ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার মিঠাপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গোপাল মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি প্রতিপক্ষ সারতী মণ্ডল ও গৌরাঙ্গ মণ্ডলের বিরুদ্ধে ফরিদপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। গোপাল মণ্ডল তার অভিযোগে প্রতিপক্ষকে দুর্দান্ত, লাঠিয়াল ও লোভী প্রকৃতির বলে উল্লেখ করেছেন।
মামলার বাদী গোপাল মণ্ডল আদালতকে জানিয়েছেন যে, মিঠাপুর মৌজার বিএস খতিয়ান ৮৬ ও ২৯২০ অনুযায়ী ১৪ ও ৩০ শতাংশ জমির মধ্যে মোট ২০ শতাংশ জমি তার পৈতৃক সম্পত্তি। এই সম্পত্তির বিএস রেকর্ড তার পিতা, কাকা ও দাদীর নামে রয়েছে। পিতার মৃত্যুর পর তিনি উত্তরাধিকারসূত্রে এই জমির দখলদার হন এবং দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন। জমিতে তার বসতবাড়ি, বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছপালা রয়েছে।
বাদী আরো অভিযোগ করেন যে, প্রতিপক্ষরা লোভের বশবর্তী হয়ে গত ২০ জুন, ২০২৫ তারিখে সকাল ১০টার দিকে বেআইনিভাবে দলবদ্ধ হয়ে তার জমিতে জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা করে। তারা জমির মূল্যবান গাছপালা ও বাঁশ কেটে নেওয়ার এবং পাকা ঘরবাড়ি নির্মাণের চেষ্টা চালায়। গোপাল মণ্ডল বাধা দিলে প্রতিপক্ষরা তাকে শাসিয়ে যায় এবং হুমকি দেয় যে, তারা আবার লোকজন নিয়ে এসে জোরপূর্বক জমি দখল করবে, গাছপালা ও বাঁশ কেটে নেবে এবং পাকা ঘর নির্মাণ করবে।
গোপাল মণ্ডল তার আবেদনে আরও উল্লেখ করেন যে, প্রতিপক্ষরা যেকোনো মুহূর্তে তার দখলীয় সম্পত্তিতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে ক্ষয়ক্ষতি করতে পারে। তিনি বাধা দিতে গেলে খুন-জখমের মতো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। এই কারণে তিনি আদালতে আবেদন করেছেন যেন তপশীল বর্ণিত সম্পত্তিতে তাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়।
বাদী আদালতকে ফৌঃকাঃবিঃ ১৪৪ ধারা অনুযায়ী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারির অনুরোধ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি জমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখা, প্রতিপক্ষকে প্রবেশ ও কোনো ধরনের নির্মাণ কাজ থেকে বিরত রাখার জন্য নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন জানিয়েছেন। এছাড়া, সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আলফাডাঙ্গা থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়ার জন্যও তিনি আবেদন করেন।
মামলায় অভিযুক্ত দ্বিতীয় পক্ষ সারতী মণ্ডল ও গৌরাঙ্গ মণ্ডলের মুঠোফোনে বারবার চেষ্টা করা হলেও নাম্বারটি বন্ধ থাকায় ক যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
থানার ওসি শাহজালাল আলম জানান , এ বিষয়ে কোর্টে মামলা হয়েছে তাই মন্তব্য করতে চাইনা।






মন্তব্য