মাদারীপরে পিসিআর ল্যাব স্থাপনের দাবি জোড়ালো হচ্ছে

  • মাদারীপুর প্রতিনিধি
  • রবিবার, ১৪ জুন ২০২০ ০৮:৫৫:০০
  • কপি লিঙ্ক

মাদারীপুরে দিন দিন পিসিআর ল্যাব স্থাপনের দাবি জোড়ালো হচ্ছে। চলতি বছরের ৮ মার্চ দেশের প্রথম ৩জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়। তাদের একজন মাদারপুরের এবং করোনার কারনে দেশের প্রথম লকডাউন ঘোষণা করা হয় মাদারীপুরের শিবচরকে। তাই করোনা ঝুঁকি বিবেচনায় মাদারীপুরে করোনা টেস্টের জন্য পিসিআর ল্যাব স্থাপনের দবি জানিয়েছে মাদারীপুরের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।

করোনা ভাইরাসের কারনে বিপর্যস্থ গোটা বিশ্ব। নতুন প্রজাতির এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট এবং কার্যকরী কোন প্রতিষেধক বা টিকা যখন সুদূর প্রত্যাশী, রোগের বিস্তার রোধে অসহায় বিশ্ব যখন পুরোটাই নির্ভর করে আছে লকডাউন পদ্ধতি এবং সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার উপর। তা কার্যকর করতে হলে ল্যাব টেস্টের ভিত্তিতে সম্ভাব্য করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীকে চিহ্নিত করা এবং সে অনুযায়ী অন্যদের থেকে আলাদা রাখা। কিন্তু শুধু মাত্র টেস্ট কম হওয়ার কারণে ও রিপোর্ট পেতে বিলম্ব হওয়ার কারণে করোনা মাদারীপুরে ব্যপক ও শঙ্কা জনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

পিসিআর ল্যাব স্থাপনের দাবি দিন দিন গণ দাবিতে পরিনত হচ্ছে। সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এখন পিসিআর ল্যাব স্থাপনের দাবিতে আন্দোলনের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ঝড় বইছে। এই দাবি তুলে ইতিমধ্যে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিরা।

মাদারীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি মাসুদ পারভেজ বলেন, এখন সারাদেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমিত হয়েছে। আমাদের মাদারীপুরে করোনার বিস্তার ব্যপক হারে ছড়িয়েছে। 

মাদারীপুর জেলাতে করোনা শনাক্তের জন্য পিসিআর ল্যাব না থাকায় নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকাতে পাঠাতে হয়। এই রিপোর্ট আসতে এক সপ্তাহ সময় লেগে যায়। এর মধ্যে কোন ব্যক্তি করোনা সংক্রমিত হলো কিনা জানা যাচ্ছে না। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তির আইসোলেশন বা চিকিৎসার সুযোগও তৈরি হচ্ছেনা। এতে আক্রান্ত ব্যক্তি যেমন ঝুঁকিতে পড়েন। কখনো বা মারা যায়। তেমনি অন্যদের মাঝে রোগটির সংক্রমন বেরে যায়। তাই অনতিবিলম্বে মাদারীপুরে পিসিআর ল্যাব স্থাপনের দাবি করছি।

মাদারীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বেলাল রিজভী জানান, মাদারীপুর দিন দিন করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত মাদারীপুর জেলা। মাদারীপুরে একাধিক করোনা রোগী উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়ার ৩/৪দিন পরে জানা গেছে তারা করোনা পজেটিভ ছিলেন। এতে করে সাধারণ মানুষের মাঝে সংক্রমন বেড়েছে। 

এছাড়াও জেলার ৪টি উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সোয়াব দেবার জন্য করোনা রোগীদের ভিড় দিন দিন বাড়ছে। সংগ্রহ করা সোয়াব ঢাকায় পাঠিয়ে ফলাফল জানতে বেশ সময় লাগছে। অনেক সময় পেন্ডিং অবস্থায় থাকছে রিপোর্ট, তাই রোগীদের চিকিৎসা, আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টে সময় মত রাখা যাচ্ছেনা। 

দেখা যাচ্ছে কোন রোগী যদি করোনা আক্রান্ত হয়ে থাকেন রিপোর্ট আসার আগেই তিনি অন্যান্য লোকজনের সাথে মিশে করেনার সংক্রমন ঘটাচ্ছেন। তাই করোনা শনাক্তকরন পিসিআর ল্যাব স্থাপন খুব জরুরী। একই সাথে আইসিইউ স্থানের দাবিও জানান তিনি।

 

বাংলাদেশ জমিন/ সংবাদটি শেয়ার করুন

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

মন্তব্য