যে নামাজের জন্য আল্লাহ নিজেই ডাকেন

  • অনলাইন
  • মঙ্গলবার, ২৬ জুলাই ২০২২ ১১:০৭:০০
  • কপি লিঙ্ক

ফরজ নামাজের পর যে নামাজের সবচেয়ে বেশি মর্যাদা তা হচ্ছে তাহাজ্জুদের নামাজ। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম নামাজ হচ্ছে রাতের নামাজ। ’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৬৪৫)

কোরআনে আল্লাহ  তাহাজ্জুদের কথা আলোচনা করেছেন এবং তা মুমিনের বৈশিষ্ট্য বলে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘এবং (রহমানের বান্দার বৈশিষ্ট্য) যারা রাত অতিবাহিত করে নিজ প্রতিপালকের সামনে (কখনো) সিজদারত অবস্থায় এবং (কখনো) দণ্ডায়মান অবস্থায়।

’ (সুরা : ফোরকান, আয়াত : ৫৩)
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ফরজ হওয়ার আগে তাহাজ্জুদ নামাজ ফরজ ছিল। রাতের গভীরে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভের এক অপার মাধ্যম তাহাজ্জুদ নামাজ। ভাগ্যবানরা এই নামাজ আদায় করার সৌভাগ্য অর্জন করে। এ কারণে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়তে পড়তে প্রিয় নবী (সা.)-এর পা মোবারক ফুলে যেত, তবু তিনি নামাজ ছাড়েননি। কারণ এ সময় আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ বর্ষিত হয়। আয়েশা (রা.) বলেন, আল্লাহর নবী (সা.) রাতে এত অধিক নামাজ আদায় করতেন যে তাঁর পদযুগল ফেটে যেত। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৮৩৭)

প্রিয় নবী (সা.) নিজেও গুরুত্ব সহকারে নামাজ আদায় করতেন এবং পরিবারদের জাগাতেন। ফরজ ছাড়া অন্য কোনো নামাজের জন্য নবীজি (সা.) এত উৎসাহ দেননি। আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সা.) এক রাতে তাঁর কন্যা ফাতিমা (রা.)-এর কাছে এসে বললেন, তোমরা কি নামাজ আদায় করছ না? ...(সহিহ বুখারি, হাদিস : ১১২৭)

আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমাদের জন্য কিয়ামুল লাইল (তাহাজ্জুদের নামাজ) আদায় করা আবশ্যক। কারণ এটা তোমাদের আগের নেক লোকদের অভ্যাস। (তা ছাড়াও এ) কিয়ামুল লাইল আল্লাহর নৈকট্য লাভ আর পাপের কাফফারা। তোমাদের পাপ থেকেও (এ কিয়ামুল লাইল) ফিরিয়ে রাখে। (আত-তারগিব, হাদিস : ৬২৪)

যে দম্পতি একে অন্যকে তাহাজ্জুদের জন্য জাগিয়ে তোলে, তাদের ওপর আল্লাহ তাআলার বিশেষ রহমত বর্ষিত হয়। আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ এমন ব্যক্তির প্রতি দয়া করুন যে রাতে সজাগ হয়ে নিজে নামাজ আদায় করে এবং তার স্ত্রীকেও সজাগ করে। স্ত্রী উঠতে না চাইলে সে তার মুখমণ্ডলে পানি ছিটায়। (আবু দাউদ, হাদিস : ১৩০৮)

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

মন্তব্য