মা-মেয়ে হত্যা, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য


রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডে মা ও মেয়েকে হত্যার পর গ্রেপ্তারকৃত আসামি গৃহকর্মী আয়েশা ও তার স্বামী রাব্বি রিমান্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন মা-মেয়েকে হত্যায় ব্যবহৃত সুইচ গিয়ারটিও ছিল চুরি করা। এই ঘটনার আগে ঘাতক গৃহকর্মী আয়েশা একইভাবে অন্য একটি বাসা থেকে চাকুটি চুরি করেছিল বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেনের আদালত তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

গত ৮ ডিসেম্বর মোহাম্মদপুরে মা মেয়েকে হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা করেন মেয়ের বাবা আ জ ম আজিজুল ইসলাম।

ঘটনার দুই দিন পর আয়েশার স্বামী জামাল শিকদার ওরফে রাব্বি শিকদারের দাদাবাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতে তোলা হলে আয়েশার ৬ দিন ও তার স্বামী রাব্বির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

রিমান্ড শেষে চাঞ্চল্যকর এই হত্যার ব্যাপারে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আয়েশা।

অপরদিকে আদালতে রাব্বি দাবি করেছে, সে জানত তার স্ত্রী আয়েশা সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন কর্মচারী। কিন্তু মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যার পর রাব্বি প্রথমবার জানতে পারে, তার স্ত্রী গৃহকর্মীর কাজ করে।

আদালতে রাব্বি আরও বলেছে, রাব্বি পেশায় একজন নিরাপত্তাকর্মী। সে হেমায়েতপুর এলাকায় রাত্রিকালীন নিরাপত্তার কাজ করত এবং দিনে ঘুমাত। পাশাপাশি, স্ত্রী বাইরে কাজ করায় দুই বছরের সন্তানকে দেখাশোনা করত। মোহাম্মদপুরের লায়লা আফরোজ ও তার মেয়ে নাফিসাকে হত্যার দিনে সে ফেসবুকের মাধ্যমে ঘটনাটি দেখেছে। কিন্তু এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর তার স্ত্রী জড়িত এটা জেনেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন রাব্বি। মা ও মেয়েকে ছুরিকাঘাতে হত্যার সময়ে ধস্তাধস্তিতে স্ত্রী আয়েশার হাত কেটে যায়। কাটা হাত নিয়ে বাসায় যাওয়ার পর ঘটনার বিস্তারিত জেনে প্রথমে তার হাতের চিকিৎসা করান রাব্বি। পরবর্তী সময়ে স্ত্রীকে নিয়ে সদরঘাট চলে আসেন। এই এলাকায় এসে স্ত্রী আয়েশার চুরি করে আনা একটি ল্যাপটপ পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন। পরে সদরঘাট থেকে লঞ্চে করে বরিশাল যান। সেখান থেকে ঝালকাঠির নলছিটি এলাকায় দাদাবাড়িতে গিয়ে আত্মগোপন করেন।

গত ৮ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যবর্তী সময়ে মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের একটি বাসায় কুপিয়ে মা লায়লা আফরোজ (৪৮) ও নবম শ্রেণির ছাত্রী মেয়ে নাফিসা বিনতে আজিজকে (১৫) হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় লায়লার স্বামী আ জ ম আজিজুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।


Copyright (c) 2019-2026 bzamin24.com