ফুটফুটে হাঁসিমাখা একটি শিশু। যার মিষ্টিমাখা নাম শান্ত ইসলাম আয়াত। মুসলিম সম্ভ্রান্ত একটি পরিবারে বাবা-মায়ের কোল জুড়ে হাঁসির ফুয়ারায় একদিন ফুটে উঠেছিল শান্ত। আজও তাকে ঘিরে আনন্দ বইছে পিতা এনায়েত মুন্সীর ঘরে। একটি শিশুর প্রথম জন্মদিন মানে পরিবারের সবার জন্য অনাবিল আনন্দ এবং পরিবার পরিজনের সবার জন্য মিলিত আনন্দের ফোয়ারা।
আগামীকাল ২০মে। শিশু শান্তর শুভ জন্মদিন। কিন্তু তাহলে কি হবে? আয়াতের প্রথম জন্মদিন পালন করা হচ্ছে না। তার পিতা-মাতার সিদ্ধান্ত দেশের বুকে প্রাণঘাতী করোনার প্রভাব চলছে। এজন্য নিজের সন্তানের জন্মদিন তারা পালন করবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এজন্য সন্তানের জন্মদিন পালনে যে পরিমাণ অর্থ তারা ব্যায় করতে সমর্থ রয়েছে সেই পরিমাণ অর্থ দিয়ে নিজেদের এলাকা ফরিদপুরের ভাঙ্গার নুরপুর গ্রামের অসহায় দুস্থ্য মানুষের মুখে হাঁসি ফুঁটাতে তারা পাশে থাকতে চান। কারন মানুষ মানুষের জন্য।
যেমনি তাদের কথা ঠিক তেমনি মানবিক চেতনা নিয়ে আজ মঙ্গলবার ২৪ রমজানের বিকেল থেকে গ্রামের অসহায় গরবীব দুঃখী মানুষের জন্য বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী ও পাঞ্জাবী নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে হাজির হন। প্রতিটি পরিবারের হাতে তুলে দেন তাদের দেওয়া উপহার।
এদিকে নিজের সন্তানের জন্মদিন পালন না করে প্রাণঘাতী করোনার প্রভাবকালীন সময় অসহায় মানুষের কথা ভেবে তাদের পাশে খাদ্য সামগ্রী নিয়ে হাজির হওয়ায় ভাঙ্গায় অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ব্যবসায়ী এনায়েত মুন্সী। তার কাছ থেকে খাদ্য সামগ্রী পেয়ে বেজায় খুশী হয়ে উঠেছেন গ্রামের বিভিন্ন পেশার মানুষ এবং তাদের পরিবারগুলো।
এই বিষয়ে শিশু আয়াতের পিতা এনায়েত মুন্সী বাংলাদেশ জমিন কে বলেন, দেশের মানুষের এই দুঃসময়ে আমার সন্তানের জন্মদিন পালন করা আমার কাছে বড় মনে হয় নি। কারণ করোনা ভাইরাস যেভাবে ছড়িয়ে পড়ছে এতে সমাজের খেটে খাওয়া মানুষেরা অনেকেই লক ডাউনের ফলে ঘরে থেকে বেড় হয়ে নিজের পেশায় কাজ করতে পারছেন না। সেই মানুষের কথা ভেবেই আমার পরিবার থেকে আমিসহ অন্য সবাই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।
তিনি আরও বলেন, যদিও আগামীকাল আমার সন্তান আয়াতের জন্মদিন, তথাপি আজ থেকেই গ্রামের বিভিন্ন পেশার মানুষের মাঝে ঈদ উপলক্ষ্যে প্রায় তিন শতাধীক মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী ও পাঞ্জাবী বিতরণ করা হয়েছে। আগামীকাল ২০ মে তার সন্তানের জন্মদিন উপলক্ষে পরিবার থেকে একইবাবে তাদের সাহায্যে অব্যাহত থাকবে বলে জানান।
উল্লেখ্য, করোনা প্রভাবের শুরু থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় নুরপুর গ্রামের তিন শতাধীক পরিবারের মাঝে ঘরে ঘরে নিয়মিত খাদ্য সামগ্রী সরবরাহ করে আসছেন মুন্সী পরিবার। সেই ধারাবাহিকতায় তাদের গ্রামের মানুষের মাঝে রমজান মাস উপলক্ষে ইফতার সামগ্রী বিতরণ থেকে শুরু করে সাপ্তাহিক বাজার হিসাবে চাল, ডাল, লবণ, তেল ও কাঁচা সবজি পর্যন্ত বিতরণ করে আসছেন এনায়েত মুন্সীর পরিবার।
বাংলাদেশ জমিন/ সংবাদটি শেয়ার করুন






মন্তব্য