ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. কামরুল আহসান তালুকদার বলেছেন, সারা বাংলাদেশের মধ্যে ফরিদপুরের সালথা উপজেলা পাট সমৃদ্ধ হওয়ায় এই উপজেলায় পাট শিল্প গড়ে তোলা হবে। স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে পাট শিল্পের বিকল্প নেই।
কাঁচা পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে প্রণোদনাসহ পাটকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
পাট চাষ ও পাটশিল্পের সঙ্গে আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি জড়িত। পাটশিল্প হলো এখনো বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান ভারী শিল্প, যা ব্রিটিশ শাসন আমলে এবং পাকিস্তানি আমলের একক বৃহত্তম শিল্প। বর্তমান বিশ্বের পাট ও পাটজাত দ্রব্যের বৈদেশিক রপ্তানি আয়ের বৃহদংশই বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সোমবার দুপুরে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়ন পরিষদে সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে কোন সেবা প্রদানে গাফলতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী আমাদের ২৫ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে তৎপর হওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা সেই সেবা পৌঁছে দিতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এতে যদি কারো গাফলতি থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ সময় জেলা প্রশাসক সার্বিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে নিতে সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
মতবিনিময় সভার আগে জেলা প্রশাসক সালথা উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে উপজেলা পরিষদের চত্বরে দেশীয় প্রজাতির মাছ এবং শামুক সংরক্ষণ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সালথার দরিদ্র জেলে মৎস্যজীবীদের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ছাগল ও বৈধ জাল বিতরণ করেন।
এ সময় ৫জনের ৮টি গ্রুপের ৪০ জন জেলেকে ৮টি বৈধ জাল ও ২০ জন জেলেকে ২টি করে মোট ৪০ টি ছাগল, খোয়াড়, খাবার, ওষুধ ও ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়।
সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আক্তার হোসেন শাহিনের সভাপতিত্বে ও সালথা উপজেলা মৎস্য অফিসার রাজীব রায়ের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ফরিদপুর জেলা মৎস্য অফিসার প্রশান্ত কুমার সরকার, সালথা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ওয়াদুদ মাতুব্বর।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার ভূমি মো. সালাহউদ্দিন আইয়ূবী, সালথা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জীবাংশু দাস, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা পরিতোষ বাড়ৈ, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা কৃষ্ণ চক্রবর্তী, রামকান্তপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইসারত হোসেন প্রমুখ। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এর পরে জেলা প্রশাসক সালথা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় দর্শন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর কার্যালয় দর্শন, মাঝারদিয়া ইউনিয়নের খলিশাপট্টি মৌজায় অভয়াশ্রম নির্মাণের জন্য পুন:খনন ও সংস্কার, মাঝারদিয়া বাতাগ্রাম আশ্রয়ন প্রকল্প পরিদর্শন ও বৃক্ষরোপণ করেন।