ফরিদপুরের ভাঙ্গায় করোনায় সাবেক স্বাস্থ্য পরিদর্শক অফিসার (সেনেটারী ইনেসপ্যাক্টর), একজন মহিলা ইউপি মেম্বর, গ্লোব ফার্মার এসআর ও এক যুবকসহ নতুন করে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে মোট মৃত্যুর সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াল ৭ জন।। এদের মধ্যে একজন করোনা উপসর্গ হয়ে অন্য তিনজন করোনা সনাক্ত। এছাড়া ভাঙ্গায় নতুন করে আরও ১৯জন করোনা সনাক্ত করা হয়েছে। এই নিয়ে ভাঙ্গায় আক্রান্তের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াল ১৮৭ জন। ভাঙ্গায় এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ্য হয়েছেন ৬ জন।
করোনায় মৃত ব্যক্তিরা হলেন, ভাঙ্গা পৌরসভার ছিলাধরচর সদরদী গ্রামের আলমগীর হোসেন(উপসর্গে), নুরুল্লাগঞ্জের সন্তোষ সাহা নামে এক যুবক, হামিরদী ইউনিয়নের বড় হামিরদী গ্রামের বৃদ্ধ হাসমত আলী, মানিকদহ ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের ইউপি সদস্য মধ্যে বয়স্কা সুফিয়া বেগম। এই নিয়ে ভাঙ্গায় একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, বাজারের একজন ব্যবসায়ীসহ মোট মৃত্যুর সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াল ৭জন।
বাংলাদেশ জমিনকে এসব তথ্য আজ শুক্রবার সকালে নিশ্চিত করেছেন ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোহসিন উদ্দিন ফকির। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সূত্রে জানা যায়, ভাঙ্গায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে এদিন ৩২ টি(১০ জুন)। গতকালের করোনা ফলাফল ফরিদপুর জেলা মেডিকেল নমুনা পরীক্ষানাগার থেকে আজ ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাওয়ার পর বাংলাদেশ জমিনকে এসব তথ্য জানানো হয়।
সূত্র আরও জানায়, ভাঙ্গায় নতুন করে আক্রান্তদের মধ্যে ভাঙ্গা থানার ২ জন পুলিশ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে (আনসার ব্যটিলিয়নের দুই সদস্য তারা ছুটিতে আছেন) পৌরসভার কাপুড়িয়া সদরদী ২ জন, চৌকি আদালত পাড়ার পুকুর পাড়ে ১ জন, ছিলাধরচর সদরদী গ্রামে ২ জন, হামিরদী ইউনিয়নের খাপুরা গ্রামে ৩জন, নুরুল্লাগঞ্জ ইউনিয়নে ৩ জন, ঘারুয়া ইউনিয়নের গঙ্গাধরদী গ্রামে ২জন ও আল্গী ইউনিয়নের শাহমুলুকদী গ্রামে ১ জন।
প্রসঙ্গত, ভাঙ্গা থানা ও হাইওয়ে থানায় এই পর্যন্ত মোট ২৫ জন পুলিশ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। করোনার শুরু থেকে ভাঙ্গা পুলিশ প্রশাসন পরিবারের সদস্যরা লক ডাউন মেনে চলার জন্য, অসহায় দুস্থ্য মানুষের ঘরে, বাড়িতে গিয়ে খাবার পৌঁছে দেওয়াসহ বিভিন্ন ত্রাণ সাহায্যের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে আসছে বলে অভিমত ভাঙ্গার সাধারণ জনগণের।
অপরদিকে ভাঙ্গা উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসন থেকে করোনায় আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুতে লাশ দাফন-কাফন করতে, সরকারী ত্রাণ সাহায্যে সঠিকভাবে বণ্টনসহ করোনা সংক্রমণ রোধে সাধারণ জনগণের অবাধ চলাচলে সীমিত আকারে বাজার (সকাল ৬ টা থেকে দুপুর ১২টা ) খোলার নির্ধারিত সময় বেধে দিয়ে কাজ করছেন।
এপ্রসঙ্গে জানতে চাইলে, ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রকিবুর রহমান খান বাংলাদেশ জমিনকে জানান যে, সরকারী সকল নির্দেশনা মোতাবেক ভাঙ্গায় করোনা সংক্রমণ রোধে কাজ করছে ভাঙ্গা উপজেলা প্রশাসন। কিন্তু আমরা প্রায় লক্ষ্যে করেছি কিছু উৎসাহী জনগণ করোনার বিষয়ে বেশ উদাসীনতা দেখান। তারা হাঁটে মাঠে ঘাটে প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে নিজেদের খেয়ালীপানায় চলাচল করে আসছেন। আমরা জনগণকে ঘরে রাখার জন্য, সামাজিক সচেতনার জন্য এবং সামাজিক নিরাপদের জন্য কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় বাধ্য হয়ে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেছি। কিন্ত তাতেও হুঁশ ফিরে আসছে না স্থানীয় জনগণের।
করোনায় আক্রান্ত মৃত ব্যক্তিদের লাশ দাফন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ধর্মীয় নিয়ম অনুসারে সরকারী সিদ্ধান্ত অনুসারে সকলের লাশ দাফন করা হবে। এজন্য জেলার একটি বিশেষ টিম রয়েছে, মৃত পুরুষ ও মহিলাদের জন্য।
বাংলাদেশ জমিন/ সংবাদটি শেয়ার করুন






মন্তব্য