আলফাডাঙ্গায় টক দইয়ের স্বাদে ‘নাসির বাজার’, সুনাম ছড়াচ্ছে দূর-দূরান্তে


ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের টিলা বাজার। একসময় সাধারণ একটি বাজার হিসেবেই পরিচিত ছিল জায়গাটি। তবে সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে এর পরিচিতি। সুস্বাদু ও মানসম্মত টক দইয়ের জন্য স্থানীয়দের কাছে জায়গাটি এখন অনেকটাই পরিচিত হয়ে উঠেছে নাসির বাজার নামে। আর এই পরিচিতির পেছনে রয়েছেন উদ্যোক্তা নাসির উদ্দিন শেখ নাছির।

প্রতিদিন প্রায় ৭০ কেজি দুধ দিয়ে টক দই তৈরি করেন নাসির। তার তৈরি টক দইয়ের স্বাদ নিতে শুধু আলফাডাঙ্গা নয়, পাশের বোয়ালমারী, কাশিয়ানী, লোহাগড়া, গোপালগঞ্জ, মুকসুদপুর, মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা থেকে ক্রেতারা ছুটে আসেন টগরবন্দ টিলা বাজারে।

নাসির উদ্দিন শেখ নাছির টগরবন্দ শেখবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম আব্দুল মান্নান শেখ। দাম্পত্য জীবনে তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ের বাবা।নাসিরের টক দই তৈরির গল্পটাও সংগ্রামের। জীবিকার তাগিদে তিনি মানিকগঞ্জে টক দই তৈরির কারিগর হিসেবে কাজ করেছেন। সেখান থেকেই দই তৈরির অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জন করেন। পরে নিজে গাভি পালন শুরু করেন। গাভির দুধ কাজে লাগিয়ে টগরবন্দ টিলা বাজারে প্রথমে একটি চায়ের দোকান দেন।

এরপর নিজের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে অল্প পরিমাণ দুধ দিয়ে টক দই তৈরি শুরু করেন। প্রথমদিকে প্রতিদিন মাত্র ৫-৬ কেজি দুধ দিয়ে দই তৈরি করতেন। ক্রেতাদের আগ্রহ ও চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে উৎপাদনও বাড়াতে থাকেন। বর্তমানে নিজের গাভির দুধ ও বাজার থেকে সংগ্রহ করা দুধ মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৭০ কেজি দুধ দিয়ে টক দই তৈরি করছেন তিনি।

তার দোকানে প্রতি প্লাস্টিকের গ্লাসে টক দইয়ের দাম ৩০ টাকা এবং প্রতি কেজি টক দই বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা দরে।একসময় মালয়েশিয়াতেও একটি দোকান দিয়ে ব্যবসা করেছিলেন নাসির উদ্দিন। সেখানে ব্যবসায় লোকসানের পর দেশে ফিরে নিজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নতুনভাবে পথচলা শুরু করেন। সেই পথচলারই সফল ফলাফল আজকের টক দইয়ের ব্যবসা।

নাসির উদ্দিন শেখ নাছির জানান, খুব অল্প পরিমাণ দুধ দিয়ে টক দই তৈরি শুরু করেছিলেন। শুরুতে প্রতিদিন ৫-৬ কেজি দুধের দই বানাতেন। মানুষ তার দই পছন্দ করতে শুরু করায় ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়িয়েছেন। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৭০ কেজি দুধ দিয়ে দই তৈরি করেন। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ তার দই খেতে ও কিনতে আসেনএটাই তার সবচেয়ে বড় আনন্দ ও অনুপ্রেরণা। ভবিষ্যতে আরও ভালো মানের দই তৈরি করে ব্যবসাটিকে আরও বড় করতে চান তিনি।

স্থানীয় ক্রেতা কুতুব শেখ ও আব্দুল মান্নান সিকদার জানান, নাসিরের টক দইয়ের স্বাদ ও মান সত্যিই ভালো। দইয়ের স্বাভাবিক টক স্বাদ, ঘনত্ব ও সতেজতা অন্যরকম। একবার খেলে আবারও কিনতে ইচ্ছা করে। দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ এখানে এসে দই নিয়ে যান।

মোহাম্মদপুর উপজেলা থেকে টক দই কিনতে আসা ক্রেতা বিশ্বজিৎ সিংহ রায় জানান, নাসিরের টক দইয়ের কথা অনেকের কাছেই শুনেছেন। তাই নিজেই খেতে এসেছেন। দইয়ের স্বাদ ভালো এবং মানও বেশ ভালো লেগেছে। সুযোগ পেলে আবারও এখানে আসবেন বলে জানান তিনি।

টগরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিয়া আসাদুজ্জামান জানান, নাসির উদ্দিন নিজের পরিশ্রম, দক্ষতা ও উদ্যোগের মাধ্যমে একটি ছোট ব্যবসাকে মানুষের কাছে পরিচিত করে তুলেছেন। তার টক দইয়ের সুনাম এখন আলফাডাঙ্গার গণ্ডি পেরিয়ে আশপাশের বিভিন্ন এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়ভাবে এমন উদ্যোক্তা আরও তৈরি হলে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে।

স্থানীয়দের মতে, স্বাদ ও মান ধরে রেখে নাসির তার ব্যবসা আরও এগিয়ে নিতে পারলে ভবিষ্যতে টগরবন্দ টিলা বাজারের টক দই আলফাডাঙ্গার একটি পরিচিত ব্র্যান্ডে পরিণত হতে পারে। মাত্র কয়েক কেজি দুধ দিয়ে শুরু করা নাসিরের সেই ছোট উদ্যোগ আজ প্রতিদিন ৭০ কেজি দুধের টক দই উৎপাদনে পৌঁছেছে। পরিশ্রম, দক্ষতা ও মানসম্মত পণ্যের কারণে তার পরিচিতিও ছড়িয়ে পড়ছে দূর-দূরান্তে।


Copyright (c) 2019-2026 bzamin24.com