<p class="solder">প্রতিবেদন আদালতে দাখিল</p>

সালমান শাহ'র সঙ্গে সারারাত ছিলেন নায়িকা শাবনূর

  • বিজমিন২৪ ডেস্ক:
  • মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০ ১২:০০:০০
  • কপি লিঙ্ক

চিত্রনায়ক সালমান শাহ'র মৃত্যুর কারণ আত্মহত্যা উল্লেখ করে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মঙ্গলবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে ৬০০ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন পিবিআইয়ের পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম।

এ বিষয়ে আদালত পুলিশের নন-জিআর শাখার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের এসআই আনিছুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, আগামীকাল (বুধবার) ঢাকা মহানগর হাকিম বাকী বিল্লাহর আদালতে ওই তদন্ত প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হবে। তবে তদন্ত প্রতিবেদনের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে নির্ধারিত তারিখ ৩০ মার্চ শুনানি হবে।

আদালতে পাঠানো ওই তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিত্রনায়ক সালমান শাহ ও শাবনূরের মধ্যে অতিরিক্ত অন্তরঙ্গতা তৈরি হয়। সালামানের স্ত্রী সামিরা চট্রগ্রামে গেলে নায়িকা শাবনূর দুইদিন সালমান শাহের বাসায় আসে। একদিন সারারাত ছিল, অন্যদিন রাত ১২টার দিকে চলে যায়।

সামিরা চট্রগ্রাম হতে এসে জানতে পারে যে, নায়িকা শাবনূর বাসায় এসেছিল। সালমানের সঙ্গে শাবনূরের এই অন্তরঙ্গতা নিয়ে স্ত্রী সামিরার সাহিত ব্যাপক দাম্পত্য কলহের সৃষ্টি হয়। সালমান স্ত্রী সামিরাকে খুব ভালোবাসতো। পাশাপাশি শাবনূরের সঙ্গে ঘনিষ্ট সম্পর্ক বাজয় রাখতো। এ কারণে দাম্পত্য কলহের এক পর্যায়ে সালমান শাহ জটিল সম্পর্কের বেড়াজালে পড়ে যায়।

এছাড়া, ১৯৯১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ফোন করা নিয়ে মায়ের সঙ্গে ঝগড়ার জেরে নিজ বাসায় সে ইনোক্টিন ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। এছাড়া ১৯৯২ সালে নভেম্বর মাসে কেয়ামত থেকে কেয়ামত ছবির শুটিংয়ের সময় সামিরার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে তার মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করে সালমান শাহ স্যাভলন খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।

সালমান শাহের সঙ্গে তার মা নীলা চৌধুরীর সম্পর্ক ভলো ছিলো না। কারণ সালমান শাহের স্ত্রী সারিার সঙ্গে নীলা চৌধুরীর ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকতো। এক পর্যায়ে সালমান শাহ অতিষ্ট হয়ে সামিরাকে নিয়ে আলাদা বাসা নিতে বাধ্য হয়। পরে সালমান তার মা নীলা চৌধুরীকে প্রতি মাসে হাত খরচ বাবদ এক লাখ টাকা দিত।

সংসার জীবনে সালমান শাহের জীবনে কোন সন্তান হয়নি। তাই সাক্ষী ডলির ছেলে ওমরকে সালমান শাহ সন্তানের মতো ভালোবাসতো। ওমর সালমান শাহকে বাবা বলে ডাকতো। পরবর্তীতে ডলির ছেলে ওমরকে দত্তক নিতে চেয়েছিল। কিন্তু ডলির জোর আপত্তির কারণে দত্তক নেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে সালমান শাহের সংসার জীবনে সন্তান না হওয়ার অপূর্ণতা থেকে যায়। এ কারণে হতাশা ছিল। তাই চিত্রনায়ক সালমান শাহ আত্মহতা করেছে, তার মৃত্যু পরিকল্পিত কোন হত্যাকাণ্ড ছিল না মর্মে তদন্তে প্রাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক সালমান শাহ (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) ঢাকার ইস্কাটনের ফ্ল্যাটে মারা যান। তখন একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছিলেন তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে- এমন অভিযোগে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই অভিযোগটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তর করার আবেদন করা হয়। তখন অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেয় আদালত। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে সিআইডি জানায়, সালমান শাহ আত্মহত্যা করেন। সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে কমরউদ্দিন চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন।

 

মন্তব্য