কেরানীগঞ্জে অনৈতিক সম্পর্কের জেরে স্বামী-স্ত্রী মিলে যুবককে হত্যা

  • অনলাইন
  • বৃহস্পতিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৩ ১০:১১:০০
  • কপি লিঙ্ক

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বাঘাসুর পশ্চিমপাড়া এলাকায় সিংহ নদী থেকে একটি কঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তার দুজনের মধ্যে একজন নারী (২৪) এবং অন্যজন আলাল মোল্লা (৩৫)। ২২ নভেম্বর বাঘাসুর পশ্চিমপাড়ায় গ্রামের বাড়ি থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গতকাল বুধবার রাজধানীর ধানমণ্ডিতে পিবিআইয়ের প্রধান কার্যালয়ে ঢাকা জেলা ইউনিটের ইনচার্জ পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা বলেন, ‘ওই কঙ্কাল একই এলাকার রুমান শিকদারের (৩৯)।

গ্রেপ্তার দুই আসামি রুমান হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।’
জবানবন্দির উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ জানায়, অনৈতিক সম্পর্কের ঘটনা স্থানীয় লোকজনের কাছে ফাঁস করায় ওই নারীর পরিকল্পনায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। পরে ঘাতকরা সিংহ নদীর পারে মরদেহ মাটিচাপা দেন। এই ঘটনায় ওই নারীর স্বামী আগেই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন।

পুলিশ সুপার বলেন, ‘ওই নারী ও রুমান শিকদার প্রতিবেশী। নারীর স্বামী একজন প্রবাসী। এই সুযোগে রুমানের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ান ওই নারী। বিদেশে থাকা অবস্থায় স্ত্রীর এই সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পেরে দেশে চলে আসেন স্বামী।

এসে স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। পরে স্বজনদের মধ্যস্থতায় মীমাংসা করে তাঁরা আবার সংসার শুরু করেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘কিছুদিন পর ওই নারী আবারও রুমানের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। এক পর্যায়ে রুমানের সঙ্গে পালিয়েও যান। পরে তাঁদের সন্ধান পেলে স্থানীয় লোকজন রুমানকে চাপ দেয় ওই নারীকে বিয়ে করার জন্য।

রুমান এতে অপারগতা প্রকাশ করলে ওই নারী ভুল স্বীকার করে স্বামীর সংসারে আবারও ফিরে যান। কিন্তু পালিয়ে গিয়ে ওই নারীকে নিয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকার কথা রুমান প্রকাশ করে দেন। এতে ওই নারী এবং তাঁর স্বামী ক্ষিপ্ত হয়ে রুমানকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন।’
তিনি বলেন, ‘পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওই নারী মোবাইল ফোনে কল করে ঘরে ডাকেন রুমানকে। তারপর রুমানকে পেছন থেকে লোহার রড দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন স্বামী-স্ত্রী। লাশ বস্তাবন্দি করে প্রতিবেশী আলাল মোল্লার সহযোগিতায় সিংহ নদীর পারে মাটিচাপা দেওয়া হয়। এ ঘটনার এক মাস পর সিংহ নদীর খননকাজ শুরু হলে কঙ্কালটি বের হয়। রুমানের স্ত্রী-সন্তান ও স্বজনরা প্রাথমিকভাবে এটি রুমানের মরদেহ দাবি করেন। পরে ডিএনএ পরীক্ষায় তা নিশ্চিত হয়।’

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

মন্তব্য