্রামানিক বলেন, মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দেখে আমি নিজের বিবেককে মানাতে পারিনি। তাই দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মসজিদ, মাদ্রাসা, ক্লাব, সংগঠন, ক্রীড়াঙ্গন ও অসহায় মানুষের চিকিৎসাসহ বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছি।
উল্লেখ্য, ইউনুছ আলী প্রামানিক স্পেন বিএনপির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার গ্রামের বাড়ি চরভদ্রাসন উপজেলা সদর ইউনিয়নের উত্তর আলমনগর মধু শিকদার ডাঙ্গী গ্রামে। স্থানীয়রা তার এমন মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন।






মন্তব্য