নিজ সংসদীয় এলাকার সরকারি হাসপাতালগুলোর বিষয়ে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা বলেছেন, মেডিকেল এবং সদর (হাসপাতাল) নিয়ে কিছু লিখিত অভিযোগ আছে। এগুলো আমি সদরে জানিয়েছি এবং সময় দিয়েছি, এগুলো পাল্টাতে হবে। ওনারা (কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল) প্রথমে ভুল স্বীকার করেছে, এমনকি মাফও চেয়েছে। আসলে এটা আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল এবং ওপরওয়ালার দোষ রয়েছে। বলেছি, ওপরওয়ালা কুষ্টিয়ায় কেউ নেই, ওপরওয়ালা এখন আমি। সুতরাং যা হবে, কিছু হলে আমারে জানাবেন।
গত বৃহস্পতিবার কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে এসব কথা বলেন তিনি। আমির হামজার এই বক্তব্য সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের ফেসবুক পেজে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে আলোচনা-সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
এদিন এক সাংবাদিক আমির হামজাকে প্রশ্ন করেন, মেডিকেলে এলে ডাক্তারদের ঠিকমতো পাওয়া যায় না। কিন্তু প্রাইভেট ক্লিনিকে ওনারা যখন দেখেন, তখন রাত ১১টা পর্যন্ত দেখেন। এ ব্যাপারটা আপনি কীভাবে দেখেন? জবাবে জামায়াতে ইসলামীর এই সংসদ সদস্য বলেন, দালালদের এবং বিভিন্ন স্পিড মানির কথা বলা হয় এবং আরও কিছু হাত আছে। এই হাতগুলোর কথা গোপনে কেউ কেউ জানিয়েছে। আমি সরাসরি জানিয়েছি, দুইনম্বরি কেউ যদি করতে চায়, সরাসরি বলবেন যে মাওলানার কাছে টাকা দেওয়া আছে বা এ বিষয়ে বলা আছে, আপনারা ওনার কাছে যান। এত ক্ষমতা নিয়ে কে চলে কুষ্টিয়ায়, আমি দেখব।
তিনি আরও বলেন, আমাদের আবেগের জায়গা কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতাল। এটি আমরা ফের চালু করতে চাই। কয়েকটি বিভাগ চালু আছে, পূর্ণাঙ্গভাবে যেন চালু হয়, সে বিষয়ে মিটিং ছিল। আমরা দীর্ঘ দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা কথা বলেছি। কয়েকটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে নিয়েছি। আপনারা দোয়া করবেন, আগামী কিছুদিনের মধ্যে অন্তত একটি সুখবর শুনতে পারবেন, যা শুনলে আপনারা আনন্দ পাবেন।
এদিকে বৃহস্পতিবারের বক্তব্য নিয়ে সমালোচনার মুখে শুক্রবার ভোরে আমির হামজা তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিডিয়া টুইস্টেড করে যেসব নিউজ করে, আমাকে নিয়ে যারা কটু কথা বলেন সেটার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। আমি এগুলো নিয়ে বিন্দুমাত্র বিচলিত নই।