সৌদি আরবের সাথে ঐতিহাসিক ত্রিপক্ষীয় সামরিক জোটের তিন সপ্তাহের মাথায় এবার মধ্যপ্রাচ্যের আরেক গুরুত্বপূর্ণ দেশ কুয়েতের সাথে কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করল পাকিস্তান।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এই যৌথ প্রতিরক্ষা ও সামরিক সহযোগিতা চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।
কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ এবং দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘কুয়েত টাইমস’ আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইসলামাবাদে আয়োজিত বৈঠকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ও কুয়েতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ আলি আবদুল্লাহ আল-সালেম আল-সাবাহ নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। বৈঠকে দুই পক্ষ মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার চলমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, সামরিক প্রযুক্তি বিনিময় এবং দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সমন্বিত প্রশিক্ষণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। আলোচনার চূড়ান্ত পর্যায়ে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন দুই প্রতিরক্ষামন্ত্রী। এ সময় কুয়েতি সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল খালিদ আল শারিয়ান এবং রাষ্ট্রদূত নাসের আব্দুলরহমান আল-মুতাইরি উপস্থিত ছিলেন।
চুক্তি স্বাক্ষর শেষে কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, মধ্যপ্রাচ্য ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা রক্ষায় চুক্তিটি বড় ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে দুই দেশের সেনাবাহিনীর পেশাগত সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের নতুন দ্বার উন্মোচিত হলো।
ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি ও প্রভাব জোরদারে পাকিস্তান একের পর এক বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর আগে গত ৭ আগস্ট পবিত্র মক্কা নগরীতে সৌদি আরব ও তুরস্কের সাথে বহুল আলোচিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সই করেছিল ইসলামাবাদ। ওই ঐতিহাসিক চুক্তিতে যেকোনো এক দেশের ওপর হামলাকে অপর দুই দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করার অঙ্গীকার করা হয়। এর পরপরই কুয়েতের সাথে এই নতুন চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে পাকিস্তানের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুসংহত করল।






মন্তব্য