শেরপুরে সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহতের ঘটনায় ইউএনও-ওসি প্রত্যাহার

  • অনলাইন
  • শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬ ০২:০১:০০
  • কপি লিঙ্ক

শেরপুরে জামায়াত ও বিএনপির সংঘর্ষে উপজেলা জামায়াত নেতা নিহতের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং শ্রীবরদী থানার অফিসার-ইন-চার্জকে (ওসি) প্রত্যাহার করার কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছেন ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।তিনি জানান, শেরপুরের ঘটনায় ইউএনও এবং ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রার্থীদের বিরুদ্ধে জুডিশিয়াল ইনকোয়ারি কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেবে কমিশন।

এক প্রশ্নের জবাবে আখতার আহমেদ জানান, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারির পর আদালতের নির্দেশে কেউ প্রার্থিতা ফিরে পেলে পোস্টাল ব্যালটে তাদের নাম ও প্রতীক থাকবে না।

এর আগে, বুধবার শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনের ঝিনাইগাতী উপজেলায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম নিহত হন। ওই ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী, বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে গতকাল বুধবার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামে নির্বাচনী ইশতেহার অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত নেতা-কর্মীদের মধ্যে হট্টগোল ও বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। আহত হন উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী। ওই সময় অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে বিএনপির নেতা-কর্মীরা উপজেলা সদর বাজারের প্রধান রাস্তায় এবং জামায়াতের নেতা-কর্মীরা উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামে অবস্থান নেন। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা উভয় পক্ষকে শান্ত করতে চেষ্টা করেন। এ সময় বিএনপি নেতা আবু রায়হান রূপন ও ছাত্রদল নেতা শওকত হোসেন জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলকে তাঁর নেতা-কর্মীদের নিয়ে বিকল্প রাস্তা দিয়ে চলে যাওয়ার অনুরোধ জানান। কিন্তু তিনি তাঁর নেতা-কর্মীদের নিয়ে বাজারের মধ্য দিয়েই বের হয়ে যেতে চান। পরে সেনাসদস্যরা বিএনপি প্রার্থী ও জামায়াত প্রার্থীর সমর্থকদের সরে যেতে অনুরোধ জানালেও তাঁরা নিজ নিজ অবস্থানে অটল থাকেন। এরপর সন্ধ্যায় উভয় পক্ষের মধ্যে ফের সংঘর্ষ হয়। তখন শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমসহ উভয় পক্ষের আরও অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন। এ সময় সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে আহত হন একজন সেনাসদস্যও। আহত সেনাসদস্যকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় জামায়াত নেতা রেজাউল করিমকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা রাত ১০টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে শেরপুর জেলা শহর ও শ্রীবরদীতে বিক্ষোভ মিছিল করে জামায়াত। পরিস্থিতি উতপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কায় সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা বৃহস্পতিবার দুপুরে বলেন, বর্তমানে ঝিনাইগাতীসহ জেলার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

মন্তব্য