ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় সদর ইউনিয়নে ৬০ বছরের এক বৃদ্ধের ধর্ষণে ১৫ বছরের এক কিশোরী ৫ মাসের অন্তঃসত্বা হয়ে পড়েছে। ওই কিশোরী পরিবার জানিয়েছে, মাতুব্বরদের কাছ থেকে বিচারের আশ্বাস পেয়ে থানায় এখনো অভিযোগ করেননি তারা।
কিশোরীর দাদা জানান, অভিযুক্ত প্রতিবেশী ঐ বৃদ্ধ একজন মুদি দোকানদার। সরলতার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন খাবারের লোভ দেখিয়ে তার নাতনীর সাথে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। নাতনীর শারীরীক পরিবর্তন ঘটলে বিষয়টি তাদের নজরে আসে। তখন সে ঐ বৃদ্ধের কথা বলে।
বর্তমানে মেয়েটি ঢাকায় তার অপর এক দাদার কাছে রয়েছে বলে জানান। তার ওই দাদা কুয়েত প্রবাসী, বর্তমানে তিনি ছুটিতে বাড়ি এসেছেন। ঢাকার কামরাঙ্গিরচর তার বাড়ি ওই কিশোরী সেখানে আছে ।
ঢাকায় ফোনে যোগাযোগ করা হলে মেয়েটির বিষয়ে জানতে চাইলে মেয়েটি তার হেফাজতে আছেবলে জানান। তিনি আরও জানান, ঢাকায় ডাক্তারী পরীক্ষার মাধ্যমে তারা নিশ্চিত হয়েছেন অন্তঃসত্বার বিষয়ে।
এঘটনায় আইনের আশ্রয় কেন নিচ্ছেন না জানতে চাইলে তিনি জানান,এলাকার মাতুব্বরেরা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। এ সময় মাতুব্বরদের নাম জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান। সমঝোতা না হলে তিনি আইনের আশ্রয় নিবেন বলে জানান।
এদিকে ঐ অভিযুক্ত বৃদ্ধের বাড়ি গিয়ে তাকেও পাওয়া যায়নি। ছুটিতে আসা অভিযুক্তের সৌদী প্রবাসী স্ত্রী তার স্বামীকে নির্দোষ দাবি করে জানান, গত মাসের ২৫ তারিখে তিনি বাড়ি এসেছেন। লোকমুখে তার স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা শুনে মেয়েটির পরিবারের কাছে গেলে তারা তার কাছে ২ লক্ষ টাকা দাবি করে সমাধানের জন্য।
তিনি টাকার প্রস্তাবে রাজি না হয়ে আদালতের আশ্রয় নিয়ে ডিএনএ পরীক্ষা করাবেন বলে জানান। এতে যদি তার স্বামী দোষী হয় আদালত যে সাজা দেয় তা মেনে নিবে। কিন্তু যদি তার স্বামী নির্দোষ হয় তাহলে সংশ্লিষ্ট সকলের শাস্তি দাবি করেন তিনি।
চরভদ্রাসন থানার পুলিশ পরিদর্শক নাজনীন খানম বলেন, স্থানীয় একজনের মাধ্যমে মুঠোফোনে দুজনের সম্পর্কের কথা জানতে পারি। পারিবারিক ভাবে বিষয়টি সমাধান করবে বলে জানায় মেয়েটির পরিবার। তবে অন্তঃসত্বার বিষয়টি আমাদের কাছে গোপন করা হয়েছিল। এ বিষয়ে খোঁজ নিতে লোক পাঠানো হবে।