আদালতের রায় পেলেও জমি দখল পাচ্ছে না সংখ্যালঘু পরিবার

  • সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধিঃ
  • মঙ্গলবার, ৩০ জুলাই ২০১৯ ১২:০০:০০
  • কপি লিঙ্ক

 

ফরিদপুরের সালথায় আদালতের রায় পেলেও জমি দখল পাচ্ছেনা সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবার। এ ব্যাপারে হিন্দু পরিবরের পক্ষে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন রমেন্দ্র নাথ দত্তের ছেলে সঞ্জিদ দত্ত।

অভিযোগে জানাগেছে, সালথা উপজেলার সলিয়া মৌজার এসএ ৩৬০, ৩২৯, ১৩৪, ১৬৫, ১৬৮, ১৬৯, ১৭০ দাগে মোট ৬১৪ শতাংশ জমির মধ্যে ১৮৭ শতাংশ জমির পৈত্রিক ও রের্কডিয় সূত্রে মালিক উপেন্দ্র নাথ দত্ত। তার মৃত্যুর পর জমির ওয়ারিশ সুত্রে মালিক হন তার পুত্রদ্বয় রমেন্দ্র নাথ দত্ত, ভুমেন্দ্র নাথ দত্ত, জ্ঞানেন্দ্র নাথ দত্ত ও সন্তোষ নাথ দত্ত।

এদের মধ্যে ভুমেন্দ্র নাথ দত্ত, জ্ঞানেন্দ্র নাথ দত্ত ও সন্তোষ নাথ দত্ত ভারতের নাগরিকত্ব নিয়ে দেশ ত্যাগ করলে অপর ভাই রমেন্দ্র নাথ দত্ত জমির মালিক হয়। যাহা বিএস রের্কডিয় তার নাম অন্তভূক্ত হয়। রমেন্দ্র নাথ দত্ত এলাকার নুরুদ্দিন মশালচী, মমিন মোল্যা, মান্নান শিকদার, আলেম মুন্সী গংদের জমি বর্গা চাষ করতে দেয়।

পরবর্তীতে সেই জমি আর ফেরৎ দেয়নি। পরে জানতে পারে উক্ত জমি অর্পিত সম্পত্তিতে রূপান্তরিত হয়েছে। এ বিষয়ে রমেন্দ্র নাথ দত্ত বাদী হয়ে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যাবর্তন অতিরিক্ত ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলা দায়ের করে।

মামলা নং ৯৭৭/২০১২। বিজ্ঞ আদালত ২০১৩ সালের ৭ অক্টোবর রমেন্দ্র নাথ দত্তের পক্ষে রায় প্রদান করেন। পরবর্তীতে সরকার পক্ষ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপীল করেন। বিজ্ঞ আদালত আপীলের শুনানী শেষে ২০১৭ সালের ৪ মে রমেন্দ্র নাথ দত্তের পক্ষে রায় ঘোষনা করেন।

রমেন দত্তের মৃত্যুর পর মামলা পরিচালনা করেন তার পুত্র সঞ্জিদ দত্ত। তিনি বলেন, জমি বর্গা চাষ করার জন্য আমার বাবা উনাদের দিয়েছিলেন, পরবর্তীতে জমি আর ফেরৎ দেয়নি। জমি ফেরৎ চাইতে গেলে আমাদের হুমকি দেয়।
এলাকার ৯০ বছর বয়সী ফাগু মাতুব্বর বলেন, উক্ত জমি রমেন্দ্র দত্তের। আমার জানামতে রমেন্দ্র দত্ত ওদের জমি বর্গা দিয়েছিল।

স্থানীয় বাসিন্দা ওহিদ মোল্যা বলেন, রমেন দত্তের অনেক জমিজমা ছিল। ওনাদের দান কৃত জমির উপর স্থানীয় সাড়–কদিয়া বাজার, সাড়–কদিয়য়া উচ্চ বিদ্যালয়ম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারি হাসপাতাল, পশু হাসপাতাল, ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মিত হয়েছে। এখন নিজেরাই সম্পদ শুন্য হয়ে পড়েছে।

এলাকার আরেক বাসিন্দা দেলোয়ার মোল্যা বলেন, ঐ সময়য় আমিও ৭০ শতাংম জমি বর্গা নিয়েছিলাম, বছর তিনেক আগে উনাদের ফেরৎ দিয়েছি।

অভিযুক্ত নুরুউদ্দিন মশালচী বলেন, এটা ভিপি সম্পত্তি। আমরা সরকারের নিকট থেকে ডিসিআর এনে ভোগ দখল করছি। সরকার উচ্ছেদ করলে চলে যাবো।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিলা কবির ত্রপা বলেন, শুনেছি রমেন্দ্র নাথ দত্তের পক্ষে আদালতের রায় হয়েছে। দখলের জন্য ওরা জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন করবে। জেলা প্রশাসক মহোদয়ের যে নির্দেশ দেয় সেই মোতাবেক আমি কাজ করব।

মন্তব্য