শহীদ বুদ্ধিজীবীদের ঠাঁই হৃদয়ে- শ্রদ্ধায়-ভালোবাসায় বলে জানিয়েছেন কবি নজরুল কলেজ ছাত্রলীগ নেতা ইয়াসিন আল অনিক।তিনি আরও বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের রেখে যাওয়া আদর্শ ও পথ অনুসরণ করে অসাম্প্রদায়িক এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক সমাজ গড়তে পারলেই তাদের আত্মত্যাগ সার্থক হবে। একইভাবে বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগের পথ বেয়ে বাংলাদেশ সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলায় পরিণত হলেই তাদের প্রত্যাশা পূরণ হবে।
ছাত্রলীগ নেতা ইয়াসিন আল অনিক বলেন, ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর বিজয়ের সেই উষালগ্নে এ জাতিকে মেধাশূন্য করতে নারকীয় বুদ্ধিজীবী হত্যাযজ্ঞ চালায় পাকিস্তানি হানাদার ও তাদের এদেশীয় দোসররা।
মুক্তিযুদ্ধের পুরো নয়মাসেই পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের জ্ঞানী-গুণি ও মুক্তবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষদের হত্যা করেছে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।তবে ডিসেম্বরে যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে এসে পাকিস্তানি বাহিনী যখন বুঝে ফেলে যে, তাদের পক্ষে যুদ্ধে জেতা সম্ভব নয়, তখনই তারা নবগঠিত দেশকে সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও শিক্ষাগত দিক থেকে দুর্বল ও পঙ্গু করে দেওয়ার নীলনকশা করে।
তিনি আরও বলেন, সে পরিকল্পনা অনুসারে ১০ ডিসেম্বর থেকে ১৪ ডিসেম্বর রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর দেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর ও আল শামস বাহিনীর সদস্যরা দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে তুলে এনে নির্মম নির্যাতনের পর হত্যা করে।রাজধানী ঢাকায় কবি-সাহিত্যিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ, গবেষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক ও বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের বেছে বেছে হত্যা করে জামায়াতের ঘাতক স্কোয়াড ইসলামী ছাত্রসংঘের রূপান্তরিত আলবদর বাহিনী।
অনিক বলেন, স্বাধীন জাতি হিসেবে যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশ যেন মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে, সেজন্যই ছিলো এই ঘৃণ্য পৈশাচিকতা।দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তাদের ক্ষত-বিক্ষত ও বিকৃত মরদেহ রায়েরবাজারের পরিত্যক্ত ইটখোলা ও মিরপুর বধ্যভূমিতে পাওয়া যায়। মরদেহে ছিলো নিষ্ঠুর নির্যাতনের চিহ্ন। অনেকের চোখ, হাত-পা বাঁধা ছিলো। কারো শরীর গুলিতে ঝাঁঝরা, কাউকে হত্যা করা হয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে। অনেকের মরদেহ শনাক্তও করা যায়নি, পাওয়াও যায়নি বহু বুদ্ধিজীবীকে। হানাদারদের পৈশাচিকতায় স্তম্ভিত হয়ে পড়ে গোটা বিশ্ব।জাতি হারায় তার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের।
তিনি আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের এই পরাজিত শক্তি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করে। এই সন্ত্রাসী-জঙ্গিগোষ্ঠী ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দেশে সন্ত্রাসী ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। তারা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচন বানচাল করতে দেশব্যাপী আগুন সন্ত্রাস চালায়। তারই ধারাবাহিকতায় ২০২০ সালেও সন্ত্রাসী-জঙ্গিগোষ্ঠী সক্রিয়। তাদের প্রতিহত করার এখনই সময়।
আসুন যুদ্ধাপরাধী ও জামায়াতচক্রের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবাই ঐক্যবদ্ধ হই। এটাই শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আমাদের অঙ্গীকার।






মন্তব্য