বাংলা নববর্ষ উদযাপনে একমঞ্চে দাঁড়ালেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী এবং ফরিদপুরের চার সংসদ সদস্য। নতুন বছরে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তারা। একইসঙ্গে পুরাতন বছরের ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে ফরিদপুরের উন্নয়নে একসঙ্গে পথ চলার অঙ্গীকার করেছেন। সবার অংশগ্রহণে নববর্ষের অনুষ্ঠানটি মিলনমেলায় পরিণত হয়।
নতুন বছর মানেই একটি নতুন সম্ভাবনা। নতুন বছরে, নতুন দিনের এ উদযাপনে পুরোনো বছরের ব্যর্থতার গ্লানি, অক্ষমতার আক্ষেপ কাটিয়ে নতুন উদ্যমে পথচলা। সব প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে প্রগতির পথে দৃপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে যাওয়া। তাইতো ফরিদপুরেও বিগত দিনের সব ভেদাভেদ ভুলে নববর্ষ উদযাপন করলেন মন্ত্রী ও চার সংসদ সদস্য।
রোববার (১৪ এপ্রিল) নববর্ষের সকালে জেলা প্রশাসকের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের বাসভবনে নতুন বর্ষকে বরণে পান্তা-ইলিশের আয়োজন করা হয়। সেখানে অংশ নেন ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মো. আব্দুর রহমান, ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শাহদাব আকবর, ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এ কে আজাদ, ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরী ও সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য ঝর্না হাসান।
এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামিম হকসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ সামিল হন।
পরে সকাল ৯টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বেলুন উড়িয়ে নববর্ষের অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মো. আব্দুর রহমানসহ অতিথিরা। এরপর শুরু হয় আলোচনা সভা। আলোচনা সভা শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
সকাল থেকেই মানুষের ঢল নামে বিভিন্ন সড়কে। পোশাকে ছিল লাল-সাদার প্রাধান্য। নারীরা লাল-সাদা শাড়ি, কাচের চুড়ি, দুল-মালায় বাঙালিয়ানার সাজে সেজেছেন। পুরুষের গায়ে অনুরূপ রং-নকশার পাঞ্জাবি। অনেকের মাথায় ছিল লাল-সবুজ জাতীয় পতাকার ছাপ দেওয়া ব্যান্ড। মঙ্গল শোভাযাত্রায় নানা শ্রেণিপেশার মানুষ বাদ্য বাজিয়ে পালকি, গরুর গাড়ি সহ গ্রাম বাংলার বিভিন্ন ঐতিহ্য হাতে নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী এবং ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুর রহমান বলেন, ‘যিনি এ মিলনমেলার আয়োজন করেছেন তার প্রশংসা করার মতো ভাষা আমার জানা নেই। রাজনীতি করার সুবাদে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় আমি গিয়েছে। কিন্তু ফরিদপুরের এ অনুষ্ঠানের মতো কোনো আয়োজন আমি দেখিনি। ফরিদপুরের সন্তান হিসেবে আমি গর্ববোধ করি। আমাদের জেলা প্রশাসকের যে সৃষ্টিশীল চিন্তা তা আমাকে অভিভূত করেছে। তার মধ্যে একটি বিষ্ময়কর প্রতিভা আছে। তার এই প্রতিভা আগামী দিনে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রীর স্মার্ট বাংলাদেশে পরিনত করতে একটা বড় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের সকলেরই আকাঙ্ক্ষা, জাতির প্রত্যাশা, পুরাতন বছর মানে কী, একটা বদ্ধ জলাশয় রেখে নতুন বছরের স্রোতস্বিনী একটা জায়গায় আমাদের যাওয়ার। যেটা চলমান থাকবে। সেই পুরাতনকে ছেড়ে আমরা নতুনকে আগলে ধরবো এটাই হলো আমাদের বর্ষবরণের মূল কারণ।’
মন্ত্রী বলেন, ‘বিগত দিনের সব ভেদাভেদ, ভুল বোঝাবুঝি সবকিছু আমরা একদম ঝেড়ে ফেলে নতুন দিগন্তের উন্মোচনের জন্য নতুন সূর্যকে আলিঙ্গন করব এবং সকলে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমরা আমাদের বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার বিরামহীন পথচলায় সহযোগিতা করবো। মনে রাখতে হবে বঙ্গবন্ধু কন্যা আছেন এ বাংলাদেশ আছে। তিনি আছেন বলেই বাংলাদেশে নববর্ষ উদযাপন হয়। বাঙালির আবহমান কালের যে সংস্কৃতি সেই সংস্কৃতিকে বুকে ধারণ করে এক কাতারে দাঁড়িয়ে সকলে মিলেমিশে কাজ করতে চাই। এই ফরিদপুরকে একটি নতুন ফরিদপুর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এ ফরিদপুর থেকে মাদক, সন্ত্রাস দূর হোক। ফরিদপুরের সামগ্রিক জনগোষ্ঠীর মুখে হাসি ফোটাতে কাজ করছি আমরা।’
ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরী বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এধরনের একটা আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানাই। যেখানে সব সংসদ সদস্য, নেতাসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নিয়েছেন। আপনারা দোয়া করবেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার জন্য, উনি যেন দীর্ঘজীবী হন। যাতে করে তিনি (শেখ হাসিনা) বারবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে শুধু ফরিদপুর নয় সারা দেশের উন্নয়ন করতে পারেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশে পরিনত করতে পারেন।’
জেলা প্রশাসনের এধরনের আয়োজনকে সাধুবাদ জানিয়ে ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শাহদাব আকবর লাবু চৌধুরী বলেন, ‘প্রথমবারের মতো সব সংসদ সদস্যর অংশগ্রহণে নববর্ষে এ ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করায় জেলা প্রশাসককে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।’
তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তার হাতকে আরও শক্তিশালী করতে আমরা সব কিছু ভুলে দেশকে এগিয়ে নিতে একসঙ্গে কাজ করি এই হোক আজকের দিনে আমাদের প্রত্যয়।’
ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য এ কে আজাদ বলেন, ‘মন্ত্রী ও চার জন সংসদ সদস্যকে একমঞ্চে হাজির করা একটা দুঃসাধ্য কাজ। সেই কাজটি করেছেন জেলা প্রশাসক, অসাধারণ একটি কাজ করেছেন তিনি। এর বাইরেও অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য তিনি টেলিফোনে অনেককে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। একারণে সংসদ সদস্য হিসেবে জেলা প্রশাসককে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাই।’
এ কে আজাদ বলেন, ‘জেলা প্রশাসককে অনুরোধ করবও তিনি যেন সংসদীয় আসনের ৪টি এলাকাতেই এধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন, যাতে আমরা সবাই একসঙ্গে কথা বলতে পারি। নববর্ষের দিনে আমাদের শপথ হোক জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন শোষণহীন সমাজ ব্যবস্থা অর্থাৎ সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করার জন্য তার সেই অসমাপ্ত কাজ শেষ করছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার হাতকে শক্তিশালী করে আগামী দিনে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে এই প্রত্যয় ব্যক্ত করি।’
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. কামরুল আহসান তালুকদার বলেন, ‘আমরা সবার মাঝে দেখতে চাই, যেন এটা মঞ্চের কথা না হয়। আমরা এ কথাগুলো বাস্তবায়ন দেখতে চাই। এ মঞ্চে যারা উপস্থিত আমরা যদি ফরিদপুরকে গঠন করতে না পারি, তাহলে আর কেউ ওহি নাজিল করবে না ফরিদপুর গঠনের জন্য। আমরা সবাই মিলে এমন একটি ফরিদপুর গঠন করব, যা দেখতে সারা বিশ্ববাসী তাকিয়ে থাকবে। এই ফরিদপুর হবে মডেল ফরিদপুর, এই ফরিদপুর হবে স্বাবলম্বী ফরিদপুর। এ ফরিদপুরকে নিয়ে আমরা গর্ব করব।’
নতুন বছরে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের এবং নতুন সূর্যকে আলিঙ্গন করে সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একযোগে কাজ করার যে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তা যেন অটুট থাকে প্রত্যাশা ফরিদপুরবাসীর।






মন্তব্য