জঙ্গলই মঙ্গল, জঙ্গলের গহীন অরণ্যে জীব-জন্ত বসবাস। আর এদিকে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার রেমা কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের (কালেঙ্গা রেঞ্জের রশিদপুর বনবিট) বনাঞ্চলের অদূরে হাতিমারা চা বাগান কর্তৃপক্ষ বাগান সম্প্রসারণের নামে সম্প্রতি ফলমূল, পশুপাখির খাবার ও আশ্রয়স্থল, গহীন জঙ্গল ও বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান গাছ কেটে বনাঞ্চলে অনিয়মভাবে আগুন দিলে, জীব-জন্তু পুড়ে পরিবেশ-প্রতিবেশ ধ্বংস হয়েছে বলে স্থানীয় ও একাধিক মাধ্যম সূত্রে জানা যায়।
বাগান কর্তৃপক্ষ বনাঞ্চলে প্রায় ১৪০টি পুরাতন আম, জাম, কাঁঠাল, আমলকী, বয়রা, বট ও নানান প্রজাতির মূল্যবান গাছ কেটে নেয়। তারা প্রায় ৩ হেক্টর জায়গা জুড়ে আগুন লাগিয়ে দেয় এবং চা গাছ রোপনের জন্য টিলা কেটে সমতল করে। ফলে বন্যপ্রাণীরা খাদ্য ও বাসস্থান হারিয়ে অন্যত্র চলে যায়। এমন খবর পেয়ে স্থানীয়, জাতীয় পত্রিকা ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিক এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) প্রতিনিধি দল গত সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে চা বাগান কর্তৃপক্ষ তাদেরকে বাধা দেওয়ার ঘটনায় এখন বিভিন্ন সমালোচনা ও উভয়ের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। হাতিমারা চা বাগান বনাঞ্চলে আগুন ও গাছ কাটার ঘটনা আড়ালের চেষ্টায় পরিদর্শনে বাধা, এ গহীন জঙ্গলে মূল্যবান গাছ কেটে আগুন দেওয়ায় যেমন পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে তেমনি জীব বৈচিত্র্যের ক্ষতি সাধিত হয়েছে। পুরনো ও মূল্যবান গাছগুলো কেটে ও জঙ্গলে আগুন লাগিয়ে জায়গাটিকে বিরানভূমিতে পরিণত করা হয়েছে।
গতকাল সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, হাতিমারা চা বাগান বনাঞ্চলে মূল্যবান গাছ কেটে আগুন দেওয়ার স্থল গীর্জাঘর এলাকায় তড়িৎ গতিতে বাগান কর্তৃপক্ষ লাল নিশান দিয়ে শ্রমিক দ্বারা জঙ্গল পরিস্কার ও মূল্যবান গাছগুলো কেটে দ্রæত অপসারণ করছে এবং শ্রমিকরা উক্ত স্থানে নতুন চা গাছ রোপন করতে ব্যস্ত দেখা যায়। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে বাধা দেওয়ায় (বাপা) দল বলেন, বাগান কর্তৃপক্ষ গাছ কেটে আগুন দিয়ে জীবজন্তু পুড়িয়ে পরিবেশ-প্রতিবেশ বিধ্বংসী কর্মযজ্ঞ করছে। সেজন্য ভীত সন্ত্রস্থ হয়ে বাগান কর্তৃপক্ষ বাপা প্রতিনিধি দলকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে দেয়নি।
হাতিমারা চা বাগান ব্যবস্থাপক গোলাম মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা চা বাগান এলাকায় পতিত জমিতে চা গাছ রোপনে জঙ্গল পরিস্কার করে খন্ড খন্ড স্থানে আগুন দিয়ে জঙ্গল পরিস্কার করে চা গাছ রোপন করছি। এই স্থানে বন্য প্রাণী ছিল না বা এমন কোন জীব-জন্তুর ক্ষতি সাধিত হয়নি।




.jpg)

মন্তব্য