৫০০ টাকার জন্য বন্ধুর স্ত্রীকে গলাটিপে হত্যা

  • অনলাইন
  • বৃহস্পতিবার, ০৩ মার্চ ২০২২ ১১:০৩:০০
  • কপি লিঙ্ক

গাজীপুরের শ্রীপুরে মাত্র ৫০০ টাকার জন্য বন্ধুর স্ত্রীকে গলা টিপে হত্যা করেছে এক তরুণ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) সকালে গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অপস্) মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে এ ঘটনার দু’সপ্তাহের মধ্যে রহস্য উদঘাটন করেছে শ্রীপুর থানা পুলিশ।

নিহত সুফিয়া (১৮) শ্রীপুর উপজেলার দুর্লভপুর গ্রামের মৃত শফিকুল ইসলামের মেয়ে।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার হাসের আলগী গ্রামের আবুল কালামের ছেলে আরিফুল ইসলাম (১৯)।

জানা গেছে, পোশাক কারখানায় চাকরি করার সময় সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার রাজাপুর গ্রামের আবুল বাশারের ছেলে আশিকুর রহমানের সঙ্গে পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে সুফিয়ার। এর জের ধরে প্রায় দেড়মাস আগে প্রথম স্বামী মোকাররমকে ডিভোর্স দিয়ে আশিকুরকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন তিনি। প্রথম স্বামীকে ডিভোর্স দেওয়ায় পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হলে সুফিয়া তার দ্বিতীয় স্বামীকে নিয়ে শ্রীপুর পৌরসভার ভাংনাহাটি মধ্যপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করে।

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সকালে প্রতিদিনের মতো স্ত্রী সুফিয়াকে বাসায় রেখে কর্মস্থলে যান স্বামী আশিকুর। পরে রাত ১০টার দিকে তিনি বাসায় ফিরে ঘরের ভেতর নিস্তেজ অবস্থায় সুফিয়াকে পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় তাকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সুফিয়াকে মৃত ঘোষণা করে চিকিৎসক। পরে ৯৯৯ এর সংবাদের ভিত্তিতে শ্রীপুর থানা পুলিশ ওই হাসপাতাল থেকে সুফিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজ উদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড মনে হওয়ায় নিহতের ভাই সোহেল বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ এ ঘটনায় নিহতের বর্তমান স্বামী (দ্বিতীয়) আশিকুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে আধুনিক প্রযুক্তি ও কৌশল ব্যবহার করে ঘটনার ১২ দিন পর পৌরসভার গড়গড়িয়া মাস্টার-বাড়ি এলাকা থেকে আশিকুরের বন্ধু আরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে তদন্ত কর্মকর্তা শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) ইমরান শেখ।

গ্রেপ্তারকৃতের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কেওয়া পূর্বখন্ড এলাকার একটি জুয়েলারি দোকান থেকে নিহতের এক জোড়া স্বর্ণের দুল ও রূপার একজোড়া নূপুর জব্দ করে পুলিশ। পরে মঙ্গলবার (১ মার্চ) গ্রেপ্তারকৃত আরিফুল এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন জানান, আশিকুরের বেকার বন্ধু আরিফুল চাকরির সন্ধানে ঢাকা যেতে স্থানীয় কয়েকজনের কাছে যাতায়াত ভাড়া বাবদ ৫০০ টাকা ধার চেয়েও পায়নি। এ কারণে বন্ধু আশিকুরের বাসায় চুরির সিদ্ধান্ত নেয়।

তিনি আরও জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ওই বাসায় গিয়ে সুফিয়ার স্বর্ণালংকার রাখা পার্টস (হাত ব্যাগ) চুরি করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে আরিফুল। এ সময় সুফিয়া বাথরুম থেকে বের হয়ে আরিফুলকে পার্টস নিয়ে পালিয়ে যেতে দেখে বটি দা’ দিয়ে কোপ দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে আরিফুল নিজেকে সামলে নিয়ে সুফিয়াকে গলাটিপে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে নিহতের মরদেহ ফেলে স্বর্ণালংকার নিয়ে ঢাকায় পালিয়ে যায়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

মন্তব্য