বাংলাদেশের প্রতিটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন সুবিধা থাকলেও প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দেশের অন্যতম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় জবিতে নেই এই সুবিধা। যার কারনে ম্যাস বা বাসা ভাড়া দিয়ে অবস্থান করা জবি শিক্ষার্থীদের নিকট চিন্তার কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে পুরান ঢাকার অতিরিক্ত বাড়িভাড়া। একমাত্র ছাত্রী হল নির্মানেও প্রশাসনের কার্যক্রমে ধীরগতি চোখে পড়ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর প্রয়োজনীয় নতুন সেমিস্টার ফী এবং সেমিস্টার পরীক্ষার ফীও মাথা ব্যাথার কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে শিক্ষার্থীদের জন্য। এসব বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে প্রশাসনের নিকট পাঁচটি দাবি তুলে ধরেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ। আজ ৬ ই মে, বুধবার এক বিবৃতির মাধ্যমে দাবিগুলো জানায় সংগঠনটি। বিবৃতিটি হুবুহু তুলে ধরা হলো।
প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের আক্রমনে বিপর্যস্ত হয়ে আছে সমগ্র বাংলাদেশ। দেশের অধিকাংশ মানুষ জীবনধারণের ব্যয়নির্বাহ, খাদ্য ও স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা নিয়ে উৎকন্ঠা ও চূড়ান্ত অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কার মধ্য দিয়ে দিনযাপন করছে। ঠিক সেই সময়ে বাংলাদেশের একমাত্র অনাবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বাড়িভাড়ার টাকা জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান। তারা বাড়িভাড়ার টাকাসহ শিক্ষাব্যয় নির্বাহ করতে টিউশনিসহ বিভিন্ন পার্ট-টাইম জবের উপর নির্ভরশীল।
করোনার প্রকোপ সে সকল আয়ের উৎস বন্ধ থাকলেও বাড়ি ভাড়া ঠিকই দিয়ে যেতে হচ্ছে। তাই শিক্ষার্থীদের বাড়িভাড়া অনূন্য ৫০ শতাংশ মওকুফের জন্য প্রশাসনিক উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি একমাত্র বাড়িভাড়ার উপর নির্ভরশীল মেস মালিকরাও ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সেজন্য সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে ইউটিলিটি বিল মওকুফ করতে হবে।
করোনা পরবর্তী সময়েও অর্থনৈতিক সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। যেহেতু, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আবাসনের সুযোগ তৈরি করে দিতে পারে নাই তাই করোনা পরবর্তী সময়ে সংকট কাটিয়ে উঠতে ঢাকায় অস্থায়ী সকল শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও আবাসনব্যয় নির্বাহের জন্য মাসিক ভিত্তিতে সম্পূরক আর্থিক সহায়তা প্রদান করতে হবে।
করোনা সংকট শেষ হওয়া মাত্রই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ বিভাগে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা ও নতুন সেমিস্টারে ভর্তির সময় চলে আসবে। প্রতিটি সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষায় এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রায় ১২০০-১৪০০ টাকা ও নতুন সেমিস্টারে ভর্তিতে ১৭০০-২০০০ টাকা প্রয়োজন যা পরিস্থিতি সাপেক্ষে শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যয়সাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই সকল সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা ও নতুন সেমিস্টারে ভর্তির ফি মওকুফ করতে হবে। একইসাথে করোনা ভাইরাস পরবর্তী সময়ে ক্যাম্পাস খোলার দুই সপ্তাহের মধ্যে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব ছাত্রী হল খুলে দিতে হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের শুরু করা উচিত।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আমারা ছাত্র ইউনিয়ন উত্থাপিত পাঁচদফা দাবি মেনে করোনা ভাইরাসের মহাসংকটে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার আহ্বান জানাই।
দাবিগুলো-
১. শিক্ষার্থীদের বাড়িভাড়া অনূন্য ৫০ শতাংশ মওকুফের জন্য প্রশাসনিক উদ্যোগ নিতে হবে।
২. একমাত্র বাড়িভাড়ার উপর নির্ভরশীল মেস মালিকরাও ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সেজন্য সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে ইউটিলিটি বিল মওকুফ করতে হবে।
৩. করোনা পরবর্তী সময়ে সংকট কাটিয়ে উঠতে ঢাকায় অস্থায়ী সকল শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও আবাসনব্যয় নির্বাহের জন্য মাসিক ভিত্তিতে সম্পূরক আর্থিক সহায়তা প্রদান করতে হবে।
৪.আসন্ন সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা ও নতুন সেমিস্টারে ভর্তির ফি মওকুফ করতে হবে।
৫. করোনা ভাইরাস পরবর্তী সময়ে ক্যাম্পাস খোলার দুই সপ্তাহের মধ্যে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব ছাত্রী হল খুলে দিতে হবে।
বাংলাদেশ জমিন/ সংবাদটি শেয়ার করুন