সদরপুরে নিম্ন আয়ের মানুষের ভিড় বাড়ছে ফুটপাতের পুরোনো শীতবস্ত্রের দোকানে

  • মো. নুরুল ইসলাম, সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
  • মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ ০১:১২:০০
  • কপি লিঙ্ক

সারা দেশের মতো পৌষ মাসের কনকনে শীতের প্রভাব পড়েছে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায়। কয়েকদিনের ঘন কুয়াশা ও হালকা বাতাস শীতের তীব্রতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে গরম কাপড়ের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের ভিড় বাড়ছে ফুটপাতের পুরোনো শীতবস্ত্রের দোকানগুলোতে।

উপজেলার আটরশি মোড় এলাকায় ফুটপাতে ১৫ থেকে ২০টি অস্থায়ী পুরোনো শীতবস্ত্রের দোকান বসেছে। এসব দোকানে স্বল্প মূল্যে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ধরনের শীতের পোশাক বিক্রি হচ্ছে।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরোনো শীতবস্ত্র কেনাবেচায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা। দোকানগুলোতে ১০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন শীতের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে।

আটরশি মোড়ের ফুটপাতের কাপড় ব্যবসায়ী আজম খান বলেন, “আমাদের কাছে পুরোনো বেল্টের মাল রয়েছে। দেশি-বিদেশি সব ধরনের শীতের কাপড় পাওয়া যায়।”

আরেক ব্যবসায়ী সরোয়ার হোসেন বলেন, “বছরে তিন মাস আমরা পুরোনো শীতের কাপড় বিক্রি করি। শুরুতে তেমন বেচাকেনা না হলেও কয়েকদিনের তীব্র শীতে দোকানে ভিড় বেড়েছে।”

ফুটপাতের দোকানগুলোতে হুডি, মোটা গেঞ্জি, সোয়েটার, জ্যাকেট, শর্ট কোর্ট, লেদার জ্যাকেট, মেয়েদের কার্ডিগান, বেলবেড জ্যাকেট, শিশুদের শীতের পোশাক, কানটুপি, মাফলার ও মোজাসহ নানা ধরনের পুরোনো শীতবস্ত্র বিক্রি হচ্ছে।

ফুটপাত থেকে শীতের পোশাক কিনতে আসা অটোরিকশাচালক রাজু বলেন, “৩০০ টাকায় একটা জ্যাকেট কিনেছি। এটা দিয়েই এ বছর শীত পার করে দেব। আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য ফুটপাতের কাপড়ই ভরসা।”

আরেক শ্রমজীবী রোকন বলেন, “বাচ্চার জন্য দরদাম করে ১৫০ টাকায় একটা সোয়েটার কিনেছি। ধুয়ে আর একটু আয়রন করলেই নতুনের মতো হয়ে যাবে। আমাদের মতো শ্রমজীবীদের জন্য ফুটপাতই সবচেয়ে ভরসার জায়গা।”

সদরপুর স্টেডিয়ামসংলগ্ন সড়কের পাশে ফুটপাতের দোকানদার আমীর হোসেন বলেন, “এ বছর প্রায় এক মাস দেরিতে বেচাকেনা শুরু হয়েছে। আমাদের কাছে সব বয়সী মানুষের শীতের পোশাক রয়েছে। শীত যত বাড়বে, বেচাকেনাও তত বাড়বে।”

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

মন্তব্য