"২০২০-২১অর্থবছর: বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের বাজেট ভাবনা"

  • গোপালগঞ্জ (বশেমুরবিপ্রবি) প্রতিনিধি
  • সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২০ ০১:৩২:০০
  • কপি লিঙ্ক

বাজেট ২০২০-২১ অর্থবছর বাংলাদেশের সরকারের দুঃসাহসিক চ্যালেন্জ মোকাবিলায় গৃহীত এক অভিযান। উচ্চ শিক্ষায় দেশের ৪৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ২০২০-২১ অর্থবছরে ৮ হাজার ৪৮৫ দশমিক ১২ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। তন্মধ্যে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পেয়েছে ৫৪ কোটি ২লাখ টাকার বাজেট। যাতে বিশ্ববিদ্যালয় মূলধন ২২ কোটি এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে  অনুদান পেয়েছে ৩২ কোটি ২ লাখ টাকা। বাজেটে কর্মকর্তা, কর্মচারীদের বেতন বাবদ বরাদ্দ ২৮ কোটি ১২ লাখ। তাছাড়া ভাতাদি বাবদ সহায়তা ১১ কোটি ৪৯ লাখ।পণ্য ও সেবা বাবদ সহায়তা ১৯ কোটি ৩৯ লাখ।গবেষণা খাতে বরাদ্দ পেয়েছে ৭৫ লাখ যা পূর্বের বছরের তুলনায় ৩৫ লাখ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া যন্ত্রপাতি, যানবাহন, তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি ও অন্যান্য খাতে অনুদান পেয়েছে ৫ কোটি ৭০ লাখ।

ঘোষিত বাজেট নিয়ে ভাবনা জানতে শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তুলে ধরেন তাঁদের আশা এবং হতাশা। 

বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সিকদার মাহবুব জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ অর্থ বছরের এই বাজেট টি হতে পারতো আরও বেশি গুরুত্ব বহ কারণ ১২০০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত একটি প্রতিষ্ঠান তার যে অবকাঠামো গত উন্নয়ন নেই বললেই চলে।বিগত বছরগুলোতে যে পরিমাণ বাজেট অবকাঠামো উন্নয়নে ছিলো তা ও দেখা গেছে বাস্তবায়ন হয়নি। এখানে নেই শিক্ষার্থীদের আবাসন সুবিধা,  পর্যাপ্ত ক্লাস রুম,আলাদা কোন চিকিৎসা কেন্দ্র।নেই ছাত্র -শিক্ষক মিলন কেন্দ্র (টি এস সি),ক্যাফেটেরিয়া থাকলেও তা নাম মাত্র,বঙ্গবন্ধুর নামে বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে বঙ্গবন্ধুর মুরাল বানানোর কথা থাকলেও আজও তা দৃশ্য মান না।

অন্য দিকে বিশ্ববিদ্যালয়টি একটি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে অধিকাংশ শিক্ষার্থী বিজ্ঞান বিষয়ে অধ্যয়নরত, বিশ্ববিদ্যালয় দিতে পারছেনা পর্যাপ্ত গবেষণা সুবিধা, শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে না প্রয়োগিক জ্ঞান। যেখানে এই অর্থ বছরে গবেষণা ব্যায় ৭৫ লাখ টাকা।  বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪ বিভাগের ১২০০০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য তা যথেষ্ট নয়।

সীমিত বাজেট থাকা সত্যেও নেই তার সঠিক বাস্তবায়ন। বিশ্ববিদ্যালয়টি আঞ্চলিক হওয়ায় অধিকাংশ শিক্ষার্থী নিম্নমধ্যবিত্ত বা মধ্যবিত্ত পরিবারের। এই মহামারীর বছরে তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা পর্যাপ্ত অর্থ ব্যবস্থা থাকা উচিত ছিলো।

ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ইলেকট্রিক্যাল এবং ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আসিকুর রহমান বলেন, টাকার অঙ্কে বেশ ভালো একটি বাজেট এটি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়কে যে ২২ কোটি টাকার মত আয় করতে হবে আমার মত বিরোধ এখানেই! ২২ কোটি যা মোট বাজেটের ৪০% এরও বেশি তা সরাসরি শিক্ষার্থীদের উপর চাপিয়ে দেওয়াটা অন্যায়।

এরপর বাজেট বণ্টনে দেখা যাচ্ছে গত বছরের তুলনায় এবছর গবেষণা খাতে কিছু টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে যা যথেষ্ট নয়, একইসাথে মেডিকেল সেক্টরের বাজেটও যথেষ্ট নয় এবং হল ক্যান্টিনে ভর্তুকি সংযুক্তি আবশ্যক।

বিজ্ঞান অনুষদের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী রাহুল মজুমদার জানান,করোনা সময়ে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাস্তব চিত্র অত্যন্ত শোচনীয়।অথচ, এই মহামারীতে কতই না কার্যকর ভুমিকা রাখতে পারত বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি গুলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ হলো গবেষণা। এবারের বাজেটে গবেষণায় খাতে বৃদ্ধি সবচেয়ে সন্তোষজনক। তবে পর্যাপ্ত গবেষণা দীক্ষক ও বাড়ানো অতি জরুরী।

জীব বিজ্ঞান অনুষদের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সানজিদা আরসি অর্ণা জানান,বাজেট কম কিংবা বেশি হলেও সফলতা নির্ভর করে তা সঠিক বাস্তবায়নের ওপর এবং নিরপেক্ষ জবাবদিহিতার ওপর বিগত বছরের বাজেটে ব্যপক হরিলুট হয়েছে তবে দেখার বিষয় এবারের বাজেট প্রতিফলন কেমন হয়।দুর্নীতি আর অস্বচ্ছতা রুখতে না পারলে বাজেট এর চেয়ে শতগুন বাড়লেও বৃথা। 

মানবিকী অনুষদের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আরমান খান জানান, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় নতুন প্রতিষ্ঠিত এজন্য অন্য সকল বিশ্ববিদ্যালয় এর বাজেটের অঙ্কের সাথে মিলিয়ে লাভ নেই তবে বাজেটে বড় অংশই কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের বেতনের অন্তর্ভুক্ত। ইউজিসির অনুদান ও অনেক কম। সার্বিক দিক বিবেচনায় বাজেটে শিক্ষার মান উন্নয়নে আরো তৎপর হওয়া উচিত ছিল।

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আঞ্জুমান আরা জানান, করোনা পরিস্থিতিতে পুরো দেশের অবস্থাই ভয়াবহ,ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি। এর মধ্যে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ও ক্ষুদ্র বাজেট অপূর্ণতার পাল্লাই বেশী ভারী।বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাস্থ্য খাত নিয়ে বরাবরই ভঙ্গুর।এ বিষয়ে নজর প্রয়োজন।তাছাড়া বাজেট বাস্তবায়নে সঠিক জবাবদিহিতাও বাড়ানো প্রয়োজন।

আইন অনুষদের শিক্ষার্থী মো: শামসুদ্দোহা জানান, বাজেটটি সাধারণ শিক্ষার্থীবান্ধব হয়েছে বলে মনে হয়না। বশেমুরবিপ্রবির সেশন চার্জ, হল ভাড়া কমানো সহ আরো বিভিন্ন শিক্ষাব্যয় হ্রাস সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে অনেক দিন ধরেই শিক্ষার্থীরা অভিযোগ পর্ব চালিয়ে আসছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় বেশিরভাগ ডিপার্টমেন্টে পর্যাপ্ত শিক্ষক এবং ক্লাসরুম না থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা ঠিকমত ক্লাসই করতে পারছেন না । তাছাড়া  হলব্যবস্থা , অতিরিক্ত ভর্তি ফি ,সেমিস্টার ফি এর জন্য শিক্ষার্থীদের বেড়ে চলেছে নানাবিধ সমস্যা।রয়েছে করোনা প্রকোপ এবং আম্ফান তাণ্ডব এর মধ্যে শিক্ষার্থী পরিবার চলতেই হিমশিম সাথে রয়েছে মেস ভাড়া সংক্রান্ত সমস্যা।তাই এবারের বাজেটটি শিক্ষার্থীদের জন্য আরো বেশী উপযোগী হওয়া উচিত ছিল।

শেখ হাসিনা কৃষি ইনস্টিটিউট অনুষদের মৎস ও সামুদ্রিক জীববিজ্ঞান অনুষদের সানজিদা দিপ্তি জানান, এবারের গবেষণা খাতে বেশ বাজেট বৃদ্ধি যা অনেকটা সন্তোষজনক কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ল্যাবই অপর্যাপ্ত, নেই তেমন কোনো যন্ত্রাংশও।তাছাড়া লাইব্রেরির বাজেট এবং বই একেবারে নেই বললেই চলে। দ্রুতই শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে বিভাগ সম্পর্কিত বই বাড়ানো দরকার।

 

বাংলাদেশ জমিন/ সংবাদটি শেয়ার করুন

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

মন্তব্য