মাস্ক পরায় অনীহা: সচেতনতা বাড়াতে মাঠে ভ্রাম্যমাণ আদালত


কারো পকেটে, কারো হাতে, কারো বা ব্যাগে মাস্ক রাখা। থুতনিতেও লাগানো আছে অনেকের। দূর থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত দেখামাত্র তাঁরা ঝটপট মুখে মাস্ক পরতে শুরু করেন। এর পরও অনেকে হাতেনাতে ধরা পড়ে যান। এ জন্য গুনতে হয় তাঁদের জরিমানা।

অন্যদিকে গরিব, অসহায় ও রিকশাচালকদের মধ্যে বিনা মূল্যে মাস্কও বিতরণ করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। উদ্দেশ্য, মাস্ক পরার ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশনার বাস্তবায়নসহ দ্বিতীয় দফায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে মাস্ক পরার ব্যাপারে জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো।

গতকাল বুধবার ঢাকা জেলা প্রশাসনের ১৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৮৩ জনকে মোট ২৪ হাজার ১৮০ টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় বিনা মূল্যে এক হাজার ৪০০টি মাস্ক বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া নাটোর, বগুড়া ও চট্টগ্রামে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে।

রাজধানীর ধানমণ্ডি এলাকায় অভিযান চলাকালে বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের একজন চিকিৎসককেও জরিমানা করা হয়। তিনি স্বীকার করেন, তাঁর ভুল হয়েছে। এ ছাড়া অর্থদণ্ড দেওয়া বাকিরাও নিজেদের অপরাধ মেনে নেন। আর কখনো মাস্ক ছাড়া বের হবেন না বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তাঁরা।

ধানমণ্ডি এলাকার বিভিন্ন সড়কে অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনীষা রানী কর্মকার কালের কণ্ঠকে বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে সচেতন করা। কিন্তু যখন রাস্তায় সচেতন মানুষদের মাস্কবিহীন অবস্থায় পেয়েছি শুধু তাঁদের অর্থদণ্ড প্রদান করেছি। গরিব, অসহায় মানুষদের মাঝে মাস্ক বিতরণ করেছি। জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মোবাইল কোর্টের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

সচিবালয়, মতিঝিল শাপলা চত্বর, হাতিরঝিল, উত্তরার আজমপুর, খিলক্ষেত, মাসকট প্লাজা, সংসদ ভবন এলাকা, কেরানীগঞ্জ উপজেলায় এবং মহানগরের জজকোর্ট এলাকা, সিএমএম আদালত এলাকা, বাহাদুর শাহ পার্কসহ বিভিন্ন জায়গায় ঢাকা জেলা প্রশাসনের ১৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মাস্ক ব্যবহারে উৎসাহিত করার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও মাইকিং করা হয়।

নাটোরে মুখে মাস্ক ব্যবহার না করায় ৪০ জনকে আটক করে পুলিশ। ঘণ্টাখানেক পরে তাঁদের মুখে মাস্ক পরিয়ে ভবিষ্যতে মাস্ক ছাড়া চলবেন না প্রতিশ্রুতি আদায় করে ছেড়ে দেন পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা।

বগুড়ায় মাস্ক না পরার দায়ে তিনজনকে কারাদণ্ড ও ৪৭ জনকে অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শহরের সাতমাথা ও মাটিডালীতে পৃথকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পাপিয়া সুলতানা ও নাছিম রেজা। গত মঙ্গলবার একই অপরাধে সাতজনকে জেল ও জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

চট্টগ্রাম মহানগরীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে ৮০ জনকে জরিমানা করা হয়েছে। নগরীর কোতোয়ালি, নিউ মার্কেট, জামালখান, জিইসির মোড়, দামপাড়াসহ আশপাশের এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. উমর ফারুক, রেজওয়ানা আফরিন এবং নূরজাহান আক্তার সাথী। এ সময় ১১ হাজার ৩০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। আর কুড়িগ্রামে আজ বৃহস্পতিবার থেকে মাঠে নামছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল জেলা প্রশাসক মো. রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। (প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন প্রতিনিধি, নাটোর ও কুড়িগ্রাম এবং নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া ও চট্টগ্রাম)


Copyright (c) 2019-2026 bzamin24.com