সালথায় রাতে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ত্রাণ বিতরণ

  • আবু নাসের হুসাইন, সালথা :
  • রবিবার, ০৩ মে ২০২০ ১১:৪২:০০
  • কপি লিঙ্ক

ফরিদপুরের সালথায় গভীর রাতে একঝাঁক তরুণের উদ্যেগে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে হতদরিদ্রদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার (২ মে) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার আটঘর ইউপি চেয়ারম্যানের অর্থায়নে স্থানীয় একঝাঁক তরুণের উদ্যেগে হতদরিদ্রদের খুঁজেখুঁজে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে এ ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

স্থানীয়রা জানায়, গভীর রাতে কিছু উদ্যেমী তরুণ হতদরিদ্রদের খুঁজেখুঁজে উপজেলার আটঘর ইউনিয়ন পরিষদের খোয়াড় গ্রাম এলাকায় এই কার্যক্রম চালায়। তরুণদের এই মহৎ উদ্যেগে স্বাগত জানিয়েছে এলাকাবাসি।

গভীর রাতে খাদ্যসামগ্রী পেয়ে খুশিতে মাজু খাতুন নামের এক বৃদ্ধা বলেন, “বাহে আমাদের কেউ খোঁজও নেয়না। হকগোলী হুদু আইডি কার্ডই নেয়। কেউ খাওয়োন আর দেয়না। দোয়া হরি আল্লাহ্ তোদের ভালো হরবি বাবা।”

বুড়ি খাতুন নামের সত্তর বছরের অন্ধ আরেক বৃদ্ধা আবেগে আপ্লুত হয়ে বলেন, “বাবা আমি তো চোঁহে দেহিনা, নড়তে চড়তেও পারিনা। তোরা আইছিস বাহা, আল্লাহ তোগো বড় হরুক।”

গভীর রাতে ত্রাণ  বিতরণ করতে থাকা সেলিম নামের এক যুবক বলেন, “মানুষ মানুষের জন্য। চারদিকে করোনার প্রভাবে কাজকর্ম বন্ধ, না খেয়ে আছে অনেক হতদরিদ্র মানুষ। তিনি বলেন, আমরা জানি সবার পাঁশে দাঁড়ানোর মতো সমতা আমাদের নেই। তবুও কোনো মানুষ যাতে না খেয়ে থাকে সেজন্য আমাদের এই ক্ষুদ্র  প্রয়াস অব্যাহত রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাব।”

ত্রাণ বিতরণ করার সময় জুয়েল হোসেন নামের আরেক যুবক বললেন, গরীব অসহায়দের কথা কেউ মনে রাখেনা। আমরা তাদের পাঁশে দাঁড়াতে পেরে ভালো লাগা কাজ করছে। তিনি আরো বলেন, দেশের সবাই যদি এভাবে উদ্যোগ নিতো তবে বোধহয় না খেয়ে কারো রাত কাটাতে হতো না। এ সময় গভীর রাতে ত্রাণ বিতরণে সহায়তা করেন, স্থানীয় যুবক মামুনুর রহমান, আহম্মেদ জুয়েল, লাভলু ফকির, আলামিনসহ একঝাঁক তরুণ যুবক।


আটঘর ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম খাঁন সোহাগ উদ্যেমী ওই যুবকদের প্রশাংসা করে  বলেন, আমি সবসময় তরুণ যুবকদের সাথে ছিলাম, এখনও আছি। যুবকরাই পারে কাঁধে কাধঁ রেখে দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে। তিনি বলেন,  এই মহামারীতে আমার ইউনিয়নে কেউই না খেয়ে থাকবেনা ইনশাল্লাহ। আমি ব্যক্তিগত টাকা থেকে পর্যায়ক্রমে প্রায় ১ হাজার হতদরিদ্রের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করব।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসিব সরকার বাংলাদেশ জমিনকে বলেন, এই দুর্দিনে যুবকরা এগিয়ে এসেছে শুনে ভালো লাগছে। এটা অত্যন্ত ভালো উদ্যোগ। স্বাগত জানাই তাদের এই মহতী উদ্যোগকে। এভাবে সবাই যদি তার নিজ নিজ স্থান থেকে এগিয়ে আসতো তবে কাউকে না খেয়ে কষ্ট পেতে হতোনা।

 

বাংলাদেশ জমিন/ সংবাদটি শেয়ার করুন

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

মন্তব্য