লালমনিরহাটে রাতে পুলিশের ত্রাণ বিতরণ

  • মো. রেজাউল করিম, লালমনিরহাট:
  • শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২০ ০১:৩৪:০০
  • কপি লিঙ্ক

করোনা ভাইরাস নিয়ে সাড়া দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে, ঠিক তার মধ্যেই করোনা প্রতিরোধে ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ গ্রহণ করে সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছেন লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহফুজ আলম।

বুধবার রাতে করোনার প্রভাবে গত কয়েক সপ্তাহ থেকে কাজে বের হতে না পারা কর্মহীন মানুষের বাড়ি বাড়ি জেলা পলিশ সুপারের ত্রাণ নিয়ে হাজির হন সদর থানার ওসি মাহফুজ আলম। 

খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে প্রতি পরিবারের জন্য চাল, মসুর ডাল, আলু, সাবান ও তৈল। এসব খাদ্যসামগ্রী সদর উপজেলার  প্রতিটি ইউনিয়নের অংশ হিসেবে গোকুন্ডা ইউনিয়নে করোনা আক্রান্ত গুড়িয়াদহ গ্রামেঝুঁকি নিয়ে ওসি মাহফুজ আলম নিজে বিতরণ করেন। দরজায় ডাক দিয়েই হাতে ধরিয়ে দেন ত্রাণের ব্যাগ। যাদের ঘরে খাবার নেই, কিন্তু কাউকে আবার বলতে পারছেন না। এমন কর্মহীন মানুষগুলো রাতের আঁধারে ত্রাণ পেয়ে বেশ আনন্দিত।

সদর উপজেলার করোনা আক্রান্ত গুড়িয়াদহ গ্রামে লকডাউনে থাকা গৃহিণী দুলালী বেগম, হামিদুলের স্ত্রী শিমা বেগম জানান, গ্রাম লকডাউন হওয়ায় কেউ কাজে নেয় না। আমরা সন্তানদের নিয়ে বেশ কষ্টে আছি। এ অবস্থায় ঘরে খাবার নেই। কিন্তু সে কথা কাউকে বলতেও পারছি না। 

তারা বলেন, সবাই ত্রাণ দিয়ে ছবি তুলতে চায়। এবার প্রথম ত্রাণ পেলাম। এভাবে খবর নিয়ে যদি সবাই রাতে ত্রাণদিত তবে দেখা যেত আমাদের মতো অনেক নিম্নমধ্যবিত্ত অসহায় মানুষ যে কত কষ্টে আছে।এছাড়াও প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে গুড়িয়াদহ গ্রামে লকডাউন এলাকার খোঁজখবর নেন

সদর থানার ওসি মাহফুজ আলম বাংলাদেশ জমিনকে জানান, অসংখ্য পরিবার এখন অনেক কষ্টে আছেন। বিশেষ করে কোয়ারিন্টে থাকা পরিবার, দিনমজুর, চা বিক্রেতা বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তারা কারও কাছে বলতে পারছেন না। তিনি আরও বলেন, তাদের দুঃখের কথা চিন্তা করেই এলাকা ভিত্তিক তালিকা তৈরি করি। আর রাতে তাদের বাড়িতে নীরবে ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছি।

ওসি আরও বাংলাদেশ জমিনকে বলেন, বিনা প্রয়োজনে ঘরের বাহিরে বের হবেন না। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে সকলকে সরকারী নির্দেশনা মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সবাইকে নিরাপদে ঘরে থাকার আহবান জানান।
 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

মন্তব্য