চলতি বছরের এপ্রিলে দেশে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ঢাকা বিভাগের প্রবাসীরা। আর সবচেয়ে কম রেমিট্যান্স এসেছে রংপুর বিভাগে। রোববার (৭ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যে এ কথা জানা গেছে।
এতে বলা হয়, এপ্রিলে প্রবাসীরা দেশে ১৬৮ কোটি ৩৪ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকায় রেমিট্যান্স এসেছে ৮০ কোটি ৪ লাখ ডলার। আর মার্চ মাসে ঢাকা বিভাগে রেমিট্যান্স এসেছিল ৯৬ কোটি ২৭ লাখ ডলার।এ ছাড়া এপ্রিলে চট্টগ্রাম বিভাগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে। চট্টগ্রামে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ৪৬ কেটি ১৪ লাখ ডলার। আর প্রবাসীরা সিলেট বিভাগে ২০ কোটি ১৭ লাখ ডলার, খুলনা বিভাগে ৬ কোটি ৭৩ লাখ ডলার, রাজশাহী বিভাগে ৫ কোটি ৩৫ লাখ ডলার, বরিশাল বিভাগে ৪ কোটি ১৪ লাখ ডলার, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩ কোটি ৭ লাখ ডলার ও রংপুর বিভাগে ২ কোটি ৭১ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন।এর আগে মঙ্গলবার (২ মে) বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, এপ্রিলে প্রবাসীরা দেশে ১৬৮ কোটি ৩৪ লাখ ৭০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি এক ডলার ১০৭ টাকা ধরে) যার পরিমাণ ১৮ হাজার ১৩ কোটি টাকার বেশি।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, এপ্রিল মাসে রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ২৪ কোটি ৪৫ লাখ ডলার। আর বিশেষায়িত ব্যাংকের মাধ্যমে ৪ কোটি ৯৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার, বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে ১৩৮ কোটি ৩৫ লাখ ডলার ও বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫৫ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স।এদিকে ২৯ থেকে ৩০ এপ্রিল প্রবাসীরা দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ১২ কোটি ৮১ লাখ ৬০ হাজার ডলার। আর এপ্রিলের ২২ থেকে ২৮ তারিখ পর্যন্ত দেশে এসেছে ২৮ কোটি ৩৫ লাখ ৭০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।এ ছাড়া ১৫ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩১ কোটি ৩০ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। আর এপ্রিলের ১৪ দিনে দেশে এসেছিল ৯৫ কোটি ৮৬ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। যার মধ্যে ৮ থেকে ১৪ এপ্রিল দেশে এসেছে ৪৮ কোটি ১৮ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। আর এপ্রিলের প্রথম ৭ দিনে রেমিট্যান্স এসেছিল ৪৭ কোটি ৬৮ লাখ মার্কিন ডলার।এদিকে চলতি অর্থবছরের মার্চ মাসে ২০১ কোটি ৭৭ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছিল। যা বিগত সাত মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এছাড়া ফেব্রুয়ারিতে এসেছিল ১৫৬ কোটি ১২ লাখ মার্কিন ডলার। আর চলতি বছরের জানুয়ারিতে এসেছিল প্রায় ১৯৫ কোটি ৮৯ লাখ ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত বছরের জুলাইয়ে দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ২০৯ কোটি ৬৩ লাখ ডলার। এর পরের মাসে কিছুটা কমে আসে ২০৩ কোটি ৬৯ লাখ ডলার। এর পরের মাস সেপ্টেম্বরে এসে মাসের ব্যবধানে ৫০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স কম আসে। ওই মাসে মোট প্রবাসী আয়ের হিসাব দাঁড়ায় ১৫৩ কোটি ৯৬ লাখ ডলার। অক্টোবরে আরেক দফা কমে রেমিট্যান্স আসে ১৫২ কোটি ৫৫ লাখ ডলার।পরে নভেম্বরে এসে আবার ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করে বৈধ চ্যানেলে পাঠানো প্রবাসীদের আয়ের অঙ্ক। এ মাসে মোট রেমিট্যান্স আসে ১৫৯ কোটি ৫২ লাখ ডলার। আর বিদায়ী বছরের শেষ মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৬৯ কোটি ৯৬ লাখ ডলার। নতুন বছরের প্রথম মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে উত্থান দেখা দেয়, জানুয়ারিতে আসে ১৯৫ কোটি ৮৯ লাখ ডলার। কিন্তু পরের মাসেই আবার কমে যায় রেমিট্যান্স।রেমিট্যান্স বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, রমজান ও ঈদুল ফিতরের মতো ধর্মীয় উৎসব থাকায় প্রবাসী আয়ের পালে সুবাতাসই বইছে। কাজেই সামনে রেমিট্যান্স আরও বাড়বে বলে মনে করেন তারা।